Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫

কলকাতার বাণিজ্য সম্মেলনে পর্যটন, স্বাস্থ্য ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ ঘোষণা শিল্পপতিদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতার বাণিজ্য সম্মেলনে পর্যটন, স্বাস্থ্য ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ ঘোষণা শিল্পপতিদের

বছর পেরোলেই রাজ্যে নির্বাচন, তার আগে প্রতিবছর আয়োজিত হওয়া ব্যবসায়ীদের কনক্লেভ, এবারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে । বাংলায় শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের প্রশ্নে বিরোধীদের প্রশ্নবাণের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে ।

আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ ২০২৫’-এ দেশের শীর্ষ শিল্পপতি ও বণিক মহলের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা, শিল্প দফতরের সচিব বন্দনা যাদব, সহকর্মী ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অমিত মিত্র, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।

বাণিজ্য সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় নীতিমালা ও বাংলার প্রাপ্য অর্থ নিয়ে সরাসরি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘নোটবন্দি করলে না কি দেশে নগদ সমস্যার সমাধান হবে— কিন্তু কিছুই হয়নি। বাংলার পাওনা কেন্দ্রের কাছে ১,৫৭,০০০ কোটি টাকা। অনেক বাধা, লাঞ্ছনা সহ্য করেও আমরা রাজ্যকে এগিয়ে নিয়েছি।’ তাঁর অভিযোগ, সিবিআই, ইডি-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে হাতিয়ার করে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, যা বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারাক্ষণ এজেন্সির ভয় দেখালে ব্যবসা করবে কীভাবে?’ তবে, এত সবের পরেও, ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার জন্য রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ‘পশ্চিমবঙ্গ ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ গঠন করা হচ্ছে। বোর্ডে সরকারি প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী সংস্থা অংশ নেবে। এছাড়াও কলকাতা ও শিলিগুড়িতে ‘বিজনেস টু বিজনেস হাব’ স্থাপন, ২৩টি জেলায় শপিং মল নির্মাণ এবং জেলাস্তরের চেম্বার অব কমার্সদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্পবান্ধব রাজ্যের দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, তিনি বাংলার শিল্প ও বিনিয়োগে অর্জিত সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তবে একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্র সরকারের ওপর আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।

এদিনের মঞ্চে বাংলায় বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা দেন আরপিএসজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। তিনি জানান, গত ১৫ বছরে তাদের গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৬,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ভবিষ্যতে রাজ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পে প্রায় ১২,০০০ কোটি, স্কুল খাতে ৫০০ কোটি, এবং হাসপাতাল প্রকল্পসহ মোট ১৫,৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই বিপুল বিনিয়োগ সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর হ্যাসল-ফ্রি পরিবেশ এবং শিল্পবান্ধব নীতির কারণে।’ অন্যদিকে, অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া জানান, গত ১৫ বছরে তাদের গোষ্ঠী হসপিটালিটি, রিয়েল এস্টেট ও শিক্ষা খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, যার ৭০ শতাংশই বাংলায় হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে আরও ১০টি হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু হবে, তার মধ্যে চারটির নির্মাণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতেও নতুন হাসপাতাল স্থাপনসহ ১৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আইটিসি-এর চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরী বাংলার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বাংলায় সংস্থার দীর্ঘ ১১৫ বছরের উপস্থিতি রয়েছে। গত দশ বছরে তারা বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, বিশেষত কৃষি ও হসপিটালিটি খাতে। বর্তমানে রাজ্যে আইটিসি-র সাতটি হোটেল আছে, এবং আরও পাঁচটি হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পমহলের অন্যান্য বৃহৎ প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়। উমেশ চৌধুরী জানান, টিটাগড়ে তাদের কারখানা তিনগুণ বাড়ানো হচ্ছে, যা সমগ্র এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহৎ কোচ উৎপাদন কেন্দ্র হবে। জেএসডব্লিউ শালবনিতে ৩,২০০ মেগাওয়াটের থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে ৪০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে, যা সরাসরি ৩,০০০ এবং পরোক্ষভাবে ৮,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!