- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- আগস্ট ২৭, ২০২৫
রুষ্ট মোদি ফোন এড়াচ্ছেন ট্রাম্পের, জল্পনা শুরু বিদেশি দৈনিকে । শুল্কযুদ্ধের হুমকিতেই যুদ্ধ বন্ধ ভারত-পাকিস্তান সহ সাত দেশে, ফের দাবি ট্রাম্পের
সম্প্রতি একটি জার্মান দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ফোন এড়িয়ে গেছেন । হোয়াইট হাইস থেকে নয়াদিল্লিতে চারবার ফোন এলেও সাড়া দেয়নি প্রধানমন্ত্রীর দফতর । পত্রিকাটি সূত্র উদ্ধৃত করে বলেছে, এটি ছিল মোদির “রাগের গভীর বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু একইসঙ্গে সতর্কতার” প্রতিফলন।
ট্রাম্প প্রশাসনের বেলাগামা শুল্ক আরোপে উষ্মা বেড়েছে ভারতের । অন্যদিকে রাশিয়া তেল এবং অন্যান্য পণ্য আমদানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত, তাতে ক্ষোভ বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা ব্রাজিল ছাড়া অন্য কোনও দেশের জন্য সর্বোচ্চ । ওয়াশিংটনের চাপের কাছে ভারত যে মাথা নত করবে না, সে বিষয়ে বিভিন্ন দেশের দৈনিকে শুরু হয়েছে আলোচনা । সেখানকার বিভিন্ন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে মোদি নিজেকে অপমানিত মনে করেছেন।” মোদির ট্রাম্পের ফোন না ধরা প্রমাণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপে তিনি কতটা বিরক্ত।
গত মে মাস থেকে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, তাঁর মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থেমেছে । যদিও ভারত এবং পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই দাবি নস্বাৎ করেছে । যদিও মঙ্গলবার আবারও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে অনুঘটক ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ইসলামাবাদের সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য করার জন্য বাণিজ্য বন্ধ করার ও শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছিলেন । মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি বিশ্বজুড়ে সাতটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন, যার মধ্যে দুটি দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক প্রতিবেশীর মধ্যে একটা । আর প্রতিটা দেশকেই বাণিজ্য বন্ধ ও শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছিলেন ।
জার্মান দৈনিক দাবি করা হয়েছে ভারত চিন বিরোধিতাকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন প্রশাসন নিজেদের ক্ষমতা জাহিরের যে চেষ্টা করছিল, সেই কৌশল ব্যর্থ । বরং মার্কিন শুল্কের চাপে এখন ভারত চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় । নিউইয়র্কের “ইন্ডিয়া-চায়না ইনস্টিটিউট”-এর সহ-পরিচালক ফ্রেইজার বলেন, “ভারত কখনোই আমেরিকার সঙ্গে চিনের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেনি।” তার মতে, “ভারত ও চিনের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে — বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রভাব বিস্তার এবং শিল্পোন্নয়ন ঘটানো।”
তিনি আরও বলেন, “চিনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ভারতের শিল্প খাতে সহায়ক হতে পারে, আর ভারত চিনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে ।”
এই পরিস্থিতিতে মোদি আগস্টের শেষে চিনে সফরে যাচ্ছেন, সেখানে তিনি শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন । নরেন্দ্র মোদির এটিই প্রথম চিন সফর, এবং অনেকেই মনে করছেন এই সফরের উদ্দেশ্য বেইজিংয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে, চিন এবং আমেরিকা দুই শক্তিধরের মধ্যের অস্থিরতার ওপর নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে নজর রাখতে চাইছে নয়াদিল্লি ।
❤ Support Us






