Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • নভেম্বর ১৭, ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়ের আগে কী বললেন হাসিনা ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়ের আগে কী বললেন হাসিনা ?

বাংলাদেশে তার শাসনামলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আদালতের রায় আসার আগে, দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি মিথ্যা এবং তিনি এমন রায়ের পরোয়া করেন না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের আগে, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সমর্থকদের কাছে এক অডিও বার্তায় বলেছেন, “নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার তাঁর দলকে শেষ করে দিতে চায়। এটা এত সহজ নয়, আওয়ামী লীগ তৃণমূলস্তর থেকে উঠে এসেছে, ক্ষমতার কিছু দখলদারের পকেট থেকে নয়।”

হাসিনা বলেন, “তাঁর সমর্থকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদে সাড়া দিয়েছেন। তারা আমাদের বিশ্বাস দিয়েছে। মানুষ দেখিয়ে দেবে এই দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী এবং হত্যাকারী ইউনুস এবং তার সহযোগীদের, কীভাবে বাংলাদেশ বদলে যেতে পারে; মানুষ ন্যায়বিচার করবে।”

ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাসিনা, গত বছর দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর জাতীয় আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠার পর দিল্লিতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা করার পর সেখান থেকে পালিয়েছিলেন। তাঁর পালানোর পর, ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। সেই আদালত হাসিনাকে ঢাকায় বিচারের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি সে নির্দেশ অমান্য করেন।

হাসিনা তাঁর সমর্থকদের উদ্বিগ্ন না হতে অনুরোধ করে বলেন, “আমি বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব, আবার মানুষের কল্যাণে কাজ করব এবং বাংলাদেশে ন্যায়বিচার করব।”

হাসিনা ইউনুসকে ক্ষমতা দখলের জন্য অভিযুক্ত করে বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান বলে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জোর করে পদচ্যুত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইউনুস ঠিক এমনটাই করেছে তার সুপরিকল্পিত নকশায়।” তিনি আরও বলেন, “তাঁর সরকার গত বছর ছাত্র আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছিল, তবে নতুন নতুন দাবি উঠতে থাকে। এটা ছিল এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।”

নিজের সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খারিজ করে হাসিনা বলেন, “আমি ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, আর তারা আমাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করছে?”

ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, “ইউনুস সরকার পুলিশ, আওয়ামী লীগ কর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের হত্যাকারীদের ক্ষমা দিয়েছে। কিন্তু এই ধরনের লোকদের ক্ষমা করে দিয়ে, সে নিজের উপরই দায় চাপিয়েছে।”

হাসিনা আরও বলেন, “এই ক্ষমা প্রদানের ফলে শিকার পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এটা কোন মানবতা?”
তারা রায় দিলে দিক, আমি পরোয়া করি না। আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ জীবন নেবেন, কিন্তু আমি আমার দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। আমি আমার বাবা-মা, ভাই-বোনদের হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।”

গণভবনে হামলা ও লুটপাটের সমালোচনা করে হাসিনা বলেন, “গণভবন আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটা সরকারি সম্পত্তি। তারা বলছে এটা এক বিপ্লব। হুলিয়া ও সন্ত্রাসীরা বিপ্লব আনতে পারে না।”

এ ধরনের আদালতের রায় তাঁকে থামাতে পারবে না বলে জোর দিয়ে হাসিনা বলেন, “আমি জনগণের সঙ্গে আছি। আমি আমার দলের কর্মীদের বলছি, চিন্তা করবেন না, এটা সময়ের ব্যাপার, আমি জানি আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, আমরা এটা ভুলব না, সবকিছু হিসাব করা হবে। আমি বিশ্বাস করি ইনশাআল্লাহ, আমি প্রতিদান দিতে পারব।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে মানুষের জীবন পরিবর্তিত হয়েছে। আজ, বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, আয় নেই, উৎপাদন নেই, দেশেও শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ব্যাংক লুট হচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে হবে। সবাই ভাল থাকুন। জয় বাংলা, জয় বাংলা, বাংলাদেশ।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!