Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৪, ২০২৫

রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর? রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মোদী ও শাহের বৈঠকে জল্পনা তীব্র

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর? রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মোদী ও শাহের বৈঠকে জল্পনা তীব্র

‌জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মর্যাদা কি আবার পুনরুদ্ধার করা হবে?‌ মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের বর্ষপূর্তি। তার আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পরপর সাক্ষাৎ এই জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কয়েক ঘন্টা পর রাষ্ট্রপতি ভবনে হাজির হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মুর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। এই ধরণের বৈঠকের পর সাধারণত রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু রবিবার বৈঠকের পরে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আগস্টের প্রথম দু’‌দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপি প্রধান সত শর্মা এবং লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্তার সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের শিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান রাজা আনসারি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করতে অমিত শাহের সাথে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার এনডিএ সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও ডেকেছেন। এর থেকেই জল্পনা বাড়ছে যে, জম্মু ও কাশ্মীরকে আবার রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
দিল্লিতে এই ব্যস্ত বৈঠকগুলি বিশেষজ্ঞদের নজর এড়ায়নি। অনেকের অনুমান, এই বৈঠকগুলি জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইন আনার নিয়ে আসার প্রয়াস হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তা এবং লেখক কানোওয়াল জিৎ সিং ধিলন, এক্স–এ লিখেছেন, ‘‌মানুষের জীবনের বিরাট মূল্য দিয়ে কাশ্মীরে শান্তি এসেছে। আমাদের তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। যেহেতু শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য একত্রীকরণের পর্ব চলছে, আগে পুরো বিষয়টি থিতু হোক।’‌ রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরতি টিকু সিংও বলেছেন, জোর গুজব ছড়িয়ে পড়ছে যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তিনি লিখেছেন, ‘‌আরও অদ্ভুত ব্যাপার হল, গুজব রটেছে যে কাশ্মীর এবং জম্মুকে আলাদা করে দুটি পৃথক রাজ্যে পুনর্গঠিত করা হবে। যদি দুটির মধ্যে একটিও সত্য হয়, তাহলে এর চেয়ে ভয়াবহ আর কিছু হতে পারে না।’‌
২০১৯ সালে ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিল করার পাশাপাশি, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন, ২০১৯–এর অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। এটা কেবল মাত্র জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভা ভেঙে দেয়নি বরং প্রশাসনকে একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মাধ্যমে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে রাখে। তারপর থেকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ দুজনই কোনও সময়সীমা না দিয়ে বেশ কয়েকবার জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট ৩৭০ ধারা বাতিলের রায় বহাল রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেয়। সরকার আদালতকে আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৪ সালে রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই দাবি আরও জোরদার হয়। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং তার মিত্র কংগ্রেস রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এমনও গুজব রয়েছে যে, জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও ইঙ্গিত দেওয়া হতে পারে। কারণ পূর্ববর্তী যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন এটা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!