Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৫, ২০২৫

শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ, অগ্নিগর্ভ কোচবিহার। কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ, অগ্নিগর্ভ কোচবিহার। কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের

বিরোধী দলনেতার কনভয়ে হামলা ! তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারে। মঙ্গলবার, নিউ কোচবিহার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কালো পতাকা হাতে জমায়েত করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় পৌঁছতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ইট, বাঁশ, লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয় কনভয়ে। ভাঙচুর হয় একাধিক গাড়ি। এত বড়ো আক্রমণ প্রশাসনের চোখের সামনে ঘটে গেলেও পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় থেকেছে বলে অভিযোগ। যদিও সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে শাসকদল তৃণমূল।

বিজেপি সূত্রের খবর, কোচবিহারে দলের একাধিক বিধায়কের উপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে জেলা পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। কলকাতা থেকে বিমানে বাগডোগরা, সেখান থেকে রোড কনভয় করে কোচবিহারের দিকে আসছিলেন শুভেন্দু। বেলা ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ তাঁর কনভয় খাগড়াবাড়ি এলাকায় পৌঁছতেই শুরু হয় গণ্ডগোল। থমকে দাঁড়ায় তাঁর কনভয়। অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা কালো পতাকা নিয়ে কনভয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। ভাঙে গাড়ির কাচ। বাঁশ-লাঠি নিয়ে চালানো হয় আঘাত। এই ‘হামলায়’ কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কি না, এখনো জানা যায় নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ যতই চড়ছিল, পরিস্থিতি ততই জটিল হয়ে উঠছিল। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত বলেই মত স্থানীয়দের একাংশের। কয়েক মিনিটের মধ্যে শুভেন্দুর কনভয় সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনো পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো বিবৃতি মেলেনি।

বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, ‘পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি তৃণমূলের সহযোগী হয়ে উঠেছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার উপর হামলা হচ্ছে আর পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।‘ তিনি আরো দাবি করেছেন, ‘যে ভাবে গাড়িগুলির উপর ইটবৃষ্টি হয়েছে, তাতে স্পষ্ট, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা।’ তৃণমূল অবশ্য বিজেপির সমস্ত অভিযোগই নস্যাৎ করেছে। শাসকদলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেছেন, ‘বাংলা ভাষার অপমানের প্রতিবাদে রাজ্যের নানা প্রান্তে কর্মসূচি চলছে। কোচবিহারেও সাধারণ মানুষ ও মহিলা কর্মীরা কালো পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। কোনো হামলা হয়নি। বিজেপি ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করছে।’ তৃণমূল নেতা, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর মন্ত্রী উদয়ন গুহর কটাক্ষ, ‘বাংলাকে অপমান করলে জনরোষের মুখে পড়তেই হবে। ওঁরা যেখানে যাবেন, সেখানেই প্রতিবাদ হবে। তবে সহিংসতার অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কালো পতাকা দেখানো, স্লোগান, সবই গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ।’ বিক্ষোভ, ইট ছোড়া, কাচ ভাঙা, পাল্টা শুভেন্দুর হুংকার সব মিলিয়ে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ চড়েছে কোচবিহারে। ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই কোচবিহারে পরপর ৩ বিজেপি বিধায়কের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, পুলিশ আগে থেকেই জানত শুভেন্দুর কোচবিহারে কর্মসূচি, তবুও কেন যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, কেন ওই এলাকায় তৃণমূলের বিক্ষোভের অনুমতি দিল পুলিশ? কী ভাবে তৃণমূল কর্মীরা নিরাপত্তার বেড়াজাল ভেঙে শুভেন্দুর কনভয়ের কাছে পৌঁছে গেলেন? কেনই বা ‘হামলা’র সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!