Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৮, ২০২৪

বিধানসভার ফলাফলের ভিত্তিতে এগিয়ে পদ্ম শিবির, দাবি শুভেন্দুর। গঙ্গার পশ্চিমপাড়ে অভিমানী মনোজ, জয়ী সাংসদের বিরুদ্ধেই উগড়ে দিলেন ক্ষোভ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিধানসভার ফলাফলের ভিত্তিতে এগিয়ে পদ্ম শিবির, দাবি শুভেন্দুর। গঙ্গার পশ্চিমপাড়ে অভিমানী মনোজ, জয়ী সাংসদের বিরুদ্ধেই উগড়ে দিলেন ক্ষোভ

নির্বাচন মিটে গেছে এক সপ্তাহ হল। ভোটের ফল প্রকাশও হয়ে গেছে। সরকার গড়তে না পারলেও ইন্ডিয়া জোটের ফলাফল বিজেপি শাসিত এন ডি এ-র রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে । কিন্তু ভোট মিটলেও ফলপ্রকাশের ‘আফটার শক’ এখনও যে কাটেনি তা বেশ স্পষ্ট । ইন্ডিয়া জোটের ফল বিজেপিকে কিছুটা ব্যাকফুটে ফেললেও এখনও দলের নেতা কর্মীরা কিছুতেই তা বিশ্বাস করতে পারছেন না।
যেমন ধরা যাক , বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। সারা রাজ্যে সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শোর বেশি সভা করেছেন তিনি। প্রতিটি সভাতে তাঁর রাজনৈতিক নিশানা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ভোটের ফল প্রকাশ হতে দেখা গেল, চিৎকারই সার। সাত লক্ষের বেশি ভোট পেয়ে ডায়মন্ডহারবারের মানুষ তৃতীয়বারের জন্য আবার তাঁকেই সংসদে পাঠাচ্ছেন। এমতাবস্থায় দলের মধ্যে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে হাওয়া উঠতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর এহেন ভূমিকায় খুব সন্তুষ্ট নয় বলে শোনা গেছে। তবে তিনি বিরোধী দলনেতা। ফলাফল চুপ করে মেনে নেওয়ার বান্দা তিনি নন । তাই যাবতীয় তর্জন গর্জন প্রকাশ করার জায়গা রূপে আপাত বেছে নিয়েছেন ‘এক্স’ হ্যান্ডেল কে। অন্তত তাঁর বার্তা সর্বস্তরে পৌঁছাক এটা চান তিনি।

আজ বিকেল নাগাদ একটি পোস্ট করেছেন তিনি। তাতে তিনি আবারও মমতা বন্দোপাধ্যায় ও তাঁর পুলিশকেই নিশানা করেছেন। তাঁর বুথ ছিল নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড় প্রাইমারি স্কুল। তাঁর পরিবারের লোকজন ভোট দিয়েছেন কাঁথির প্রভাত কুমার কলেজে। দুই কেন্দ্রের বুথ ফেরত সমীক্ষা করেছেন তিনি।তাঁর দাবি ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ওই বুথে বিজেপি পেয়েছে ৩৮০ ভোট, তৃণমূল – ১৯৮, ব্যবধান – ১৮২ । কাঁথির প্রভাত কুমার কলেজের তথ্য দিয়েছেন তিনি। তিনি জানাচ্ছেন, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সেই বুথে পেয়েছে – ৫০৫ ভোট। তৃণমূল – ৪৩২।দুইয়ের ব্যবধান – ৭৩। তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, ‘এবার মাননীয়া নিজে পর্যালোচনা করে দেখুন দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভবানীপুর বিধানসভা (উনি নিজেই এখানকার কম্পার্টমেন্টাল বিধায়ক), সেই বিধানসভা ক্ষেত্রের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি তে – ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভাল ব্যবধান এগিয়ে রয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে।’ শুভেন্দুর ইঙ্গিত লোকসভাতে তাঁর দল ধাক্কা খেলেও বিধানসভাওয়ারী ক্ষেত্রে এখনও তাঁর দল লড়াই করার জায়গায় রয়েছে।

গঙ্গার পশ্চিম পাড়ের জেলা হাওড়ায় এবার হৈ হৈ করে জিতেছেন তৃণমূলের প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়। আনন্দ, অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন একদা ‘মোহনবাগানের ঘরের ছেলে’। দলীয় কর্মী থেকে নেতৃস্থানীয় প্রত্যেকেই প্রসূনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে প্রদীপের নিচেও অন্ধকার থাকে। শিবপুরের বিধায়ক ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি আনন্দযজ্ঞে উল্টোসুর গাইছেন। আজ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মনের কোনে জমে থাকা অভিমান উজার করে দিয়েছেন তাঁর শ্রদ্ধার ‘প্রসুন দা’-কে। বিস্ফোরক তথ্য তুলে এনে মনোজ জানিয়েছেন, প্রসূন আবার সাংসদ মনোনীত হন, তা দলের অন্দরে অনেকেই মন থেকে মেনে নেননি। একথা প্রসূন নিজেও বিলক্ষণ জানতেন। কিন্তু ভোটে জিতে সেকথা বেমালুম ভুলে গিয়ে তাঁদের সাথেই ছবি তুলছেন, আনন্দ করছেন তিনি, যা দেখে অভিমান করেছেন মনোজ। তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘একটা ধন্যবাদও দিলেন না প্রসূন দা?’ শিবপুরের তৃণমূল বিধায়কের দাবি, ভোট জেতানোর একটা প্রক্রিয়া থাকে, যা করেছেন তিনি এবং তাঁর দলের লোকজন। সে কথা ভুলে কি করে আনন্দে ভেসে গেলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়? একটা ন্যুনতম ধন্যবাদও কি প্রাপ্য নয় তাঁদের? মনোজের এই অভিমান আসলে কি হাওড়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের এক ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গমাত্র ? নাকি বিস্ফোরণের পূর্বাভাষ ?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!