- দে । শ
- মার্চ ২৮, ২০২৫
গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত মালদার মোথাবাড়ি, এপর্যন্ত গ্রেফতার ৩৪ । ঘটনার এনআইএ তদন্তের দাবি বিজেপির । জেলাশাসকের রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
বৃহস্পতিবার থেকে ২ গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত মালদার মোথাবাড়ি। হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে সরব বিজেপি। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬ টি মামলা রুজু করা হয়েছে। অশান্তির নেপথ্যে থাকা অন্তত ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে পুলিশি পিকেট বসানো হয়েছে, চলছে টহলদারি। পুলিশকে সাহায্য করতে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বাহিনী রয়েছে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তৎক্ষণাত পদক্ষেপ নিচ্ছেন পুলিশ ও আধিকারিকরা। যদিও, মালদা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের তরফ থেকে কোনো কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হয়নি, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতয়েনও করা হয়নি কোথাও। আমজনতার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো গুজব বা অশান্তির প্ররোচনায় পা না দিতে। শুধুমাত্র স্বীকৃত সরকারি সূত্র মারফত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা তথ্যের উপরেই যেন নির্ভর করা হয়। এরপরেও যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব বা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে মালদার ঘটনার, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এনআইএ তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা, আইনজীবি তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। শুক্রবার মামলার শুনানিতে পুলিশ সুপার-জেলাশাসকের রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। মালদার ঘটনায় প্রশাসন কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা বিস্তারিত জানাতে হবে রিপোর্টে। আগামী বুধবার রিপোর্ট জমা করতে হবে। এদিন বিচারপতির বলেছেন, ‘ঘটনার স্পর্শকাতরতা দেখে মনে হয় রাজ্যের প্রথম দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। এই মুহূর্তে কেন্দ্রের ভূমিকা রাখবার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।আমরা সবাই চাই শান্তি। রাজ্য সরকার যদি তা দিয়ে ব্যর্থ হয়, তখন দেখা যাবে।’
একইসঙ্গে বিচারপতি মোথাবাড়িতে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজ্যকে ফেসবুক লাইভ ও ভিডিও ফুটেজ-সহ যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় ২ টো দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ওই এলাকায় ৫ জন ডিএসপি, ৭ জন ইন্সপেক্টরের অধীনে মোট ৭০০ জন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে, বিএসএফ-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সীমান্তবর্তী মোথাবাড়ি-সহ আশেপাশের এলাকায় ৮৭ জন জওয়ানকে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের সহযোগিতা করার জন্য।
বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত একতি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, মালদা জেলার মোথাবাড়িতে হিন্দুদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি এও অভিযোগ করেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। তাঁর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায় কিছু যুবককে ধর্মীয় পতাকা হাতে মিছিল করছে। এরপর ভিডিয়োটিতে দেখা যায় রাস্তার পাশে দোকানের ভাঙা শেড। এই ভিডিও-এর সূত্র ধরে রাজ্য সরকারকে বিদ্ধ করেন সুকান্ত। তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের হিন্দুদের অস্তিত্ব ক্রমশ বিপদের সম্মুখীন করছেন। আজকের দক্ষিণ মালদার মোথাবাড়ি অঞ্চলের চৌরঙ্গী মোড়ের এই ভয়াবহ দৃশ্য। এখন পর্যন্ত ৬০-৭০টি হিন্দু দোকান ভাঙচুর হয়ে লুঠের শিকার হয়েছে, হিন্দুদের বাড়িঘর আক্রান্ত হয়েছে এবং রাস্তার মধ্যে গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। পুরো এলাকা আতঙ্কিত, কিন্তু পুলিশকে কোনো জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে না!’
❤ Support Us





