- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২৩, ২০২৬
অদিতি মুন্সীর মামলা লড়ে দলের অন্দরেই চাপে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়িকা অদিতি মুন্সীর হয়ে আদালতে সওয়াল করাকে কেন্দ্র করে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরই নয়, দলের অন্দর থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে প্রশ্ন। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিপিএম সমর্থক থেকে শুরু করে দলের তরুণ নেতারাও।
রাজাহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। অভিযোগ, নির্বাচনী হলফনামায় তিনি সম্পত্তির সঠিক তথ্য দেননি এবং বিপুল সম্পত্তির হিসাব গোপন করেছেন। জমি বিক্রির তথ্যও উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীর। সরকার বদলের পর আয় বহির্ভূত সম্পত্তি এবং হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে গ্রেফতারির আশঙ্কা করছেন অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। তাঁদের পক্ষেই আদালতে মামলা লড়ছেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি কি মামলা লড়ব না? আইনজীবী হিসেবে কেউ বিচার চাইতে এলে তাঁকে কি বলব, আপনি সিপিএম করেন না বলে আমি মামলা নেব না?’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলে তাঁদের হয়েও কি তিনি মামলা লড়বেন— এই প্রশ্নের জবাবে বিকাশের বক্তব্য, ‘মমতা-অভিষেক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এরা বিজেপির নেতৃত্বে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতি করেছে। এরা তো চুনোপুঁটি। এর আগেও আমি মুকুল রায়ের হয়ে মামলা লড়েছি। সব্যসাচী দত্তর হয়েও মামলা করেছি। রাজনৈতিক দল বদলাতে পারে, কিন্তু আমার পেশাগত আদর্শ আলাদা। কেউ বিচার চাইতে এলে, দর্শনগত বিরোধ না থাকলে আমি মামলা লড়ব।’ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের এই ‘দর্শনগত বিরোধ’ না থাকলে বক্তব্যে বিশিষ্টরা প্রশ্ন করছেন, তাহলে কি ধরে নিতে পারা যায় দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সীর দর্শন ও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মধ্যে দর্শনগত কোনো প্রভেদ নেই? বিজেপির সমালোচনারও কড়া জবাব দেন বিকাশ। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির মধ্যে মস্তিষ্কের ঘাটতি হলে কিছু বলার নেই। কোনো বিজেপি নেতার হার্ট অ্যাটাক হলে কি তিনি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করবেন, আপনি সিপিএম না বিজেপি?’
এ ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা আরও বেড়েছে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে। নাম না করে দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি কটাক্ষ করেন, “যিনি নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রণী যোদ্ধা বলে তুলে ধরেন, তিনিই এখন দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও তাঁর স্বামীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করছেন। অথচ তিনিই আবার আদালতে যুক্তি দেন, ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। এই দ্বিচারিতা বিস্ময়কর।’ তিনি আরও লেখেন, ‘পেশাগত দায়িত্বকে সবসময় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। একদিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে নিশানা করা হচ্ছে, অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্তদের পক্ষেও সওয়াল করা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— বিজেপি ও সিপিআই(এম)-এর মধ্যে কোনো অন্তর্নিহিত সমঝোতা রয়েছে কি?’
শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, বাম সমর্থকদের একাংশও ক্ষুব্ধ। নাট্যকার ও সিপিএম সমর্থক সৌরভ পালোধি ফেসবুকে লেখেন, ‘যে দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে হাজার হাজার পার্টি কর্মী খুন হয়েছে, সেই দলের নেতাদের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন? এটাকেই আবার ‘কাজ’ বলে ব্যাখ্যা করবেন? এটা কেমন কমরেডশিপ?’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা আদর্শ আঁকড়ে রয়েছি। জিতেছে বলে দল করিনি। আপনি বহুবার সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন। সেই আপনি আজ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হয়ে আদালতে দাঁড়াচ্ছেন?’ সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ-ও একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে এক সমর্থক তাঁর রিক্সাচালক বাবার উদাহরণ টেনে লেখেন— অর্থের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তিনি ভোটের দিনে কংগ্রেস নেতার হয়ে রিক্সা চালাননি। সেই পোস্ট ঘিরেও বাম শিবিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
❤ Support Us






