Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৮, ২০২৫

জুবিন গর্গের মৃত্যুতে নয়া মোড়! গ্রেফতার শিল্পীর খুড়তুতো ভাই, অসম পুলিশের ডিএসপি সন্দীপন গর্গ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জুবিন গর্গের মৃত্যুতে নয়া মোড়! গ্রেফতার শিল্পীর খুড়তুতো ভাই, অসম পুলিশের ডিএসপি সন্দীপন গর্গ

সিঙ্গাপুরে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে জুবিন গর্গের মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরো ঘনীভূত। নিছকই দুর্ঘটনা? না কি এর নেপথ্যে আছে গভীর ষড়যন্ত্র? উত্তর-পূর্ব ভারতের এই জনপ্রিয় শিল্পীর অকালমৃত্যুর তদন্তে এবার গ্রেফতার হলেন তাঁর খুড়তুতো ভাই ও অসম পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি) সন্দীপন গর্গ। এই নিয়ে জুবিন গর্গের মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তার হলেন মোট ৫ জন। অসম সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল মঙ্গলবার গভীর রাতে সন্দীপনকে গ্রেফতার করেছে। জানা যাচ্ছে, তিনি ছিলেন জুবিনের সিঙ্গাপুর সফরসঙ্গী এবং ঘটনার দিন ইয়ট পার্টিতে উপস্থিত ৮ জনের অন্যতম। পুলিশের দাবি, জুবিন যখন সমুদ্রে সাঁতার কাটতে নামেন, তখন সন্দীপন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয় তদন্তকারী দল।

কে এই সন্দীপন গর্গ? তিনি অসম পুলিশ সার্ভিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিক। বর্তমানে কামরূপ জেলার ডিএসপি (আইন ও শৃঙ্খলা) পদে কর্মরত। তিনি জুবিন গর্গের কাকার ছেলে। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত তাঁকে তাঁর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়নি। সিআইডি-র স্পেশাল ডিজিপি মুন্নাপ্রসাদ গুপ্ত জানান, ‘তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করেই বিভাগীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এর আগে ২ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ব্যান্ড সদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামী, গায়িকা অমৃতপ্রভা মহন্ত এবং নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল-এর উদ্যোক্তা শ্যামকানু মহন্তকে। ওই পার্টিতেই উপস্থিত ছিলেন শেখরজ্যোতি ও অমৃতপ্রভা। এমনকি শেখরজ্যোতি সে মুহূর্তে জুবিনের সাঁতার কাটার দৃশ্য ভিডিও করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ৫ জনের বিরুদ্ধেই খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ও অবহেলার কারণে মৃত্যু-র অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। সবাই সিআইডির হেফাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে একটি ইয়ট পার্টি চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় অসমের আইকন, সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের। তিনি গিয়েছিলেন উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল-এ অংশ নিতে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ঘটে বিপত্তি। প্রথমে বলা হয়েছিল, এটি স্কুবা ডাইভিংয়ের দুর্ঘটনা। কিন্তু এই আচমকা মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন তোলে পরিবার থেকে শুরু করে ভক্তমহলও। ফলে অসম সরকার একটি ১০ সদস্যের ‘শিট’ গঠন করে। তদন্তে নেমে একে একে ডাকা হয় সফরসঙ্গীদের—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন অসমীয়া এনআরআই এবং সিঙ্গাপুর অসম অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষস্থানীয় সদস্যরাও। সিঙ্গাপুরে পার্টির আয়োজনে মূল ভূমিকা ছিল যাঁদের, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন টানময় ফুকন, যিনি জুবিনের দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং ইয়ট পার্টির অন্যতম উদ্যোক্তা। এছাড়া সিঙ্গাপুর অসম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অভিমন্যু তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক দেবজ্যোতি হাজরিকা, সহ আরো ৮ জনকে সিআইডি তলব করেছে। ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে তাঁদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁরা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুর পুলিশও বিষয়টি ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে তদন্ত করছে। সে কারণে আপাতত তাঁরা সিঙ্গাপুরেই থাকবেন। সিআইডি মনে করছে, এ ঘটনায় এখনো বগু তথ্য অজানা রয়ে গিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরো কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই শ্যামকানু মহন্তর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগও আলাদা মামলা হয়েছে। তাঁর বাড়ি থেকে বেশ কিছু সিল, চেকবই ও নথি উদ্ধার করেছে তদন্তকারী দল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!