Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২২, ২০২৬

‘বোমা-হুমকি ইমেল’-এর মূল পাণ্ডা গ্রেফতার, পাকিস্তান যোগে চাঞ্চল্য

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘বোমা-হুমকি ইমেল’-এর মূল পাণ্ডা গ্রেফতার, পাকিস্তান যোগে চাঞ্চল্য

স্কুল, সরকারি দফতর, সংবেদনশীল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাঠানো ভুয়ো বোমা-হুমকি ইমেলের ঘটনায় বড়ো সাফল্য পেল পাঞ্জাব পুলিশ। বহু মাস ধরে চলা আতঙ্কের আবহের মধ্যে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হলো এক বাংলাদেশি নাগরিককে। তিনি গ্রাফিক ডিজাইনারের কাজ করতেন। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি একটি বিস্তৃত আন্তঃসীমান্ত সাইবার চক্রের সক্রিয় সদস্য। ওই চক্রের হাত ধরেই শতাধিক ভুয়ো জিমেল অ্যাকাউন্ট পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছিল, যেখান থেকে দেশজুড়ে ছড়ানো হচ্ছিল বোমা-হুমকির বার্তা।

ধৃতের নাম সৌরভ বিশ্বাস ওরফে মাইকেল (৩০)। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি মূলত বাংলাদেশের বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছিলেন। তার আড়ালের চলছিল এক গোপন ডিজিটাল কারবার।  অমৃতসর পুলিশের কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লর শুক্রবার জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে যে চারটি পৃথক মামলায় ভুয়ো বোমা-হুমকি ইমেল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল, সেসব মামলাতেই সৌরভের নাম উঠে এসেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, সাইবার অপরাধ এবং ভয় দেখিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, সৌরভ একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্কের অংশ ছিল, যারা বিভিন্ন সূত্র থেকে জিমেল ও অন্যান্য ইমেল অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করত। পরে অ্যাকাউন্টগুলি বিক্রি করা হতো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে। তদন্তকারীদের দাবি, ফেসবুক গ্রুপ, এনক্রিপ্টেড চ্যাট প্ল্যাটফর্ম আর গোপন অনলাইন ফোরামের মাধ্যমে চলত এই কেনাবেচা। গুরপ্রীত সিং ভুল্লর জানিয়েছেন, ‘প্রায় ৩০০টি জিমেল অ্যাকাউন্ট অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে সেগুলির বড়ো অংশ পুনরায় বিক্রি করা হয়।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ৩০০টির মধ্যে অন্তত ২১৯টি জিমেল অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এই লেনদেন হয়। অর্থ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল ইউএসডিটি ক্রিপ্টোকারেন্সি।

তদন্তকারীদের দাবি, এখানেই শেষ নয়।ওই অ্যাকাউন্টগুলির অনেকগুলি পরে পাকিস্তানে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছে যায়। অভিযোগ, তারাই ভারতের বিভিন্ন স্কুল, বিমানবন্দর, সরকারি অফিস এবং সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে বোমা-হুমকির ইমেল পাঠানোর কাজে ওই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করছিল। শুধু আতঙ্ক ছড়ানো নয়, জাতীয় নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলাই ছিল এ চক্রের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছে পুলিশ। তাদের মতে, এই গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু রাজ্যে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার নেপথ্যে থাকা আন্তঃরাজ্য এবং আন্তঃসীমান্ত সাইবার নেটওয়ার্কের সূত্র মিলতে পারে এই ঘটনায়। বোমা-আতঙ্কে এটাই প্রথম উল্লেখযোগ্য গ্রেপ্তার।

অমৃতসরের সাইবার ক্রাইম থানার দীর্ঘ তদন্তের পর সৌরভের নাগাল পাওয়া যায়। ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আইপি লগ বিশ্লেষণ এবং অনলাইন কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালিয়ে তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে তার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে তিনটি সিপিইউ, পাঁচটি কম্পিউটার হার্ড ডিস্ক, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ইন্টারনেট রাউটার। পাশাপাশি ৩০০-রও বেশি জিমেল আইডির তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং রিকভারি ডিটেলস পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এছাড়াও ১৫টি হটমেল অ্যাকাউন্টের তথ্যও উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত এখন আন্তর্জাতিক মাত্রা নিয়েছে। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে থাকা সন্দেহভাজন সহযোগীদের খোঁজে ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়েছে পাঞ্জাব পুলিশ।

ঘটনাচক্রে বৃহস্পতিবারই অমৃতসরের একাধিক স্কুলে ফের বোমা-হুমকির ইমেল পৌঁছয়। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পড়ুয়াদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং অ্যান্টি-স্যাবোটাজ স্কোয়াড যৌথ ভাবে তল্লাশি চালায় স্কুলগুলিতে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরক মেলেনি। তবে তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক ভুয়ো হুমকির লক্ষ্যই ছিল সাধারণ মানুষের মনে ভয়, অস্থিরতা তৈরি করা। বড়ো কোনো হামলার ছক-এর অংশও হতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!