- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২৮, ২০২৩
খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দফতরের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দফতরের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলের কল সেন্টার তৈরিতে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ করেন। বিরোধী দলনেতা দাবি করলেন, তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক এর ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে টেন্ডার পাইয়ে দিতে বেআইনিভাবে শর্ত আরোপ করা হয়েছে টেন্ডারে। আর গোটাটাই হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতিতে। এদিকে শুভেন্দুর এই অভিযোগের বিরোধিতা করে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “কাউকে বেআইনি ভাবে কোনও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়নি। শুভেন্দু রাজ্যপালকে বলেছেন ব্যবস্থা নিতে আমি রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে বলছি, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে সারদা, নারোদা কেসে সিবিআই-র এফআইআর নেমড , চোর,বাঁচার জন্য অমিত শাহের পা চেটেছে, সে আবার লম্বা লম্বা কথা বলছে। ওকে গ্রেফতার করতে হবে।”
শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২২ সালে মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলের কল সেন্টার তৈরির জন্য তথ্য প্রযুক্তি দফতরকে নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার। তথ্য প্রযুক্তি দফতর রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা ওয়েবেলকে টেন্ডার ডাকার নির্দেশ দেয়। সেই মতো টেন্ডারে অংশগ্রহণের শর্ত তৈরি করে টেন্ডার ডাকে ওয়েবেল। সেই টেন্ডারে বিড পায় দিল্লির একটি সংস্থা।
শুভেন্দুবাবুর দাবি, এই সংস্থাটি তৃণমূলের পছন্দের না হওয়ায় ওয়েবেলকে টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ দিতে শুরু করে নবান্ন। কিন্তু ওয়েবেলের কর্তারা তাতে রাজি হননি, তাঁরা বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে তাঁরা কাজ করতে পারবেন না। টেন্ডার বাতিল করলে বেআইনি কাজ হবে বলে জানান তাঁরা। এর পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের কাছ থেকে টেন্ডার ডাকার দায়িত্ব হোম পার দফতরকে দেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকা। এর পর ডাব্লিউটিএল-কে টেন্ডার ডাকার দায়িত্ব দেয় হোম পার দফতর। দায়িত্ব পেয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের নতুন শর্ত আরোপ করে ডাব্লিউটিএল. তারা জানায়, টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে গেলে কলকাতায় অন্তত ২০০ আসনের কল সেন্টার স্থাপনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শুভেন্দুবাবুর দাবি, এর ফলে ১৫২ কোটি টাকার টেন্ডারটি জেতে আইপ্যাক-এর ঘনিষ্ঠ একটি সংস্থা।
শুভেন্দু আরও বলেন, টেন্ডার জিতেই ৩৫০ জন কর্মী নিয়োগ করে ওই সংস্থাটি। আর এরা প্রত্যেকেই আইপ্যাক-এর কর্মী। রাজ্য সরকারের কাজের পাশাপাশি তৃণমূলের হয়েও কাজ করে এরা। এমনকী পঞ্চায়েতে আসন্ন বোর্ড গঠনে এরাই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের করের টাকায় সাধারণ মানুষকেই ভুল বোঝাতে ছেলে- মেয়েদের নিয়োগ করছে আইপ্যাক, এই অভিযোগের সমর্থনে সমস্ত নথি তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি জানান, এই নথি কয়েকজন আইএএস আধিকারিক তাঁকে দিয়েছেন। বেশ কিছু নথি সংবাদমাধ্যমের হাতেও তুলে দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মন্ত্রীদের ঘরে দুজন করে আইপ্যাক-এর কর্মী বসিয়ে রাখেন। ওনার সরকারের মন্ত্রীদের কাজে তারা নজরদারি করে। এই রাজ্যের মন্ত্রীদের কোনও সম্মান নেই।”
❤ Support Us






