- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৬, ২০২৫
হাইকোর্টে খারিজ এসএসসি বিজ্ঞপ্তি মামলার সব আবেদন, নিয়োগ চলবে পুরনো বিধি মেনে
শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় বড়ো স্বস্তি পেল রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, ৩০ মে প্রকাশিত এসএসসি-র নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একেবারেই বৈধ। ওই বিজ্ঞপ্তি এবং নতুন বিধিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া যাবতীয় আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের বেঞ্চ। আদালতের সাফ কথা— নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে কমিশনের নির্ধারিত নিয়মে, সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত। গত সোমবার এ মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল। ৩ দিনের অপেক্ষার পর এদিন দুপুরে রায় ঘোষণা করে ডিভিশন বেঞ্চ। রায়ে আদালত বলেছে, আবেদনকারীরা যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন— তা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
মামলাকারীদের মূল আপত্তির জায়গা ছিল, ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ার বদলে কমিশন নতুন করে ২০২৫ সালের নিয়োগ বিধি তৈরি করেছে, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন। তাঁদের দাবি, আগের বিধি অনুযায়ীই নিয়োগ হওয়া উচিত। পাশাপাশি চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর, লিখিত পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো, শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর কমানো, এমনকি বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার মতো একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। ২০১৬ সালে যত শূন্যপদ ছিল, এ বার বে-আইনি ভাবে তা প্রায় সাড়ে ৩০০ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের তরফে অভিযোগ করা হয়। শুনানিতে বিচারপতি সৌমেন সেন বলেন, ‘নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন যোগ্যতামান ধার্য করা হবে, তা ঠিক করার অধিকার কমিশনের রয়েছে। কোনো আদালত সে সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, যদি না তা আইনের পরিপন্থী হয়।’ তাঁর মতে, কমিশন যদি মনে করে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলে সেই অনুযায়ী নম্বর নির্ধারণ করতেই পারে। একই সঙ্গে আদালতের মন্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট কোথাও বলেনি যে ২০১৬ সালের নিয়োগবিধি মেনেই নিয়োগ চালাতে হবে। তবে হাইকোর্টের এদিনের রায়ে আরো একবার স্পষ্ট করা হয়েছে, যাঁরা আগের নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত বলে ‘চিহ্নিত’, তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। অর্থাৎ ‘চিহ্নিত অযোগ্য’ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আগের নির্দেশ মতো নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।
রায় ঘোষণার পর রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা রাজ্য ও এসএসসির এক ঐতিহাসিক জয়। আদালত বুঝিয়ে দিল, অযৌক্তিক আবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রাখা যায় না।’ রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে যুক্তি দেন, ‘এসএসসি নিয়ম মেনেই নতুন বিধি তৈরি করেছে। সে প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হলে এবার আবেদনকারীদের সুপ্রিম কোর্টেই যেতে হবে।’ অন্য দিকে মামলাকারীদের আইনজীবীরা বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ার পর, নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই অনুযায়ী ৩০ মে নতুন নিয়োগবিধি প্রকাশ করে এসএসসি। নতুন বিজ্ঞপ্তির বেশ কয়েকটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা হয়। অবশেষে আদালতের রায়ে বহাল রইল এসএসসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
❤ Support Us






