- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ১, ২০২৩
দিল্লির পুরনো কেল্লাই কী মহাভারতের ইন্দ্রপ্রস্থ ? অনুসন্ধানে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ
পাণ্ডবদের রাজধানী ইন্দ্রপ্রস্থ কোথায় কেউই তা আজ জানে না। মহাভারতের বর্ণনায় দিল্লি বা তার নিকটবর্তী কোনো এক জায়গাতেই অবস্থান বলে মনে হলেও এ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এই দীর্ঘ সংশয় পর্বের অবসান ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের সাম্প্রতিক গবেষণায়। দিল্লির পুরানা কেল্লায় খননাকার্য চালিয়ে যে ঢিবি পাওয়া গেছে তাতে মিলেছে চিত্রিত ধূসর মৃৎপাত্রের পর্বের বাসনপত্রের নিদর্শন। যা দেখে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বসন্ত স্বর্ণকর প্রাক-মৌর্য সময়কালকে মহাভারতের সমকাল রূপে চিহ্নিত করেছেন।
বসন্ত স্বর্ণকর নেতৃত্বাধীন প্রতন্তত্ত্ববিদরা দিল্লির পশ্চিমকিলায় খননাকার্য করতে গিয়ে মৌর্য আমলের পাতকুয়োর মধ্যে বিবর্ণ একটি মাটির পাত্রের টুকরোর সন্ধান পেয়েছেন । যা দেখে তাদের অনুমান এটি হল চিত্রিত ধূসর মৃৎপাত্রের অংশ। কারণ এই ধরনের বাসনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হল, ধূসর রঙের প্রলেপ দিয়ে তার গায়ে বিভিন রকমের ছবি বা নকশা কাটা । যার অস্তিত্ব এক্ষেত্রে পেয়েছেন তাঁরা। তাই তাঁদের ধারণা, এখানে আরো খননকার্য চালালে ১২০০ থেকে ৬০০ সময়পর্বের অনেক চিহ্ন পাবেন তারা। তাঁদের দাবি, প্রত্যেকটা রাজবংশের রাজত্বের সঙ্গে মাটির বাসনপত্র নিমার্নের সংস্কৃতি জড়িত থাকে। চিত্রিত ধূসর মৃৎপাত্র তাই মহাভারতের সময়কার । যদিও তথ্যপ্রমাণের সমর্থন এক্ষেত্রে কতটা তা বিচার করে দেখা প্রয়োজন।
ভারতীয় উপমহাদেশে যে কটি মাটির বাসন নির্মাণের সংস্কৃতি দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম চিত্রিত ধূসর মৃৎপাত্র সংস্কৃতি । মূলত ১২০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে এমন ধরনের মাটির বাসন ব্যবহারের সূচনা হয়। চলে প্রায় ৬০০ বছর। একই সময়এ বৈদিক আর্যরা পাঞ্জাব- আফগানিস্তান ছেড়ে ক্রমশ পূর্বদিকে স্থানান্তরিত হতে থাকে। চাষবাসের ওপর আরো বাড়তে থাকে তাদের নির্ভরতা। স্বাভাবিক কারণেই খাদ্য শস্য হোক বা অন্যান্য খাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার জন্য মাটির পাত্র অবশ্যই প্রয়োজন। তাই চিত্রিত ধূসর মাটির পাত্রর নিদর্শন বেশি দেখা যায় ঘর্ঘর হাকরা উপত্যকা ও পশ্চিম গাঙ্গেয় সমভূমিতে। এখানে বলা দরকার, ষোড়শ মহাজনপদের উথান এই সময়েই। গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলে পলিমাটির আধিক্য কৃষিকার্যের অনুকূল তাই গড়ে ওঠে একের পর এক সুবিশাল জনবসতি। বেদের একাধিক সূক্তে উল্লিখিত হয়েছে এইসমস্ত অঞ্চলের সমৃদ্ধিত কথা। এ ব্যাপারে এসআই-এর প্রধান জানিয়েছেন, ১৯৭০ এর দশকে মহাকাব্যে উল্লিখিত স্থানগুলোতে খনন শুরু করেন বিবি লাল। তখন তিনিই সেসময় প্রথম পেয়েছিলেন ধূসর মাটির বাসনের নিদর্শন ও সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন সবথেকে প্রাচীন মাটির পাত্র তৈরির সংস্কৃতি হয়তো এটাই। যদিও পরে আরো অনেকগুলো মাটির পাত্র তৈরির সংস্কৃতির নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। তবুও প্রতন্তত্ত্বমহলে চিত্রিত ধূসঅর মৃৎপাত্রকে মহাভারতের সময়কার সংস্কৃতি বলে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। এখন ইন্দ্রপ্রস্থ যা যুধিষ্ঠির সহ পঞ্চ পান্ডব কুরুর রাজসভা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তৈরি করেছিলেন ময় দানবের সহায়তায়। তার সন্ধান আজকের ভারতে পাওয়া সম্ভব কিনা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে খনন কার্যের ওপর নির্ভর করছে। তার আগে এ নিয়ে কোনো পূর্ব সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়।
❤ Support Us





