- দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৩
বিবিসির কার্যালয়ে আয়কর দফতরের ‘সমীক্ষা’ সমাপ্ত। রিপোর্ট আজ।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা কেন ? সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ সংঘের
ভারতে বিবিসির কার্যালয়ে আয়কর দফতরের প্রায় তিন দিনের ‘সমীক্ষা’ শেষ হল। প্রচুর তথ্য ও নথি তাঁরা সংগ্রহ করেছেন সংস্থার মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে। দীর্ঘ জিজ্ঞসাবাদ করা হয়েছে কর্মীদের। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ছাড়া হয়েছে। শুক্রবার এ ব্যপারে একটি রিপোর্ট পেশ করা হবে।
আয়কর দফতরের কর্মীদের বেরিয়ে যাওয়ার পর বিবিসি একটি দীর্ঘ টুইট করে। টুইট বার্তায় তাঁরা জানায়, আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সমস্ত রকমের সহযোগিতা করা হবে। সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী। সেইসঙ্গে জেরার সম্মুখীন হওয়া কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে বিবিসি। জানানো হয়েছে, সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যে সব সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁদের ভালোমন্দ দেখা সংস্থার দায়িত্ব। তাদের পাশে সবসময় রয়েছে বিবিসি। সংবাদ সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিষেবা আপাতত স্বাভাবিক । একটি স্বাধীন ও বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম হিসেবে, ভারত ও ভারতের বাইরের শ্রোতা -দর্শকদের খবর পরিবেশন করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মঙ্গলবার বিবিসির দিল্লি ও মুম্বাইয়ের কার্যালয়ে তল্লাশি অভিযান চালাতে আসে আয়কর দফতর। পরিস্থিতি এমন দিকে যেতে পারে, সে ব্যাপারে আগাম সতর্ক থাকতে একটি মেল পাঠিয়েছিল বিবিসির লণ্ডনস্থিত হেড অফিস। যদিও আয়কর বিভাগের মতে, করফাঁকি ও ট্রান্সফার প্রাইসিং সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করবার জন্য একটি ‘সমীক্ষা’ চালাতে এসেছিলেন তাঁরা। সংবাদ সংস্থার সূত্রে খবর, সংস্থার ল্যাপটপে ও কম্পিউটারে শেল কোম্পানি, ফাণ্ড ট্রান্সফার ও মানি ট্রান্সফার ইত্যাদি শব্দগুলো খুঁজে দেখেছেন আধিকারিকরা।। সেই সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সমম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপিও সংগ্রহ করেছেন তাঁরা।
কয়েক সপ্তাহ আগে বিবিসি প্রকাশিত তথ্যচিত্র ‘মোদিঃ দ্য কোয়েশ্চন’ নিয়ে প্রবল বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মহলে ভারত সরকারের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার অভিযোগ করে বিদেশমন্ত্রক। নিষিদ্ধ করা হয় তথ্যচিত্রটির প্রদর্শন। বিজেপির একাধিক নেতাও তথ্যচিত্রটি নিয়ে তাদের তীব্র আপত্তির কথা জানান। কেন্দ্রীয় সরকার ইউটিউব ও টুইটারকে নির্দেশ, তাদের সাইট থেকে লিঙ্ক তুলে নেওয়ার জন্য। সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত একটি মামলা হয়। এমন নির্দেশ জারির পিছনে সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। মোদি সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানিয়েছেন একাধিক বিরোধী নেতা সাংসদ ও বিধায়করা। তাদের দাবি, সংবাদপত্রে সেন্সরশিপ গণতন্ত্র হত্যার সমতুল্য। কেন্দ্রের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার জন্য আয়কর দফতরের তথাকথিত সমীক্ষা, মনে করছেন বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা।
আদালতের পদক্ষেপ নিয়ে রুষ্ট আরএসএস। তাদের সংগঠনের পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দেশ বিরোধী শক্তি সুপ্রিম কোর্টকে নিজেদের দাবি আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত করতে চাইছে। ভারতের গণতন্ত্র ও উদারতার সুযোগ নিচ্ছে তাঁরা। শীর্ষ আদালতের সঙ্গে কলেজিয়াম ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি, সে আবহে সংঘের মুখপত্রে এমন মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
❤ Support Us





