- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
ছত্তিশগড়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে আটক পূর্ব বর্ধমানের তিন কিশোর
বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ছত্তিশগড়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে তিন বাঙালি কিশোরকে আটক করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম এলাকায়। রুজি-রোজগারের খোঁজে গুজরাটের সুরাটে যাওয়ার পথে শনিবার ছত্তিশগড়ে রেল পুলিশের হাতে আটক হয় ওই তিনজন। ঘটনার খবর সন্ধ্যায় বাড়িতে পৌঁছতেই উদ্বেগে ভেঙে পড়েন পরিবার-পরিজনেরা।
আটক তিন কিশোরের মধ্যে দু’জন নবম শ্রেণির ছাত্র। তারা সকলেই পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ব্লকের গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের ঝামটপুর গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা। বছর ষোলোর কার্তিক দাস বহরান জয়দুর্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। তাঁর বাবা পূর্ণচন্দ্র দাস ও মা সুখীদেবী দিনমজুর। একই পাড়ার রাকেশ দাস, যিনি কার্তিকেরই সহপাঠী, এবং রতন দাস, যিনি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন—এই তিনজন একসঙ্গে সুরাটের একটি পাউরুটি কারখানায় কাজ করতে যাচ্ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ন’জনের একটি দল শুক্রবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সুরাটের উদ্দেশে। এই দলে মুর্শিদাবাদের সালার থানার এলাকার আরও দু’জন যুবক ছিলেন। রাকেশের বাবা বাণেশ্বর দাস জানান, তাঁর ছেলে-সহ ওই তিন কিশোর মাস দেড়েক আগেও সুরাটে কাজে গিয়েছিল এবং দু’সপ্তাহ আগে বাড়ি ফিরেছিল। ফের কাজে যোগ দিতেই তারা আবার রওনা দেয়। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় ফোন করে জানানো হয়, ছত্তিশগড়ের একটি স্টেশনে তিনজনকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরে রায়পুরে রেল পুলিশ তাদের আটক করে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেল পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ওই কিশোররা হিন্দি বলতে না পারায় বাংলা ভাষায় কথা বলেছিল। সেই কারণেই তাদের আটক করা হয়েছে। গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল হাজরা বলেন, “খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, হিন্দি বলতে না পারায় এবং বাংলা বলার কারণেই ছত্তিশগড়ে রেল পুলিশ ওদের আটকে রেখেছে।”
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের এক যুবক নেতার দাবি, ভাষার কারণে নয়, নাবালক হওয়ার কারণেই ওই তিন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলের বাকিদের বয়সের প্রমাণপত্র দেখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার নিন্দা করে কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতন বাড়ছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি প্রশাসনিক স্তরে কথা বলছি, যাতে দ্রুত ওদের নিরাপদে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারগুলির একটাই দাবি—যে কারণেই হোক, দ্রুত ওই তিন কিশোরকে নিরাপদে বাংলায় ফিরিয়ে আনা হোক।
❤ Support Us






