Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • এপ্রিল ১৩, ২০২৬

‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব’— বীরভূমে দাঁড়িয়ে বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি অমিত শাহের। ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’ উচ্চারণ বিভ্রাটে নতুন বিতর্ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব’— বীরভূমে দাঁড়িয়ে বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি অমিত শাহের। ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’ উচ্চারণ বিভ্রাটে নতুন বিতর্ক

সোমবার, বীরভূমের বোলপুরে পল্লিমঙ্গল ক্লাবের মাঠে নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তৃণমূলকে একের পর এক তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন। জনসমর্থন টানার কৌশল, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে এদিনের সভা কার্যত তপ্ত হয়ে ওঠে বীরভূমের রাজনৈতিক আবহ।

সভামঞ্চ থেকে অমিত শাহ বলেন,  ‘আপনারা যদি ইভিএমে পদ্ম চিহ্ন খুঁজে নেন, আমরা তৃণমূলের গুন্ডাদের খুঁজে বের করব’। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এখানেই থামেননি তিনি, আরও কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ক্ষমতায় এলে কাটমানি ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্তদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে’। ময়ূরেশ্বরের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৩ এপ্রিল, ভোটের দিন তৃণমূল কর্মীদের ঘরে বসে থাকা উচিত, নইলে ৫ মে-র পর তাদের খুঁজে বের করে জেলে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে বোমার জবাব ব্যালটে দেওয়া উচিত।’

এদিনের বক্তৃতায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন শাহ। ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল, পুরনিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, মনরেগা ও আবাস যোজনার দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না সরকার। আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে। জল জীবন মিশনের অর্থ তৃণমূলের লোকেরা আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রের উদ্যোগেই শান্তিনিকেতন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েও রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়। বিশেষ করে শান্তিনিকেতন প্রসঙ্গ টেনে করা মন্তব্য ঘিরে বিরোধীরা পাল্টা আক্রমণ শানায়। বক্তৃতায় বিশ্বভারতী বা অর্থনীতিবিদ  অমর্ত্য সেন-কে নিয়ে কোনো মন্তব্য না থাকাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই সভার আরেক অংশে ঘটে যায় নতুন বিতর্ক। গায়িকা সাহানা বাজপেয়ীকে ধন্যবাদ জানিয়ে, রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রসঙ্গ তুলতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধে। ভুল উচ্চারণ করে ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’-এর বদলে ‘রবিশঙ্কর’ বলে ফেলেন অমিত শাহ। তাঁর এই ভুল উচ্চারণ নিয়েই মুহূর্তে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।

তৃণমূলের-এর পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে অজ্ঞতা নিয়েই বিজেপি নেতারা রাজ্যে এসে ভোটের রাজনীতি করছেন। এর আগেও রানি রাসমনির নাম ভুল উচ্চারণ করে ‘রানি রাসমতী’ বলার ঘটনা স্মরণ করিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক প্রবণতা। বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য এসব সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভোটের আগে বীরভূমের এই সভা এবং তার পরবর্তী বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!