- এই মুহূর্তে বৈষয়িক
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫
অনিল আম্বানি ও আর কমের ঋণ অ্যাকাউন্টকে জালিয়াতি বলে ঘোষণা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের
অনিল আম্বানি এবং রিলায়েন্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের ঋণ অ্যাকাউন্টগুলিকে জালিয়াতি বলে ঘোষণা করল ব্যাঙ্ক অফ বরোদা। একসময়ের বিশিষ্ট টেলিকম কোম্পানি এবং এর প্রাক্তন পরিচালককে ঘিরে চলমান আর্থিক বিতর্কে এটা গুরুত্বপূর্ণ মোড়। রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড বর্তমানে রেজোলিউশন পেশাদার অনীশ নিরঞ্জন নানাবতীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনিল আম্বানি এখন আর কোম্পানির পরিচালক নন।
২০১৬, দেউলিয়া কোড অনুসারে বর্তমানে কর্পোরেট ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রক্রিয়ার অধীনে থাকা রিলায়েন্স কমিউনিকেশন জানিয়েছে, যে ঋণগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলি তাদের দেউলিয়া শুরু হওয়ার আগের সময়ের সাথে সম্পর্কিত। কোম্পানি দাবি করেছে, এই ঋণগুলি একটা সমাধান পরিকল্পনার অংশ হিসাবে অথবা দেওলিয়া আইনের অধীনে লিকুইডেশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অনিল আম্বানির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, তিনি রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের নির্বাহী পরিচালক বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপক নন। কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না, কারণ বিষয়টি ২০১৩ সালের।
ওই মুখপাত্র বলেন, ‘২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৯ সালে বোর্ড থেকে পদত্যাগ করার আগে পর্যন্ত অনিল আম্বানি রিলায়েন্স কমিউনিকেশন বোর্ডে কেবলমাত্র একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অযৌক্তিকভাবে কাজ করার পর নির্বাচিত ঋণদাতারা এখন আম্বানিকে লক্ষ্য করে পর্যায়ক্রমে মামলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ আরকমের জন্য একটা সমাধান পরিকল্পনা ঋণদাতাদের কমিটি দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে এবং জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনালে তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্যাঙ্ক অফ বরোদার পদক্ষেপের বিষয়ে আরকম আইনি পরামর্শ চাইছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, কর্পোরেট ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রক্রিয়া চলাকালীন এই রকম কোনও মামলা করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, যার মধ্যে কোনও আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা সালিশি প্যানেলে কোনও রায়, ডিক্রি বা আদেশ অন্তর্ভুক্ত। অনিল আম্বানির গ্রুপের সংস্থাগুলির সঙ্গে জড়িত ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের চলমান তদন্তের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। লায়েন্স হাউজিং ফিন্যান্স, আরকম এবং রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিন্যান্সের ঋণের বিষয়ে ১২–১৩টি ব্যাঙ্কের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে ইডি। জালিয়াতির আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১৭০০০ কোটি টাকা। ব্যাঙ্ক অফ বরোদা জানিয়েছে যে, তারা জালিয়াতির আইন অনুসারে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করবে, যার মধ্যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কও অন্তর্ভুক্ত।
এর আগে জুন মাসে দেশের বৃহত্তম ঋণদাতা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া আরকমের ঋণ অ্যাকাউন্টগুলিকে জালিয়াতি হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। পরে ২৪ আগস্ট ব্য্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াও একই ধরণের পদক্ষেপ নেয়, যেখানে আরকমের ঋণ অ্যাকাউন্টকে জালিয়াতি হিসাবে ঘোষণা করে এবং তহবিল স্থানান্তর এবং ঋণের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে এর প্রাক্তন পরিচালক অনিল আম্বানির নাম উল্লেখ করে।
❤ Support Us





