- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- নভেম্বর ১৭, ২০২৫
মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার ? রায় ঘোষণা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে। আবার উত্তাল ঢাকা
২০২৪ এর জুলাইতে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের ওপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ ও সেনাবাহিনী । মানবতাবিরোধী ঘটনার অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার আজ রায় ঘোষণা । মামলার শুনানির সময় দুই অভিযুক্ত হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে প্রসিকিউটররা ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার আগে উত্তাল ঢাকা । রবিবার রাত থেকেই রাজধানীতে বিভিন্ন অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে ঘটনা শুরু হয়েছে। সোমবার সকালেও প্রতিবাদ অব্যাহত। আজ গোটা ঢাকা অচল করার হুমকি দিয়েছে হাসিনার সমর্থকরা । প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই অবৈধ বিচারের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন তারা। মশাল জালিয়ে সমর্থকরা প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয় । বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । ভারত থেকে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটা অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই বার্তায় দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি বেঁচে আছি। আমি বেঁচে থাকব। আমি দেশের জনগণকে সমর্থন করব ।’
মামলার তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র–জনতার আন্দোলনে গুলি চালিয়ে ১৫০০–রও বেশি নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ওই ছাত্র–জনতার আন্দোলনে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়। মামলার শুনানিতে সরকারপক্ষের প্রসিকিউটর বারবার উল্লেখ করেছেন যে, গতবছর জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের সময় যে দমননীতি সরকার গ্রহন করেছিল, তার পরিকল্পনা করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই কঠোর দমননীতির নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর সেই নির্দেশ কার্যকর করেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক চৌধুরি আবদুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে মামলা করা হয়েছিল। হাসিনা ও আসাদুজ্জামান দেশ ছেড়ে এখন ভারতে রয়েছেন। গ্রেফতার হওয়া চৌধুরি আবদুল্লাহ আল–মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারণাস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে তিনি সেই নির্দেশ পেয়েছিলেন।
মামলার শুনানির সময় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে প্রসিকিউটররা। পাশাপাশি তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গনঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারবর্গকে বন্টন করার আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা। বিচারপতি গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহাম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১–এর এজলাস থেকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
মানবতাবিরোধী মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলি হল, উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান, মারনাস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করার নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ৬ জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা। সরকার পক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে সাজা হলেও শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন না। কারণ, তাঁরা দেশ ছেড়ে পলাতক। ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা আছে, রায় দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। তবে আপিলের সুযোগ নিতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হয়। অথবা গ্রেফতার হলে আপিলের সুযোগ পাবেন ।
❤ Support Us






