- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫
বাংলাদেশে নির্বাচন কবে? বিশ্বকে জানালেন ড. ইউনূস
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে ফেলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বিকেলে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত তথা ভারতের জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘ফেব্রুয়ারিতেই ভোট। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। দেশ তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ বৈঠকে ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে গোর আশ্বাস দিয়েছেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের পাশে থাকবে। আলোচনার টেবিলে উঠেছে বাণিজ্য থেকে আঞ্চলিক সহযোগিতা, সার্কের পুনরুজ্জীবন থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট পর্যন্ত নানা ইস্যু। কক্সবাজারে আশ্রিত প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গার জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানান ইউনূস। সেখানেও মিলেছে আমেরিকার সম্মতি।
তবে বিদেশ সফরে গিয়ে বিতর্কের ঝড়ও সামলাতে হয় তাঁকে। নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতেই ইউনূস ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ঘিরে ধরেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মীরা। স্লোগান ওঠে, ‘জামায়াত-শিবিরের নেতা’, ‘বাংলাদেশের দুশমন’। অভিযোগ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের উপর আক্রমণ করা হয়। ইউনূস সঙ্গী ভিন্ন ভিন্ন দলের প্রতিনিধি প্রায় সবাইকেই ‘জঙ্গি’, ‘রাজাকারের দোসর’ বলে গালমন্দ করেন বিক্ষুব্ধ আওয়ামী কর্মীরা।
এদিকে, নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন টানাপোড়েন। এনসিপি নেতা সারজিস আলম সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, তাঁদের দলকে শাপলা প্রতীক না দিলে ফল ভালো হবে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় ফুলকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতে তারা রাজি নয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইউনূসের সফরসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, এনসিপির নেতা আখতার হোসেন ও ড. তাসনিম জারা। আছেন জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ড. নকিবুর রহমান তারেকও।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল আরো বাড়িয়েছে এক খবর —গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সম্ভাব্য একীভূতকরণ। ২০১৮-র কোটা সংস্কার আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, আবার ২০২৪-র গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিল এনসিপি। তরুণ নেতৃত্বকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা দুই দলের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও না এলেও, আলোচনার ভিত মজবুত বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন নেতারা। তাহলে হঠাৎই কেন এই একীভূত হওয়ার উদ্যোগ? নির্বাচনের আগমুহূর্তে দলীয় সমীকরণ বদলে দেওয়ার এই আঁচ কি বড়োসড়ো জোট রাজনীতির ইঙ্গিত? প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মুহম্মদ ইউনূস কোন দলের প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়তে চলেছেন! বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন এসব প্রশ্নেই সরগরম।
❤ Support Us






