- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ডিসেম্বর ১, ২০২৫
গ্রুপ সি, ডি বিভাগের ৭,২৯৩ জন ‘দাগি’ প্রার্থীর নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে হবে, এসএসসিকে, নির্দেশ হাইকোর্টের
পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ সি, ডি-এর নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফর্ম ফিল-আপের তারিখ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরই মধ্যে ‘দাগি’ প্রার্থীদের তালিকা ফের বিতর্কের মুখে এসএসসি। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা বুধবার আদালতে স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছেন, গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি-র ৭,২৯৩ জন দাগি প্রার্থীর সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তালিকায় থাকবে প্রার্থীর নাম, রোল নম্বর, বাবা বা অভিভাবকের নাম এবং ঠিকানা।
ইতিমধ্যেই ৩,৫১২ জন অশিক্ষক কর্মী এবং ১,৮০৬ জন নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষিকার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তবে আদালত বলেছেন, যাদের তালিকা এখননো প্রকাশ করা হয়নি, তাদের সমস্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়াও আউট অফ প্যানেল, র্যাঙ্ক জাম্প এবং ওএমআর মিস ম্যাচের তথ্যও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিচারপতির নির্দেশ, তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্যানেল প্রকাশের পর যারা চাকরি পরীক্ষাতে বসেছেন, তাদের তালিকাও আদালতে জমা দিতে হবে।
২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ২৬,০০০ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও অভিযোগ উঠেছিল, কিছু ‘দাগি’ প্রার্থী চাকরিতে সুযোগ পেয়েছেন। বুধবার আদালতে অভিযোগকারীরা জানান, কিছু যোগ্য প্রার্থীর নাম ভুলক্রমে অযোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিচারপতি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জরুরি শুনানির অনুমতি দেন। এসএসসি জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৩,৫১২ জন অশিক্ষক কর্মীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে এবার সমস্ত ৭,২৯৩ জনের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সূত্রের খবর, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যারা দাগি চিহ্নিত, তাদের কোনো সুযোগ থাকবে না। বাকি প্রার্থীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট পূর্বে জানিয়েছিল, পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হবে না। এই তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আদালতের নজরদারিতে রাখা হবে।
অন্যদিকে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ২০১৬ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার খারিজ করেছে। আদালত জানিয়েছে, পূর্বের রায়ই বহাল থাকবে এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না। শীর্ষ আদালত স্বীকার করেছে, সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হওয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেছেন, যাঁরা সত্যিই যোগ্য, তাঁরা পুনরায় নিয়োগের সুযোগ পাবেন। ২০১৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগে বাতিল করা ওই প্যানেলের কারণে বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্য কমিশনকে চলতি বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। তবে নতুন নিয়োগে ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীদের কোনো সুযোগ নেই এ বিষয়ে শীর্ষ আদালত অনড়। তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে। বাকিরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন। এসএসসি ইতিমধ্যেই নতুন পরীক্ষা নিয়েছে এবং নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। আদালত আরও জানিয়েছে, এক জন ‘দাগি’ প্রার্থীকেও চাকরি দেওয়া যাবে না। যদিও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু ‘দাগি’ প্রতিবন্ধী প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এসএসসি চেষ্টা করেছিল, হাইকোর্ট আগেই তা বাতিল করেছে। বাকি সমস্ত বিষয় হাইকোর্ট দেখবে, সুপ্রিম কোর্ট আপাতত এ সংক্রান্ত আর কোনো মামলা শুনবে না। তবে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে সমস্যা দেখা দিলে পুনরায় শীর্ষ আদালতে আবেদন করা যাবে।
❤ Support Us





