Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ১২, ২০২৫

বিহারে নীতীশ-বিজেপি ফের ক্ষমতায় ? বুথফেরত সমীক্ষায় একই সুর, সিট কমছে ‘মহাগঠবন্ধন’-এর, ‘করুণ দশা’ জন সুরাজের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিহারে নীতীশ-বিজেপি ফের ক্ষমতায় ? বুথফেরত সমীক্ষায় একই সুর, সিট কমছে ‘মহাগঠবন্ধন’-এর, ‘করুণ দশা’ জন সুরাজের

বিহারের রাজনীতি নতুন সূচনার সম্মুখে অথবা পুরনো শাসনেরই পুনর্বহালের স্থবিরতা। বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফা শেষ হতেই রাজ্যের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে আবার ক্ষমতায় আসতে চলেছে এনডিএ জোট। সমস্ত এক্সিট পোলের ফলাফল একসুরে ঘোষণা করছে, নীতীশ কুমার এবং নরেন্দ্র মোদির জোট ফের ক্ষমতায় ফিরছে। বুথফেরত সমীক্ষার একটাই বার্তা— মহাগঠবন্ধনের (আরজেডি, কংগ্রেস, বামেদের জোট) মাটি সরে যাচ্ছে, আর প্রশান্ত কিশোরের নতুন দল ‘জন সুরাজ’ ভোটবাক্সে কার্যত ব্যর্থ।

২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা ১২২। এবার প্রায় প্রতিটি সমীক্ষাতেই বলা হচ্ছে, এনডিএ জোটের ৫ টি দল— জনতা দল (ইউনাইটেড), ভারতীয় জনতা পার্টি, লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস), হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা—সহজেই পার করে দেবে সেই সীমা। একদিকে এনডিএর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের শিবিরে উদ্বেগ আর অস্বস্তি বাড়ছে প্রতি মুহূর্তে। ‘দৈনিক ভাস্কর’-এর বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, এনডিএ পেতে পারে ১৪৫ থেকে ১৬০ আসন, আর মহাগঠবন্ধনকে সীমাবদ্ধ থাকতে হতে পারে ৭৩ থেকে ৯১-এর মধ্যে। মেট্রিজের পূর্বাভাসে এই ব্যবধান আরও বড়—এনডিএ ১৪৭ থেকে ১৬৭, আরজেডি–কংগ্রেস জোট ৭০ থেকে ৯০। পিপলস ইনসাইটের হিসাবে এনডিএর আসন ১৩৩ থেকে ১৪৮, মহাগঠবন্ধনের ৮৭ থেকে ১০২। পিপলস পালসের রিপোর্টে সেই চিত্র প্রায় একই—এনডিএ ১৩৩ থেকে ১৫৯, আর বিরোধী জোট ৭৫ থেকে ১০১ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সব ফলাফল একত্র করলে গড় হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এনডিএর আসন সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৫২, মহাগঠবন্ধনের প্রায় ৮৪। এর বাইরে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি গড়ে ২টি আসন, এবং অন্যান্যরা প্রায় ৫ টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমীক্ষার ভবিষ্যৎবাণী দেখে স্বভাবতই মুখে হাসি এনডিএ শিবিরে। ২০২০ সালে চিরাগ পাসওয়ানের বিদ্রোহের ধাক্কায় নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর আসন সংখ্যা নেমে গিয়েছিল ৪৩-এ। এবার সে ক্ষত যেন মুছে যাচ্ছে। একাধিক এক্সিট পোলের পূর্বাভাস বলছে, জেডিইউ একাই পেতে পারে ৫৮ থেকে ৭১ আসনের মধ্যে। বিজেপিও রয়েছে শক্ত অবস্থানে— ৬৭ থেকে ৭০ আসনের অনুমান করা হচ্ছে তাদের জন্য। অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের অবস্থান নিদারুণ করুণ। লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি, যা গতবার ৭৫ আসন পেয়ে রাজ্যের সবচেয়ে বড়ো দল ছিল, এবার নেমে যেতে পারে ৫৭ থেকে ৬৯-এ। কংগ্রেসের ফল আরো হতাশাজনক, ১১ থেকে ১৪ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন দল। বাম দলগুলিও কোনো বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারছে না বলে মনে করছে সমীক্ষক সংস্থাগুলি। তবে সবচেয়ে আলোচিত ব্যর্থতা প্রশান্ত কিশোরের। কখনো কৌশলবিদ, কখনো সমালোচক, আবার কখনো রাজনীতির নতুন মুখ— তিন ভূমিকাতেই নজর কেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে তার দল ‘জন সুরাজ পার্টি’-র গল্প নিম্নগামী। রাজ্যের নানা প্রান্ত ঘুরে, ‘জন সুরাজ যাত্রা’ চালিয়ে, পরিবর্তনের কথা বলেও তিনি ভোটের ময়দানে খুব একটা সাড়া তুলতে পারেননি। প্রায় সব এক্সিট পোলেই জন সুরাজ পার্টিকে দেখানো হয়েছে ‘শূন্য থেকে দুই’-এর মধ্যে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রশান্ত কিশোরের দলের সামান্য ভোট মহাগঠবন্ধনের ক্ষতি করে এনডিএকেই বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

তবে এবারে বিহারে ভোটদানের হার সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে। প্রথম দফায় ৬ নভেম্বর ১৮টি জেলার ১২১ আসনে ভোট পড়েছিল ৬৫.০৮ শতাংশ, দ্বিতীয় দফায় ২০টি জেলার ১২২টি আসনে ভোটের হার ৬৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে— বিহারের নির্বাচনী ইতিহাসে যা নজিরবিহীন। সাধারণত এই ধরনের উচ্চ ভোটদানকে অনেকেই ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী ঢেউ’-এর ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। কিন্তু এইবার সমীক্ষাগুলি বলছে, ভোটের এই ঢেউ বরং নীতীশ কুমার ও মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএর দিকেই যাচ্ছে। তবে গেরুয়া শিবিরের উচ্ছ্বাসের মাঝেও রয়েছে সতর্কতার সুর। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এক্সিট পোলের পূর্বাভাস সবসময় মেলে না। অনেক সময় বুথফেরত সমীক্ষা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে, আবার কখনও একেবারে নিখুঁতভাবে বাস্তবের সঙ্গে মিলেছে। সুতরাং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে এখনই সময় আসেনি। ১৪ নভেম্বর, গণনার দিনেই স্পষ্ট হবে বিহারের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোনদিকে যাবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!