- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ৩০, ২০২৫
জাতীয় জনগণনাতে জাতি-অনুসন্ধান অন্তর্ভুক্ত, বিহার নির্বাচনের আগে ঘোষণা কেন্দ্রের
২০২৩-এর অক্টোবরে কংগ্রেসের সঙ্গে তৎকালীন জোটবদ্ধ রাষ্ট্রীয় জনতা দল প্রধান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার কেন্দ্রকে বিহারে জাতিগত জরিপ চালানোর জন্য চাপ দেন। এই বিষয়ে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কমিশন আগামী জনগণনা কার্যক্রমে জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মোদি সরকার আগামী জাতীয় জনগণনায় জাতিগত ভিত্তিক জরিপ অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। যা ঘিরে এই মূহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গন তোলপাড়। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা কমিশন জনগণনা কার্যক্রমে জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ-পর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৩-এর অক্টোবরে কংগ্রেসের সঙ্গে তৎকালীন জোটবদ্ধ রাষ্ট্রীয় জনতা দল প্রধান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার কেন্দ্রকে বিহারে জাতিগত জরিপ চালানোর জন্য চাপ দেন। গত কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে ২৪-এর লোকসভা নিবার্চনের আগে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অস্ত্র হিসাবে জাতি গণনার দাবি জানিয়ে আসছিল কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, ‘মন্ত্রিসভা কমিশন আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী জনগণনায় জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। জাতিগত জরিপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বৈষ্ণব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, বিশেষ করে ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, ‘ওঁরা রাজনৈতিক স্বার্থে এই জাতিগত গণনা ব্যবহার করতে চাইছে। কিছু রাজ্য ইতিমধ্যে জাতিগত জরিপ পরিচালনা করেছে। কিছু রাজ্য নিরপেক্ষভাবে সেটি করেছে, আবার কিছু রাজ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, অস্বচ্ছভাবে এটি করেছে। ‘ তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরনের জরিপ সমাজে বিশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্পর্কে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। রাজনীতির কারণে যাতে সামাজিক সম্পর্ক বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য জনগণনায় রাজ্য জরিপের বদলে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যাতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। এটি সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।’ আগামী বছর এই গণনার কাজ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দেশে জনগণনার কাজ স্থগিত হয়ে গেছিল। এবার নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আগামী জনগণনায় জাতিগত গণনার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে চলেছে। বিরোধী দলগুলোর তরফে বারবার বলা হয়েছে, জাতি-ভিত্তিক জনগণনা সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রকল্পের কার্যকরী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। উল্লেখ্য, বিহার প্রথম রাজ্য হিসেবে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপে দেখা যায়, রাজ্যের ৩৬ শতাংশ জনগণ অত্যন্ত পশ্চাৎপদ শ্রেণির, ২৭.১ শতাংশ জনগণ পশ্চাৎপদ শ্রেণির, ১৯.৭ শতাংশ জনগণ তফসিলি জাতি এবং ১.৭ শতাংশ জনগণ তফসিলি উপজাতির। এ তথ্য সামনে আসার পর, বিরোধী দলগুলি জাতিগত জরিপের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলতে শুরু করে। গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে যা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বিহার সরকারের ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ কোটার আদেশ নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিজেপির এই সিদ্ধান্ত মাস্টারস্ট্রোক হিসাবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
❤ Support Us





