- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ১১, ২০২৩
নিয়োগ দুর্নীতিতে তেজস্বীকে ইডির শমন। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে গরহাজির উপমুখ্যমন্ত্রী
বিরোধী কন্ঠ রোধের গৈরিক প্রচেষ্টা, অভিযোগ কংগ্রেসের
জমির বিনিময়ে চাকরি কেলেঙ্কারিতে জেরবার বিহারের শাসক দল আরজেডি। শনিবার তেজস্বী যাদবকে শমন পাঠায় সিবিআই। কিন্তু গর্ভবতী স্ত্রীর অসুসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজির হলেন না বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী। অবশ্য কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো এই প্রথম নয়। ৪ ফেব্রুয়ারি ডাকা হলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। তাই এ ব্যপারে বিস্তারিত জন্য তাঁকে আবার তলব করলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিকেরা।
শুক্রবার দিল্লিতে তেজস্বী যাদবের বাসভবনে তাঁর স্ত্রী রাজশ্রীকে টানা ১১ ঘন্টা বসিয়ে রেখে জেরা করে ইডি। একই দিনে রাজধানীতে ও বিহারে যাদব পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সংবাদ সংস্থার খবর, দীর্ঘক্ষণ জেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন লালুর পুত্রবধূ। তাই আপাতৎ ইডির দফতরে হাজিরা দিচ্ছেন না বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী। ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই অভিযানের দরুণ নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা, ৫৪০ গ্রাম সোনা এবং ১.৫ কেজি সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার চাকরি দুর্নীতি সম্পর্কে কারাগারে বন্দী লালু প্রসাদকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। পরের তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবীর বাসভবনে হানা দেন সিবিআই আধিকারিকরা। সেখানেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা লালু ও তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী ও আরও ১৪ জনের বিরুধে দুর্নীতি দমন মামলায় অভিযোগ দায়ের করেছে। ১৫ মার্চ সে মামলার শুনানি হওয়ার কথা। এই জিজ্ঞসাবাদের সূত্র ধরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি।
বিরোধীরা শিবিরের অভিযোগ, দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে মোদি সরকার। বিরোধী কণ্ঠকে রোধ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সুকৌশলে প্রয়োগ করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে টুইট বার্তায় বলেছেন, পলাতকরা যখন দেশ থেকে কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছিল তখন মোদি সরকারের সংস্থাগুলো কোথায় ছিল? মোদীর ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’-এর সম্পদ যখন আকাশছোঁয়া তখন কেন তদন্ত হয় না? জনগণ এই স্বৈরাচারের যোগ্য জবাব দেবে! কারাগারে বন্দী লালু প্রসাদ যাদবও জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করা হচ্ছে। পুত্র তেজস্বী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, এটা এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার যে, নিজেদের রাজনৈতিক বিরোধীদের শায়েস্তা করতে তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি কিন্তু যাঁরা বিজেপির পক্ষে রয়েছে তাদেরকে সাহায্য করছে গেরুয়া শিবির।
২০০৪ থেকে ২০০৯ সালে লালু প্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালে গ্রুপ ডি নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। অভিযোগ, চাকরি প্রার্থীরদের কাছে থকে জমির বিনিময়ে তাঁদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। শুধুমাত্র লালু ও তাঁর পরিবার নয় এ কে ইনফো সিস্টেম নামক একটি কোম্পানির নামের জমির মালিকানা হস্তান্তরিত হয়। এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সক্রিয় হয় সিবিআই ও ইডি। এখনও পর্যন্ত এ মামলায় ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত থাকলে আরও অনেক নাম বেরিয়ে আসতে পারে।
❤ Support Us





