- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- এপ্রিল ২৬, ২০২৫
অশোকনগর নাট্যমুখের রজতজয়ন্তী, মঞ্চে বছরভর থিয়েটারের অভি-মুখ
দেখতে দেখতে ২৫ বছর পাড় করেছে বাংলা নাট্য জগতের অনন্য বিস্ময় ‘অশোকনগর নাট্যমুখ’। নাট্যদলের রজতজয়ন্তী পালিত হচ্ছে সাড়ম্বর আর নিবিড় ছোঁয়ায়। সদা কর্মমুখর কর্মশালায় বিবিধ উদ্যোগ। অশোক নগর নাট্যমুখের নিজস্ব শিল্প উৎকর্ষ কেন্দ্র ‘অমল আলো’ য় আগামী ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ বিকেল ৫ টা থেকে শুরু হচ্ছে, ‘বাংলা থিয়েটারের অভিমুখ’ শিরোনামে নিয়মিত থিয়েটারের আসর।

পঁচিশ বছরের নাট্যযাত্রা! কেবল সংখ্যা নয়, এ এক জীবন, এক সংগ্রাম, এক ভালোবাসা, ঘাত-প্রতিঘাতের নাগরিক উপাখ্যান। বাংলা নাট্য জগতের অনন্য বিস্ময় ‘অশোকনগর নাট্যমুখ’। নাট্যদলের রজতজয়ন্তী পালিত হচ্ছে সাড়ম্বর আর নিবিড় ছোঁয়ায়। আগামী ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ বিকেল ৫ টা থেকে শুরু হচ্ছে, ‘বাংলা থিয়েটারের অভিমুখ’ শিরোনামে নিয়মিত থিয়েটারের আসর, চলবে বছর জুড়ে। অভিনয়ে, আবেশে, শিল্পভাসায়, নাট্যপ্রেমে উদযাপনে সাক্ষী থাকবেন বঙ্গবাসী নাটক প্রেমিক-প্রেমিকারা।

রজতজয়ন্তীর বিশেষ বছরে নাট্যমুখ আয়োজন করেছে এক অভিনব ধারাবাহিক থিয়েটার উৎসব–‘বাংলা থিয়েটারের অভিমুখ’। কেন এ নামকরণ? অশোকনগর নাট্যমুখের কর্ণধার, অভি চক্রবর্তী’র ধারাবাহিক কাজগুলোকে একত্র করাবর নরম অথচ সুতীক্ষ্ণ প্রয়াস। এ আয়োজন কেবল মঞ্চাভিনয়ের একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং থিয়েটার চর্চার এক চলমান পথচলা, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে নাটকের ভাবনা, ভাষা আর বয়ান। বাংলা থিয়েটারে বয়সে প্রবীণ, সমবয়সী আর নবীন কিছু নাট্যদল, যাঁদের সাথে কোনো না কোনোভাবে জুড়ে আছে অশোকনগর নাট্যমুখ অথবা অভি চক্রবর্তীর স্পর্শ। কেউ অভি’র উপন্যাস থেকে থিয়েটার করছেন, কেউ বা সরাসরি অভির লেখা নাটক করছেন, কেউ অভির তৈরি দৃশ্যকল্পে আঁটিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের নাট্যভাবনা কিছু দল অভি’র নির্দেশনার নাটকও করছেন। সব মিলিয়ে এই বিপুল আয়োজন। ‘অভিমুখ’ হয়ে উঠবে এক প্যানোরামিক ভিউ– বর্তমান বাংলা থিয়েটারের একটি বহুমাত্রিক প্রতিচ্ছবি।

অভি জানিয়েছেন, ‘বছরভোর নিজের দল ছাড়াও, অনেক দলে নাটক নির্দেশনা দেওয়া, নাটক লেখা বা মঞ্চ-আলো- আবহের কিছু কাজ করে থাকি। সেসব কাজগুলোকে একত্র করেই এই নিয়মিত নাট্যচর্চা তথা নাট্যপরিবেশনার আসর বসছে।
অশোকনগর নাট্যমুখের ‘ভেমুলার রামায়ণ’, ‘নালক’, ‘হাউ মাচ ইজ ইওর আয়রণ’, ‘বহে বিনোদিনী’, ‘আবার বাঞ্ছা’ যেমন থাকবে তেমনই কসবা অর্ঘ, গয়েশপুর সংলাপ, বারাসাত কাল্পিক, টেন্থ প্ল্যানেট, গুজব, বাদপুর আগামী, মহেশতলা অন্বেষক, আসানসোল চর্যাপদ, বাদপুর আগামী, দমদম ব্রাত্যজন, ইন্দ্ররঙ্গ সহ আরো বেশ কিছু দলের নাটক।’ এই প্রতিটি নাটকের সঙ্গেই আমার সংযুক্তি আছে, নয় পরিচালক হিসেবে, নয় নাটককার হিসেবে অথবা দৃশ্যকল্পের সঙ্গতকার হিসেবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করি, আমার থিয়েটার চর্চা যেহেতু মফস্বলে, তাই আমার কাজও তেমন উত্তর থেকে দক্ষিণে সর্বত্র বিরাজমান।’ যদিও ‘ছয় অভিনয়’ শিরোনামে ২০১৬ য় এমন একটি আয়োজন করেছিলেন তারা, যেখানে অভি পরিচালিত ছটি নাটক তিনদিনে মঞ্চস্থ হয়েছিল শহরের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। এবার নাটক প্রদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে থাকবে অভি লিখিত উপন্যাস, নাটক এবং গদ্য, পদ্য ও প্রবন্ধের বইয়ের সংকলন। প্রকাশিত হচ্ছে নানান গুণি নাট্যজনের সমন্বয়ে উদ্দালক ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় নাট্যমুখের কাজ সংক্রান্ত এক্টি বিশেষ গ্রন্থ, প্রকাশ করছেন সৃষ্টিসুখ প্রকাশনা।
উল্লেখ করতেই হয়, অশোক নগর নাট্যমুখের ‘অমল আলো’ বর্তমান নাট্যজগতে এক আশ্রয়, এক প্রতিজ্ঞার নাম। করোনার অভিঘাতে যখন বাংলার থিয়েটার জীবন প্রায় স্তব্ধ, ঠিক তখনই ২০২০ সালে শীলা চক্রবর্তী নিজের জমি দান করে তৈরি করেন বাংলা নাটকের নিজস্ব ঘর, নিজস্ব আশ্রম। ‘অমল আলো’ রূপকের নাম, অন্ধকার সময়ে একটুকরো নীর, মস্ত এক আলো। দরমার বেড়ায় ঘেরা, কিন্তু স্বপ্নে আকাশছোঁয়া। এভাবেই পথচলা। সময়ের সঙ্গে, মানুষের ভালবাসা আর পরিশ্রমে বদলে গেছে চেহারা ২০২৪-এ নতুন রূপ, কুড়ি ফিট উঁচু, পঁচিশ ফিট চওড়া স্থাপনা। চেহারা বদলেছে, তবু বদলায়নি প্রত্যয়, বদলায়নি নাটকের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। নাট্যদলের রজতজয়ন্তীর বিশেষ মুহূর্তে ভারতীয় থিয়েটারের জ্ঞানপীঠ, শ্রদ্ধেয় শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সুচারু ভঙ্গীমায় বলেছিলেন, ‘অমল আলো’ আর ‘নাট্যমুখ’ —’যেখানে মুক্ত আলো খোলা, সেখানে স্বাধীনতা জাগে। সেইখানেই থিয়েটার বাঁচে।’
❤ Support Us






