- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ৭, ২০২৬
ভোটের মুখে কেন আচমকা ইস্তফা, প্রকাশ্য চিঠিতে জানালেন প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোস। ‘আসল কারণটা জানি’— দাবি মমতার
ভোটের আবহে চমকপ্রদ পরিবর্তন রয়েছে রাজভবনে। রাজ্যপালের পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিয়েছেন সি.ভি আনন্দ বোস। তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। ঠিক কী কারণে তিনি পদত্যাগ করলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এ পর্যন্ত মেলেনি। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তায় বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল।
নিজের বার্তায় আনন্দ বোস জানিয়েছেন, বাংলায় তাঁর দায়িত্ব পালনের অধ্যায় শেষের পথে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছ থেকে যে স্নেহ ও শুভেচ্ছা তিনি পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এবার নিজের রাজ্য কেরালাতে ফিরে গিয়ে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে কাজ করতে চান। তিনি লিখেছেন, জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে কেরলের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করবেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ -এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। কেরলের মানুষের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ বোস বলেন, যাঁরা তাঁকে বড়ো করে তুলেছে সেই রাজ্যের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিজের উত্তরসূরির প্রতিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন আর. এন. রবি। তিনি এর আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন। প্রশাসনিক জীবনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অতীতে তিনি সিবিআই ও আইবি-র মতো কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বও সামলেছেন। এদিকে প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকরকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
বাংলার ভোটের আগে এই পরিবর্তন ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে একজন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিককে বাংলার রাজ্যপাল করে পাঠানো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার, মেট্রো চ্যানেলের ধর্ণা মঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি পরে জানতে পেরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র কাছ থেকেই। আনন্দ বোসের পদত্যাগ নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন রাজ্যপালকে সরানো হয়েছে তা তিনি জানেন, তবে এই মুহূর্তে তা প্রকাশ করতে চান না। তাঁর কথায়, ‘আনন্দবাবুকে এখানে নিয়ে এসেছিলেন, আবার সরিয়েও দেওয়া হল। কারণটা আমি জানি। তবে এখন বলব না। তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল— এটুকু বলতে পারি।’
রাজভবন নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, অনেকেই চান রাজভবনকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পরিণত করতে। ভোটের এক মাস আগে রাজ্যপাল বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কথাও উল্লেখ করেন। মমতার দাবি, ধনখড়কেও বাংলায় তাঁর দায়িত্ব সম্পূর্ণ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তাঁকে দেশের উপরাষ্ট্রপতি করা হয়। সব মিলিয়ে ভোটের প্রাক্কালে রাজ্যপালের পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
❤ Support Us







