- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
পাখির চোখ ২৬-এর নির্বাচন, ২০ ডিসেম্বর তাহেরপুরে সভা মোদির, বছর শেষের আগেই রাজ্য সফরে শাহ
বছরের শেষ লগ্নে বঙ্গ-রাজনীতিতে তৎপরতা আরো বাড়াতে চলেছে বিজেপি। আগামীকাল, শনিবার, নদিয়ার তাহেরপুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পরই রাজ্যে পা রাখতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ২ দিনের রাজ্য সফরে আসবেন তিনি। যদিও এ সফরে কোনও জনসভা নয়, বরং রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠকই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তার আগে বাংলাকে পাখির চোখ করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এক দিকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি, অন্য দিকে অমিত শাহের সাংগঠনিক পর্যালোচনা, সব মিলিয়ে বিজেপির ‘মিশন বাংলা’ যে নতুন গতি পাচ্ছে, তা স্পষ্ট। শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ, প্রধানমন্ত্রী মোদির রানাঘাট পৌঁছনোর কথা। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক পরিকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের মতে, এই সফরের মাধ্যমে উন্নয়নের বার্তাকে সামনে রেখে গ্রামীণ বাংলায় আরও গভীরভাবে পৌঁছতে চাইছে দল। তাহেরপুরে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক জনসভাও করবেন তিনি। ওই এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এমন এক সময়ে এই সভা হচ্ছে, যখন এসআইআর ঘিরে রাজ্য রাজনীতি তপ্ত। বহু মতুয়া ভোটারদের নাম বাদ পড়তে পারে, এ আশঙ্কা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এসআইআর প্রসঙ্গে কী বার্তা আসে, সে দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ। কলকাতায় ২ দিনের সফরে তিনি রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে বসবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি, সংগঠনের শক্তি ও দুর্বলতা এবং বুথ-স্তরের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রের দাবি, শাহ বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বুথ পরিচালনা, কর্মী সক্রিয়তা এবং গ্রামীণ এলাকায় সংগঠন মজবুত করার উপর। বিজেপি সূত্রে খবর, কোন কোন ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবে, সে প্রশ্নেও স্পষ্ট দিশা দিতে পারেন তিনি। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘ভোট জেতার লড়াই শুরু হয় বুথ থেকেই। অমিতজি সে জায়গাটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।’
‘এসআইআর’ ইস্যু যে বিধানসভা নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা পাবে, তা প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া তালিকা অনুযায়ী, মৃত্যু, স্থায়ী স্থানান্তর বা খুঁজে না পাওয়ার কারণে প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯টি নাম অস্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৭.৫৯ শতাংশ। তবে কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, এ তালিকা চূড়ান্ত নয়। দাবি ও আপত্তি জানানোর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য ভোটাররা আবেদন করলে তাঁদের নাম ফের তালিকাভুক্ত করা হবে। রাজ্যের বিজেপি নেতারা ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, সংশোধনের ফলে প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক নেতা এই নিয়ে সরব। তবে বিজেপির অন্দরেও মতুয়া ভোটারদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সে কারণে এসআইআর নিয়ে দলের অবস্থান কী হবে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে কী নির্দেশ আসবে—সেদিকেও নজর রয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। ওই বৈঠকে বাংলার জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলে শোনা যাচ্ছিল, শিগগিরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে ‘মিশন বাংলা’-র দায়িত্ব নেবেন। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ‘এসআইআর’-এর বিরুদ্ধে সরব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সফর ও একাধিক জনসভা করেছেন। অভিযোগ তুলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের আবহেই মোদি ও শাহের সফর রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে।
❤ Support Us






