- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ৮, ২০২৫
অনন্তকাল ধরে বিল আটকে রাখা স্বেচ্ছাচারিতা, আইন বহিভূর্ত কাজ । রাজ্যপালের ক্ষমতা প্রসঙ্গে রায় শীর্ষ আদালতের
অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বারবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপাল সংঘাত দেখা গিয়েছে। এই আবহে রাজ্যপালের ক্ষমতার এক্তিয়ার নিয়ে যুগান্তকারী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। তামিলনাড়ুর স্ট্যালিন সরকার ও সে রাজ্যের রাজ্যপাল আর এন রবির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। স্ট্যালিনের অভিযোগ রাজ্যপাল একাধিক গুরুতবপূর্ণ বিল আটকে রেখেছেন, স্বেচ্ছাচারিতা করছেন। এ সংক্রান্ত মামলায় শুনানিতে দৃষ্টান্তমূলক মন্তব্য করছে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যপালকে তাঁর ক্ষমতার গণ্ডি স্মরণ শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘ রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া বিল অনন্তকাল আটকে রাখা বে-আইনি, স্বেচ্ছাচারিতা।’
২০২১ সালে প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা, প্রাক্তন সিবিআই কর্মকর্তা আর এন রবি তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের পদে যোগদান করেন। তার পর থেকেই তামিলনাড়ু সরকারের এম কে স্টালিনের সঙ্গে তাঁর নানা বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়।ডিএমকে সরকার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তিনি বিজেপির মুখপাত্রের মতো কাজ করছেন। তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাস হওয়া ১০ টি বিল রাজ্যপাল আটকে রেখেছেন, এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে স্ট্যালিন সরকার। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে বিচারপতি জেবি পর্দিওয়ালা ও আর মহাদেবনের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘যে ১০টি বিলকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর কথা, সেগুলি রাজ্যপাল যেভাবে আটকে রেখেছেন, তা বে-আইনি এবং স্বেচ্ছাচারিতা। রাজ্যপালের সেই পদক্ষেপ বাতিল করা হল। রাজ্যপালের কাছে পুনরায় যেদিন বিল পাঠানো হয়, সেই দিল থেকেই বিলগুলি পাস হয়ে গিয়েছে বলে ধরা হবে।’ রাজ্যপালকে ‘অসৎ’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলেও মন্তব্য করে আদালত। কোর্টের এই রায়ে উচ্ছ্বসিত এম কে স্ট্যালিন। তিনি এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ রায় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি শুধু তামিলনাড়ুর জন্য নয়, সব ভারতীয় রাজ্যের জন্য একটি বড়ো জয়। ডি এমকে রাজ্য স্বায়ত্তশাসন আর যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ধরে রাখতে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। আমরা নিশ্চিত যে আমরা একদিন জয়ী হব।’
এদিন আদালত জানিয়েছে, সংবিধানের ২০০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাজ্যসভায় পাস হওয়া বিল, রাজ্যপাল সম্মতি দিয়ে অনুমোদন দিতে পারেন অথবা পুনরায় বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন। আবার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে পারেন। রাজ্যপাল যদি কোনো বিলে সম্মতি স্থগিত রেখে সংশোধনের জন্য পাঠান, তখন সংশোধিত বিল রাজ্যপালকে অনুমোদন করতে হবে। যদি তিনি মনে করেন কোন বিল সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, মৌলিক নীতি বা জাতীয় গুরুত্বের বিষয়, কেবলমাত্র তখনই তিনি সেটি আটকে রাখতে পারেন। কিন্তু তা অনন্তকাল ধরে আটকে রাখা যাবে না। এক্ষেত্রে সময়সীমা ৩ মাস, তার মধ্যেই সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। যদি কোনো বিল পুনরায় রাজ্য পরিষদের থেকে সংশোধন হয়ে রাজ্যপালের কাছে উপস্থাপন করা হয়, সেক্ষেত্রে রাজ্যপালকে এক মাসের মধ্যে তা অনুমোদন করতে হবে। রাজ্যপালের ক্ষমতা বিষয়েও নিয়ম স্মরণ করিয়ে দিয়ে শীর্ষ আদালত বলেছে, রাজ্যপালের যে কোনো কার্যক্রম বিচারিক পর্যালোচনার আওতাধীন। এতে রাজ্যপালের ক্ষমতাকে কোনভাবেই অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে না। কিন্তু, রাজ্যপালের সমস্ত কার্যক্রম সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এদিকে, রাজ্যপাল পাল্টা বলেছেন, সংবিধান তাঁকে আইনসভায় পাস হওয়া আইনগুলিতে সম্মতি স্থগিত রাখার ক্ষমতা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু সরকার ও রাজভবনের মধ্যে বিগত কয়েক বছর থেকে তিক্ততা আরো বেড়ে উঠেছে। গত বছর রাজ্যপালের ‘ঐতিহ্যবাহী ভাষণ’ দেওয়ার সময়ও তা প্রকাশ পায়। রাজ্যপাল প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়া নিয়ে সভা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ঐতিহ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে পরিষদ বৈঠক শুরু হয় রাজ্য সঙ্গীত ‘তামিল থাই ভলথু’ দিয়ে, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় শেষে। রাজ্যপাল রবি এ বিষয়টিকে অপরাধ হিসাবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, জাতীয় সঙ্গীত উভয় সময়েই গাওয়া উচিৎ এবং প্রথমে গাওয়া উচিৎ। এরপরই রাজ্যপাল ‘ঐতিহ্যবাহী ভাষণ’ দিতে অস্বীকার করেন । তাঁর অভিযোগ ছিল, খসড়ায় নানান ভান্তিমূলক দাবির সপক্ষে অনুচ্ছেদ রয়েছে, মিথ্যাচারও করা হয়েছে। ২০২২ সালে বাবাসাহেব আম্বেদকর, পেরিয়ার, সি এন আননদুরাই, ‘দ্রাবিড় মডেল’ ও তামিলনাড়ুর আইন শৃঙ্খলা সম্পর্কিত কিছু বিষয় তাঁর ভাষণে পড়তে অস্বীকার করেছিলেন।
❤ Support Us





