Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ১, ২০২৫

রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে ফরেন্সিক অডিট করুক ক্যাগ, নির্দেশ হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে ফরেন্সিক অডিট করুক ক্যাগ, নির্দেশ হাইকোর্টের

বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালিতে আমানত করে প্রতারিতদের টাকা ফেরানোর জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে সেই শেঠ কমিটির বিরুদ্ধেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর আদালত ফরেন্সিক অডিটের নির্দেশ দেয়। শুরুতে ওই দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)-কে। কিন্তু সেবি জানিয়েছে, এই ধরনের কাজের জন্য তাদের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও দক্ষ কর্মী নেই। ফলে আদালত এবার অডিটের দায়িত্ব দিতে চাইছে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহা-নিরীক্ষক দপ্তর (CAG)-কে।

বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ৭ নভেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রকে জানাতে হবে ক্যাগ এই দায়িত্ব নিতে পারবে কি না। শুক্রবারের শুনানিতে বিচারপতি ভরদ্বাজ বলেন, “সেবি যদি ফরেন্সিক অডিটে অনিচ্ছুক হয়ও, আদালত চুপ করে বসে থাকতে পারে না। আমরা এমনকি সিবিআইয়ের সহায়তাও নিতে বলেছিলাম, কিন্তু সেবি তা এড়িয়ে গেছে। তদন্ত তো করাতেই হবে।”

অন্যদিকে, বিচারপতি শেঠ কমিটির আইনজীবী বলেন, তদন্ত হোক, তবে সেটিকে “ফরেন্সিক অডিট” না বলা হোক, কারণ এতে ভুল বার্তা যাবে। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সব হিসেবপত্র খতিয়ে দেখেই ফরেন্সিক অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাই তা থেকে পিছিয়ে আসা যাবে না।

এদিকে, ইডির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আমানতকারীদের আইনজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, ইডি কার্যত শেঠ কমিটির হয়ে কাজ করছে। ওয়েবেল নামে রাজ্য সরকারের সংস্থার প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করে ইডি অন্য একটি বেসরকারি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আদালত তাতে তীব্র আপত্তি জানায়। বিচারপতি ভরদ্বাজ বলেন, “তালুকদার কমিটির ক্ষেত্রে ওয়েবেল খুব ভালো কাজ করেছে—তার প্রমাণ রয়েছে। তাহলে এখন ওদের অযোগ্য বলা হচ্ছে কেন? বাইরের কোম্পানিকে আনলে তাদের পারিশ্রমিক কে দেবে? আমানতকারীদের টাকায় এই খরচ চলবে না। কেন্দ্র যদি চায়, তবে সেই খরচ বহন করুক।”

ইডির আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “ইডি এত কথা বলছে, অথচ মাত্র ৫০০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। বাকি ১৭ হাজার কোটি কোথায় গেল? এতদিন কী করা হয়েছে? কমিটিই বা কী কাজ করেছে?” আদালতের নির্দেশ, প্রথমে ফরেন্সিক অডিট সম্পন্ন করতে হবে, তার পরেই সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে।

এদিন আলকেমিস্ট গ্রুপ সম্পর্কিত নতুন প্রতারণার অভিযোগও আদালতের নজরে আসে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, অ্যালকেমিস্ট গ্রুপের অধীন মোট কত সংস্থা রয়েছে এবং তাতে কত পরিমাণ অর্থ লগ্নি করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসেব আগামী শুনানিতে পেশ করতে হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!