- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৫
২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে কী বার্তা হাইকোর্টের ?
২১ জুলাই কলকাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। এই সভা নিয়ে বৃহস্পতিবার কড়া অবস্থান বুঝিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী সোমবার ২১ জুলাই, সপ্তাহের প্রথম দিন, তৃণমূল ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে রাস্তা জুড়ে শহিদ দিবস পালন করবে। রাজ্যের সব জেলাতেই এই সভায় যোগদানের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। রীতিমতো সভা করে বেশি লোক আনতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে তৃণমূলকর্মীদের তৃণমূল নেতারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের সভায় যোগদানের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও একাধিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। এরই মধ্যে রাস্তা আটকে এই সভা নিয়ে একটি মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।
এই মামলার শুনানি চলার সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মুচলেকা দিয়ে বলুন, এই সভার জন্য যানজট হবে না। মানুষ কতোদিন সহ্য করবেন এসব ?
আদালতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, ২১ জুলাইয়ের আগে এরকম মামলা হয়, তারপর যারা মামলা করেন তারা এসব ভুলে যান।
প্রসঙ্গত, ২১ জুলাই এই সভার ফলে কলকাতার রাজপথে যানজটের আশঙ্কা নিয়ে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয় মামলাকারীদের তরফে। যদিও সেই চিঠির উত্তর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্য আগে একাধিকবার এই অবস্থান নিয়েছে যে ওই এলাকায় কর্মসূচি করলে যানজট হবে, মানুষের অসুবিধা হবে, সওয়াল মামলাকারীর। তা নিয়ে এদিন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, মামলাকারীরা পুলিশকে চিঠি দিয়ে তাদের যানজটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, পুলিশ কেন উত্তর দেননি ?
এদিন মামলার শুনানি চলার সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেন, “এই অনুষ্ঠান তো ২০১১ সালে ব্রিগেডে হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসকেও মুচলেকা দিয়ে বলতে হবে যে তারা সামনের বছর থেকে সভা ব্রিগেড, শহিদ মিনার, সল্টলেক স্টেডিয়াম বা অন্য কোথাও করবে।” তিনি এটাও বলেন, “আমি এখন এই কর্মসূচিতে হাত দিচ্ছি না, হলফনামার আদান প্রদান করে সম্পূর্ণ শুনানি হবে। রাজ্য নির্দিষ্ট করে একটা জায়গা ঠিক করে রাখুক যেখানে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি হবে।”
পাশাপাশি বিচারপতি বলেন, “সকাল ১১ টা পর্যন্ত মানুষের যাতে অফিস যেতে কোনও অসুবিধা না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “তৃণমূল ভেবেই নিয়েছে যে ওই জায়গাটা ওদের পৈতৃক সম্পত্তি। ওঁরা ছাড়া আর কেউ ওখানে সভা করতে পারবে না।”
প্রসঙ্গত অফিসের দিন বা অন্যদিন রাস্তা আটকে সভা সমিতি করলে শাসকদল তৃণমূল তাতে বিরোধিতা করে। কর্মদিবস নষ্ট হবে এই যুক্তি দিয়ে কেন্দ্রের নতুন শ্রমকোডের বিরুদ্ধে শ্রমিক ধর্মঘটের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ করেছে তৃণমূল। তাই সেই দল যখন কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তা আটকে, অফিসের দিনে ২১ জুলাইয়ের সভা করে তখন বিরোধিরা এবং সাধারণ মানুষ যে সমালোচনা করবেই সেটা বলা বাহুল্য।
❤ Support Us






