Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৬, ২০২৫

তেজস্বীর বিরুদ্ধে পদ্ম-বাজি সতীশ কুমার, ১০১ আসনে প্রার্থী দিয়েই প্রচার শুরু শাহ-যোগীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তেজস্বীর বিরুদ্ধে পদ্ম-বাজি সতীশ কুমার, ১০১ আসনে প্রার্থী দিয়েই প্রচার শুরু শাহ-যোগীর

তেজস্বী যাদবের রাঘোপুরে এবার বিজেপির বাজি সতীশ কুমার যাদব। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয় তথা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। ১৮ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে এ তালিকায়। নয়া ঘোষণা যোগ করলে নির্ধারিত ১০১ আসনে সম্পুর্ণ প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করে দিল গেরুয়া শিবির।

রাঘোপুরে এবার হতে চলেছে হাই-ভোল্টেজ লড়াই। সেখান থেকেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি নামিয়েছে সতীশ কুমার যাদবকে, যিনি ২০১০ সালে জেডিইউ প্রার্থী হিসেবে তেজস্বীর মা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীকে পরাজিত করেছিলেন। বিজেপির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিহারের দরভাঙা জেলার আলিগড় থেকে লোক সঙ্গীতশিল্পী মৈথিলী ঠাকুর। তারাপুর ও লক্ষিসরায় যথাক্রমে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও বিজয়কুমার সিংহ। নতুন দল জন সুরজ পার্টি ২৪৩টি আসনে লড়াই ঘোষণা করলেও, তার প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশে রাঘোপুর থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চঞ্চল সিংহ। বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর নেতা দিলীপ জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ‘আমরা আমাদের জোটসঙ্গী দলের সঙ্গে একমত হয়ে বিহার নির্বাচনে লড়াই করব।’

এনডিএ-র শিবিরে জোটসঙ্গী হিসেবে রয়েছে বিজেপি, জেডিইউ, লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস), আরএলএসপি এবং হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা। জেডিইউ-র হাতে যেমন গিয়েছে ১০১টি আসন, তেমনই এলজেপি পেয়েছে ২৯টি, আরএলএসপি ও এইচএএম পেয়েছে ৬টি করে আসন। শাসক জোটের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ছিল বহুদিন ধরেই। জেডিইউ অভিযোগ তুলেছিল, তাদের কোটা থেকে কিছু ‘ক্রিম’ আসন তুলে দেওয়া হয়েছে এলজেপির ঝুলিতে। বিশেষত সোনবরসা, রাজগির, একমা ও মোরওয়া আসন না ছাড়ার সিদ্ধান্তে জেডিইউ নিজেরাই প্রার্থী নামায়। অপরদিকে বিজেপি এলজেপিকে দানাপুর, লালগঞ্জ, হিসুয়া এবং আরওয়াল ছাড়তে রাজি হয়নি, এই ৪টি হাই-প্রোফাইল আসনেই বিজেপি নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে।

প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দিন থেকেই জমে উঠছে প্রচারপর্ব। বৃহস্পতিবার থেকেই ৩ দিনের বিহার সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। থাকছেন একাধিক সাংগঠনিক বৈঠকে, হতে পারে সব শরিকদের নিয়ে বৈঠকও। জানা গিয়েছে, সমস্ত শরিক দলের প্রার্থী তালিকাও তিনিই আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করতে পারেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও বিহারে আসছেন আজই। দানাপুর ও সাহারসায় দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ২টি সভাতেও ভাষণ দেবেন। দানাপুরে বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম কৃষ্ণ যাদব, সাহারসায় প্রার্থী ডাক্তার অলোক রঞ্জন।

বিহার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট ৬ নভেম্বর, দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। প্রচারের মরশুম শুরু হতেই ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায় শুরু হয়ে গিয়েছে। তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি। তিনি বলেছেন, ‘যাঁরা নিজের পরিবারে ঐক্য রাখতে পারেন না, তাঁরা রাজ্য চালাবেন কী করে?’ পরোক্ষে তাঁর নিশানায় তেজস্বী ও তেজ প্রতাপের দ্বন্দ্ব। তিওয়ারির আরো অভিযোগ, কংগ্রেস ও আরজেডি এখনও নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। ‘রাহুল গান্ধি ও তেজস্বীর মধ্যে বিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল, বিহার বিজেপির বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘মেরা বুথ সবসে মজবুত’ কর্মসূচিতে কর্মীদের কাছে তাঁর আহ্বান, ‘প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে বলুন কী কী উপকার মিলেছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে।’ মোদি বলেছেন, ইতিমধ্যেই বিহারের ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্পের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। কর্মীদের তিনি আহ্বান জানান, ২৩ অক্টোবর ভাই-দুজের দিনে প্রতিটি বুথে মহিলা-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান করতে। আরজেডি আমলের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আজকের ১৮-২৫ বছর বয়সীরা জানেই না বিহারের সেই দুঃসময়। বহু সংগ্রামের পর বিহার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে আপনাদের ভোটের জোরেই। সেই পরিবর্তন আবারো ঘটবে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!