Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৩, ২০২৫

ঘোর সংকটে অনিল আম্বানি, দুর্নীতির অভিযোগে বাজেয়াপ্ত বাংলো সহ ৩ হাজার কোটির সম্পত্তি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ঘোর সংকটে অনিল আম্বানি, দুর্নীতির অভিযোগে বাজেয়াপ্ত বাংলো সহ ৩ হাজার কোটির সম্পত্তি

মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা পালি হিলে অনিল অম্বানীর পারিবারিক বাংলো থেকে দিল্লির রিলায়েন্স সেন্টার পর্যন্ত, অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থার নামে থাকা প্রায় ৩,০৮৪ কোটি টাকার সম্পত্তি প্রাথমিকভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে । রিলায়েন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান আর্থিক দুর্নীতি, ঋণ প্রতারণা এবং তহবিল বিচ্যুতি সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চলেছে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে দিল্লির মহারাজা রণজিৎ সিংহ মার্গের ‘রিলায়েন্স সেন্টার’, মুম্বাইয়ের পালি হিলের বিলাসবহুল বসতবাড়ি। পাশাপাশি নয়ডা, গাজিয়াবাদ, পুণে, থানে, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই এবং অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনও এই তালিকায় রয়েছে। মোট ৪০টি সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।

ইডি জানিয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আরএইচএফএল ও আরসিএফএল-এর মাধ্যমে ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণ যথাযথ নিয়ম মানেনি অনিল আম্বানি। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরএইচএফএল-এ প্রায় ২,৯৬৫ কোটি টাকা এবং আরসিএফএল-এ ২,০৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। তবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিনিয়োগগুলো নন-পারফর্মিং হয়ে যায়। আরএইচএফএল-এর জন্য ১,৩৫৩ কোটি টাকা এবং আরসিএফএল-এর জন্য ১,৯৮৪ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, রিলায়েন্স নিপ্পন মিউচুয়াল ফান্ডের সরাসরি বিনিয়োগ সেবি-এর স্বার্থ সংঘাত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। অনিল আম্বানি তখন রিলায়েন্স ক্যাপিটাল ও এডিএ গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন, রানা কাপুরের সঙ্গে যোগসাজশে ইয়েস ব্যাঙ্কের তহবিলকে গ্রুপ সংস্থায় সরবরাহ করেছিলেন। এর ফলে ব্যক্তি ও বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে।

ইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়াযতেও বড়ো ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল আবেদন জমা দেওয়ার আগেই। নিরাপত্তা দলিল প্রায়ই খালি বা তারিখহীন। কিছু ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা কার্যক্রমও ছিল নগণ্য। তদন্তে প্রকাশ হয়েছে, টাকা অনিয়মিতভাবে সংযোগ সংস্থাগুলিতে পৌঁছেছে এবং তহবিলের যথাযথ ব্যবস্থাপনা হয়নি। গত কয়েক মাসে অনিল আম্বানি ও রানা কাপুরের বিরুদ্ধে জালিয়াতি লেনদেন সংক্রান্ত চার্জশিট জমা পড়েছে। এবার সে মামলায় ব্যাপক ধাক্কা খেলেনব অনিল। একাধিক বাড়ি এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তি সহ তাঁর প্রায় ৩,০৮৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কার্যত ঘরছাড়া অবস্থায় অনিল। ইতিমধ্যেই তাঁকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা চালালেও সমস্যার চাকা থেমে নেই। ইডি সূত্রে খবর, অনিল আম্বানির সংস্থা সব মিলিয়ে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগে জড়িত। আর এ মামলা খতিয়ে দেখতে সিবিআইও পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বাজেয়াপ্তির ফলে অনিলের উপর চাপ আরো বাড়বে এবং জনগণের তহবিল রক্ষা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!