- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ২৯, ২০২৫
অসমে উচ্ছেদ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিরুদ্ধে অসমের বুদ্ধিজীবিদের উদ্বেগ
'আমরা চিন্তিত, আমরা ব্যথিত'
অতি কৌশলে অসমে সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করতে একটি বিশেষ মহল ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। বণিকশ্রেণিকে শিল্পের জন্য জমি বরাদ্দ করার স্বার্থে আর দুর্লভ খনিজ সম্পদ খননের স্বার্থে, রাজ্য প্রশাসন জনজাতী আর সমতলীয় অধ্যুষিত এলাকায় উচ্ছেদ চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত জনজাতীয় মানুষই সবচেয়ে বেশি উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। বণিকশ্রেণির স্বার্থে উচ্ছেদের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করার বিষয়টি চাপা দিতে গিয়ে আবার ‘সন্দেহযুক্ত বাংলাদেশি’-র আখ্যান তুলে ধরা হচ্ছে। উরিয়ামঘাটের উচ্ছেদের ঘটনা জানাজানি হবার পর, উচ্ছেদিত মানুষজন আশ্রয় খুঁজে এখানে-ওখানে ছড়িয়ে পড়ছেন। অথচ সরকার তাঁদের জীবনজীবিকা সুনিশ্চিত করার বদলে তাঁদেরই বিরুদ্ধে ‘সন্দেহযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক’-এর অভিযোগ এনে, তাঁদের যৎপরনাস্তি হয়রানির সম্মুখীন করে তুলছে। এমনকি কোনো কোনো অঞ্চলে এসব আশ্রয়হীন মানুষকে মারপিট করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা যে ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ তার কোনো প্রমাণ পেশ করা হয় নি। উচ্ছেদিত মানুষকে পুনঃস্থাপন করার ব্যাপারে, উচ্চতম আদালত যেসব নিয়মনীতি পালনের নির্দেশ দিয়েছে, সেগুলো উপেক্ষা করে আশ্রয়হীন মানুষকেই হেয় আর লাঞ্ছনা করা হচ্ছে। উরিয়ামঘাটের উচ্ছেদে যাঁরা ভিটেচ্যুত হয়েছেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে আপার অসমের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁদেরকে ঘিরে, হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
উচ্ছেদিত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা আর পুনঃসংস্থাপনের দায়িত্ব সরকারের। পরিস্থিতির যাতে আর অবনতি না ঘটে, সেদিকে সরকারকে দৃষ্টি রাখতে হবে। সবশ্রেণির মানুষের প্রতি আমাদের বিনম্র অনুরোধ, কোনো অবস্থাতেই অপপ্রচার আর গুজবের দ্বারা পরিচালিত হবেন না। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পরিস্থিতির অধিক অবনতি যেন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই বিবৃতিতে সহমত পোষণ করে সাক্ষর করেছেন :
ড. হীরেন গোহাঁই, ড. অপূর্ব কুমার বরুয়া, হরেকৃষ্ণ ডেকা, অজিত কুমার ভুঁইয়া, আব্দুল মান্নান, হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী, পরেশ মালাকার, ড. মনোরমা শর্মা, রবীন দত্ত, ড. ইন্দ্রানী দত্ত, আবদুস সালাম, জ্যোর্তিময় জানা, ড. দিনেশ বৈশ্য, ড. হাফিজ আহমেদ ও মসদ্দর হোসেন
সৌজন্য : আসাম সিভিল সোসাইটি
❤ Support Us





