Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫

উত্তরবঙ্গের আকাশে রহস্যময় আগুনের গোলা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তরবঙ্গের আকাশে রহস্যময় আগুনের গোলা

বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের সন্ধ্যাকাশের অন্ধকারে এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয়রা। জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের আকাশ চিরে গেছে একটি উজ্জ্বল আলোকবল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তীব্র গতিতে ধেয়ে যেতে দেখা যায় আগুনের মতো সে বস্তুটি। সঙ্গে ভয়ঙ্কর গর্জন, বিস্ফোরণের মতো শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ।

শুরুর দিকে বস্তুটির প্রকৃতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কেউ বলেন ধূমকেতু, কেউ আবার মন্তব্য করেন, এটি কোনো মহাকাশযানের অংশ। শুক্রবার সকালে রহস্যের পর্দা ওঠে। হরিরামপুর থানার লঘুচরে এক কৃষকের জমি থেকে উদ্ধার হয় বড়ো মাপের উল্কাপিণ্ড। স্থানীয় সূত্রের খবর, রাতের আকাশে যা দেখা গিয়েছিল, তা ওই উল্কাপিণ্ডেরই অংশ ছিল। উদ্ধারকৃত উল্কাটি কালচে-সবুজ রঙের এবং এর ওজন প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম। মহাজাগতিক বস্তু দেখতে স্থানীয়দের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তুটি সংগ্রহ করে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও তদন্তে নামেন। উল্কাপিণ্ড উদ্ধার হওয়ায় জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।

স্কাইওয়াচার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেবাশিস সরকার বলেন, ‘উজ্জ্বলতা এবং বিস্তৃত এলাকায় দৃশ্যমানতা বিবেচনা করলে এটি নিশ্চিতভাবেই উল্কাপাত। চিনা রকেট বা অন্য কোনো মহাকাশ যানবাহনের পুনঃপ্রবেশ নয়। যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা গুজব।’ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কিছুদিন আগে ‘জেমিনিড’ উল্কাবৃষ্টি হয়েছে। শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তা দেখা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতের আকাশে যে আগুনের গোলার মতো দৃশ্য দেখা গেছে, সেটি ‘জেমিনিড’ উল্কারই একটি অংশ। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা উল্কাপিণ্ডগুলি একত্রিত হয়ে আগুনের গোলার আকার ধারণ করেছিল।

তুফানগঞ্জের মানুষ এই দৃশ্য দেখে অভিভূত হন। মুহূর্তের মধ্যেই অন্ধকার রাতের আকাশে জ্বলন্ত আলোর রেখা ছড়িয়ে যায়, যা শহরের আলোকেও হার মানায়। প্রকৃতির এক বিরল ও অভূতপূর্ব প্রদর্শনী, কয়েক সেকেন্ডের আলোকবিন্দু হলেও তা স্থানীয়দের মনে ভয়-উদ্দীপনা ও কৌতূহলের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!