- দে । শ
- জুলাই ১৮, ২০২৩
গণসমারোহে বিপুল সমাগম। নির্বাচনের আগে নব বলে উজ্জীবিত আওয়ামি লীগ
শোভাযাত্রায় বিপুল জনসমাগম দেখে উজ্জীবিত আওয়ামি লীগ। নিজেদের দেশের এক নম্বর সংগঠন বলে তাদের দাবি, ভোট যদি কোনো ভাবে ভেস্তে দেওয়া হয় তাহলে তার পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে। উল্লেখ্য একই দিনে, বিএনপির পক্ষ থেকেও সভার আয়োজন করা হয়েছে। যদিও তাতে বেশি মানুষ আসেনি বলেই আওয়ামি নেতাদের দাবি। তাঁরা আরো জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে তারাই এগিয়ে রয়েছেন এবং চূড়ান্ত বিচারে জয়ী হবেন তাঁদের প্রার্থীরাই।
মঙ্গলবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জমায়েতে হাজির হয় আওয়ামি লিগের কর্মী সমর্থকরা। সেখান থেকে করে সেখান থেকে ধানমণ্ডি পর্যন্ত শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার আয়োজন করে তাঁরা। দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। তবে, আমন্ত্রিত ছিলেন শহরের নানা প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মীরা। তাঁরা মিছিল নিয়ে যোগ দেন, হাজির ছিল সহযোগী সংগঠনগুলোও। কর্মসূচির সময় স্থির করা হয়েছিল বিকাল ৩টা। তবে সভাস্থল তাঁর আগেই কানায় কানায় ভরে যায়। প্রেস ক্লাব থেকে মৎস্য ভবন, রমনা থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভিড় ছড়িয়ে পড়ে ।
জনসমাগাম দেখে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল বলে তিনি বলেন দলের কর্মীদের ওপর ভোটের সময় যদি আক্রমণ করা হয় তাহলে আওয়ামী ছেড়ে কথা বলবে না। দলের সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের সমাবেশ শেষ হওয়ার পর বিকাল ৫টায় শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন। তা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে শেষ হয়। ব্যানার-ফেস্টুন-প্লাকার্ড হাতে নেতা-কর্মীরা অংশ নেন সেই শোভাযাত্রায়, ঘোড়ার গাড়ি আর বাদক দলও ছিল এই মিছিলে। তিনি সম্মিলিত দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে জানিয়েছেন, আমরা কোনো কেয়ার টেকার সরকার চাই না। সংবিধান যেমনভাবে বলা হয়েছে তাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। কারোর সামনে দল মাথা নত করতে রাজি নয় তাঁর দল। লিগ সরকারেরপদত্যাগের প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস কর আহলে তিনি এমন সম্ভাবনাকে কার্যত নস্যাৎ করে দেন।
সড়ক ও সেতু নির্মাণ মন্ত্র্কের প্রধান আরো বলেন শেখ হাসিনার সময় একের পর এক সেতুর উদ্বোধন হয়েছে। বিএনপি দলের মীর্জা ফকরুল যে ভোট চাইছেন তাঁর ভিত্তি কী? দেশের জন্য তিনি কোন অবদান রেখেছেন? যে মিলিজুলি জোট তাঁর পরাজয়ও আগামী নির্বাচনে অবশ্যম্ভাবী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেননির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে, তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। ওরা ভেবেছে নৈরাজ্য করে পার পেয়ে যাবে। অগ্নিসন্ত্রাস করলে, নৈরাজ্য করলে আমরা কিন্তু বসে থাকব না। এতে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে দায়ী থাকবে বিএনপি-জামায়াত।
আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপিও একটি সভার আয়োজন করেছিল ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংক সংলগ্ন আল রাজি কমপ্লেক্সের সামন। সেখানে ১২ দলের জোটের শীর্ষ নেতারা যোগ দিয়েছিলেন। এই জনসমারোহে সমমনস্ক জোটের সমন্বয়কারী ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন আওয়ামি সরকারের অধীনে কখনও অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। যার সর্বশেষ প্রমাণ ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন। এছাড়া ২০১৪ সালে বিনা ভোটে এবং ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে তারা ক্ষমতায় এসেছে। তাই জনগণ এই সরকারের অধীনে আর কোনও নির্বাচন হতে দেবে না। সভা শেষ হওয়ার পর দুপুর দেড়টার দিকে পদযাত্রা করে জাতীয়তাবাদী মোর্চার সদস্যরা।
একই দিনে দুই পরস্পরবিরোধী শিবিরের শ্লোগান ও পালটা শ্লোগানে মুখরিত হল ঢাকা। নির্বাচনে অবশ্য কারা জিতবেন , কারা আগামী দেশের চালকের আসনে বসবেন। তা স্থির হব বছরের শেষে নাগরিকের জনাদেশে।
❤ Support Us





