Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৯, ২০২৩

জোড়াসাঁকোয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রবিবরণ, বিকেলে ধনধান্যে মুখ্যমন্ত্রী

অমিত শাহর বাংলায় আসাকে তৃণমূল নেতৃত্ব সমালোচনা করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, "পঞ্চায়েত ভোটের জন্য রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করলে হবে না, রবীন্দ্র আদর্শকে জীবনে ব্যবহার করতে হবে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জোড়াসাঁকোয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রবিবরণ, বিকেলে ধনধান্যে মুখ্যমন্ত্রী

রবিবরণে অমিত? না এই অমিত “শেষের কবিতা”-র অমিত (পড়ুন অমিতো ) রায় নন, ইনি হলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এই আবহেই আজ বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্বের ১৬২ তম জন্মদিন উদযাপিত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের তরফে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপনের ব্যবস্থা করেছেন রবীন্দ্র সদনে এবং ধনধান্য স্টেডিয়ামে। বিকেল চারটেতে এই শ্রদ্ধানুষ্ঠান শুরু হবে। বিকেলে আবার অমিত শাহের উপস্থিতিতে “খোলা হাওয়া”-র উদ্যোগে সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে “আমাদের রবীন্দ্রনাথ” অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে। এই অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করবেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কবির সেন বরাট, তনুশ্রী শঙ্কর। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “রবীন্দ্র সদনে প্রতিবারের মতো এবারও রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠিত হবে। রবীন্দ্র সদনে ছোট শিল্পীরা অনুষ্ঠান করবেন। ধনধান্য স্টেডিয়ামে সংগীত পরিবেশন করবেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল সেন, ইন্দ্রানী সেন, লোপামুদ্রা মিত্র। থাকবেন কবি জয় গোস্বামী, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবোধ সরকার।” মুখ্যমন্ত্রী ধনধান্যর রবীন্দ্র জয়ন্তীতে রাজ্যের সমস্ত রবীন্দ্র অনুরাগীদের আহ্বান জানিয়েছেন।

সকাল থেকে জোড়াসাঁকোতে কথায় গানে রবীন্দ্র স্মরণ শুরু হয়েছে।  ঠাকুরবাড়িতে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন অমিত শাহ। তবে অমিত শাহ আসার আগেই সকাল থেকেই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শশী পাঁজা সহ রাজ্যের হেভিওয়েট নেতামন্ত্রীরা।

বাংলায় রবীন্দ্রনাথের জন্মদি উদযাপন নতুন কিছু নয়। বাঙালির উৎসবের তালিকায় ২৫ বৈশাখ একটি উল্লেখযোগ্য দিন, তারিখ। বাংলার প্রতিটি প্রান্তে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন হয়ে আসছে যুগযুগ ধরে। তবে এবার সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং তার পর ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে রবীন্দ্রনাথ রাজনীতির উপাদান হয়ে উঠেছে বলে তৃণমূল-বিজেপির পারস্পরিক অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমিত শাহের রবীন্দ্র জয়ন্তীতে আসার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেছেন, “মণিপুর ছেড়ে বাংলায় কেন?” কুণাল ঘোষ বলেছেন, “অমিত শাহ রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর আগে অমর্ত্য সেনের কাছে ক্ষমা চান।” তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “রবীন্দ্রনাথকে কোনও দেশ-কাল-জাতি-ভাষার সীমার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। রবীন্দ্রনাথ সবার।” তবে জোড়াসাঁকোতে দাঁড়িয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “মণিপুরে মানুষ মানুষকে মার্চে। সেখানে না গিয়ে অমিত শাহ এখানে আসছেন কেন? ভোটের জন্য রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করলে হবে না। রবীন্দ্রনাথের ভাবনাকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।”

এদিন অমিত শাহ ঠিক বেলা ১১ টা ৫ মিনিটে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন। ঠাকুরবাড়ির প্রবেশ পথে রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অমিত শাহ। ঘুরে দেখেন এখানকার মিউজিয়াম। অমিত শাহকে স্বাগত জানাতে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ত্ব। রবীন্দ্রনাথ যে ঘরে জন্মেছেন, ঘরে থাকতেন সেই ঘরে  প্রবেশ করে কবির বিভিন্ন ছবি, বিদেশ ভ্রমণের ছবি, কবির ব্যবহৃত জিনিসপত্র খুঁটিয়ে দেখেন অমিত শাহ। এর পর অমিত শাহ ঠাকুরবাড়ির সব ঘর ঘুরে দেখেন। ভিসিটার্স কপিতে অমিত শাহ তাঁর জোড়াসাঁকো দেখার অনুভূতি লিখে দেন। এই সময় অমিত শাহের পাশে ছিলেন শুভেন্দু-লকেট-নিশীথ প্রামাণিকের মতো বিজেপি নেতৃত্ত্বরা। স্বল্প সময় জোড়াসাঁকোতে থেকে অমিত শাহ পেট্রাপোলে সরকারি অনুষ্ঠানে চলে যান। সাংবাদিকদের সঙ্গে অমিত শাহ এদিন কোনও কথা বলেননি। মূলত অমিত শাহের এই কর্মসূচি সাংস্কৃতিক কাজের মধ্যেই তিনি রেখেছেন।

এদিকে অমিত শাহর বাংলায় আসাকে তৃণমূল নেতৃত্ব সমালোচনা করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “পঞ্চায়েত ভোটের জন্য রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করলে হবে না, রবীন্দ্র আদর্শকে জীবনে ব্যবহার করতে হবে। সব জাতি, সব সম্প্রদায়ের একসঙ্গে থাকার রবীন্দ্র আদর্শকে জীবনে প্রয়োগ করতে হবে।” ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্যের উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ফিরহাদ হাকিমকে বলছি ত্বহা সিদ্দিকী যখন সবার হাতে অস্ত্র তুলতে বলেন, বীরভূমে যখন ঘরের মধ্যে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয় তখন ফিরহাদের এই ভাবনা কোথায় থাকে? এদের এই বক্তব্য তো দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলায় রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানানোর কাজে বাধা দেওয়া। দুর্ভাগ্য এটাই যে ফিরহাদ হাকিমের কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথকে জানতে হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ কালজয়ী। তিনি কোনও সীমার মাঝে আবদ্ধ নয়।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!