- দে । শ
- অক্টোবর ১৭, ২০২৫
বেঙ্গালুরুর বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতন, গ্রেফতার সহপাঠী
দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ক্যাম্পাসের ভিতর পুরুষদের শৌচাগারে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করবার অভিযোগ উঠল কলেজেরই এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে অভিযুক্ত পড়ুয়া বিচার বিভাগীয় হেফাজতে। ঘটনার পর ৫ দিন পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছাত্রী শেষমেশ জানায় পরিবারকে। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা।
পুলিশ জানাচ্ছে, অভিযুক্তের নাম জীবন গৌড়া। বয়স ২১। কলেজের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র। নির্যাতিতাও ওই কলেজেরই সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্রী । তাঁরা এক সময় সহপাঠী ছিলেন। পরে গৌড়া পিছিয়ে পড়েন এক বছর। ঘটনাটি ঘটেছে চলতি মাসের ১০ তারিখ, প্রকাশ্য দিবালোকে। নির্যাতিতা ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি এসেছিলেন গৌড়ার কাছ থেকে কিছু ব্যক্তিগত জিনিস নিতে। সেদিন অভিযুক্ত ছাত্র তাঁকে একাধিকবার ফোন করে তাঁকে ডেকে পাঠান কলেজের স্থাপত্য ভবনের সপ্তম তলায়। ছাত্রীটি সেখানে পৌঁছতেই আচমকাই তাঁকে জোর করে চুম্বনের চেষ্টা করে জীবন গৌড়া। পালাতে গেলে, গৌড়া তাঁর পিছু নেন এবং ষষ্ঠ তলায় গিয়ে একটি পুরুষদের শৌচাগারে টেনে নিয়ে যান।
অভিযোগ, শৌচাগারে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেন অভিযুক্ত। ঠিক সে সময় ভুক্তভোগীর ফোন বেজে ওঠে। গৌড়া সেটি কেড়ে নেন। তার পরে চলে শারীরিক নির্যাতন। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ মিনিট ধরে ওই ঘরেই আটকে রাখা হয় ছাত্রীটিকে। পরে কোনো রকমে বেরিয়ে এসে তিনি আশ্রয় নেন দুই বন্ধুর কাছে। ক্রমাগত আতঙ্ক আর মানসিক বিপর্যয়ে ভুগছিলেন তিনি। এর মধ্যে অভিযুক্ত লাগাতার ফোন করে তাঁকে কুরুচিকর নানান কথা বলতে থাকে বলে অভিযোগ। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অবশেষে ১৫ অক্টোবর হনুমন্তনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ধারা ৬৪ অনুযায়ী যৌন নির্যাতনের মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটনার পুনর্গঠনও সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি না থাকায় চ্যালেঞ্জ বাড়ছে তদন্তে। তবে ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
যে বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ঘটনাটি ঘটেছে, তারা এ পর্যন্ত, ঘটনা নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। শিক্ষাঙ্গনের ভিতরে এমন একটি গুরুতর অভিযোগ উঠলেও প্রতিষ্ঠানটির নিরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও। এদিকে ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাল। কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘কর্ণাটকে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। মাত্র ৪ মাসে ৯৭৯টি যৌন হেনস্থার অভিযোগ, বেঙ্গালুরুতেই ১১৪টি! আদিবাসী কন্যার যৌন নির্যাতন ও মৃত্যু থেকে শুরু করে গ্রন্থাগারিকের আত্মহত্যা, মহিলারা রাজ্যে কোথাও নিরাপদ নন। সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।’ তিনি জাতীয় মহিলা কমিশন-কে চিঠি লিখে তদন্তকারী দল পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। আর অশোক বলেছেন, ‘বিজেপি চুপ করে বসে থাকবে না। রাজ্য সরকারকে জবাব দিতেই হবে।’ দেশজুড়ে একের পর এক কলেজ চত্বরের ভিতরে এধরনের ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে পড়ুয়ামহলে। প্রশ্ন উঠছে— নিরাপত্তা কোথায়? নজরদারি কোথায়?
❤ Support Us





