Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ১৮, ২০২৫

আদালতের রায়ে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকরা স্কুলে ফিরলেও অনুপস্থিত শিক্ষাকর্মীরা, জেলায় জেলায় প্রাত্যহিক স্কুল পরিচলনায় বাড়ছে সংকট

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আদালতের রায়ে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকরা স্কুলে ফিরলেও অনুপস্থিত শিক্ষাকর্মীরা, জেলায় জেলায় প্রাত্যহিক স্কুল পরিচলনায় বাড়ছে সংকট

সুপ্রিম রায়ে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৭৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার পাশাপাশি চাকরি খুইয়েছেন ২৭৫ জন শিক্ষাকর্মী। যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন বলে ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু গ্রুপ সি বা গ্রুপ ডি-র শিক্ষাকর্মীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন না। এর ফলে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির রোজকার কাজকর্ম সাঙ্ঘাতিকভাবে ব্যাহত হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির প্রধানশিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

এখন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী থেকে শুরু করে ১৭টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পায়। সেইসব কাজকর্ম করা, অনলাইন সংযুক্তিকরণ, প্রকল্পের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জোগাড়, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার দায়িত্ব সামলান শিক্ষাকর্মীরাই। এছাড়াও স্কুলের শিক্ষাকর্মীরা যেসব কাজ করেন, তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, প্রত্যেক ক্লাসের হাজিরা খাতায় নাম তোলা, পড়ুয়াদের বেতন নেওয়া, সেসব তথ্য রেজিস্টার বুকে তোলা, টাকা ব্যাঙ্কে জমা করা, মিড-ডে মিলের তত্ত্বাবধান, নবম থেকে দ্বাদশের পড়ুয়াদের নাম রেজিস্ট্রেশন, স্কুলের অ্যাকাউন্ট ও ক্যাশবুক সামলানো, অডিটের কাজে সাহায্য, পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের সরঞ্জাম কেনা, বিদ্যুতের বিল দেওয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পেনশন, পরীক্ষা চালানো, প্রভিডেন্ড ফান্ডের নথি তৈরি প্রভৃতি।

কাটোয়ার সুদপুর হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক দেবাশিস দে বলছিলেন, ‘একজন অস্থায়ী কর্মীকে দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।’ কালনার শ্রী শ্রী নিগমানন্দ বিদ্যাপীঠের প্রধানশিক্ষক বাসুদেব সাহার কথায়, ‘খুবই সমস্যায় পড়েছি। দরকারি কাজ নিজেই করছি। বাকি কাজ বকেয়া থেকে যাচ্ছে।’ কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও হাত লাগাচ্ছেন। তবে গ্রীষ্মাবকাশের পর পুরোদমে পঠনপাঠন শুরু হলে শিক্ষাকর্মীদের অভাব মারাত্মকভাবে অনুভূত হবে বলে মনে করছেন প্রধানশিক্ষক-শিক্ষিকারা। আরও মনে করেন, শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে যেমন পড়াশোনার উপর কোপ পড়বে, তেমনি শিক্ষাকর্মীর অভাবে স্কুল চালানোই মুশকিল হয়ে যাবে। কারণ বিজ্ঞপ্তি জারি, পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ ও চাকরিতে যোগ, এইসব পর্ব পার করতে অনেকটাই সময় লাগবে। সেই সময়কালে স্কুলের কাজকর্ম কীভাবে স্বাভাবিক রাখা হবে, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্কুলগুলির।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!