Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫

ইরাকে আটকে বাংলার ১২ শ্রমিক, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পরিবার, তৎপর বিদেশ মন্ত্রক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইরাকে আটকে বাংলার ১২ শ্রমিক, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পরিবার, তৎপর বিদেশ মন্ত্রক

ইরাকের বাগদাদে একটি বেসরকারি সংস্থার কাজে গিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস ধরে আটকে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ১২ জন পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তাঁদের দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে মিলছে না বেতন, খাওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, অসুস্থ হলেও মিলছে না চিকিৎসা। অবশেষে পরিবারের আর্জি ও শ্রমিকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও বিদেশ মন্ত্রক। শুরু হয়েছে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া।

নামখানা, কাকদ্বীপ, উস্থি ও পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকার ওই ১২ জন শ্রমিক ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরাকের উদ্দেশ্যে রওনা হন। স্থানীয় এক এজেন্টের মাধ্যমে তাঁরা বাগদাদের একটি নির্মাণ সংস্থায় কাজ পেয়েছিলেন। ২ বছরের চুক্তি এবং ততদিনের ভিসা—সবই নিয়মমাফিক ছিল। কিন্তু ২০২৫-এর জানুয়ারিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তাঁদের দেশে ফেরার অনুমতি মেলেনি। উল্টে, বেতন ছাড়া কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। শ্রমিকদের পরিবারের বক্তব্য, আটকে থাকা অবস্থাতেই একাধিকবার তাঁরা দেশে ফেরার অনুরোধ করেছেন সংস্থার কাছে। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। উলটে, বাড়ি ফেরার কথা তুললেই শুরু হয় গালিগালাজ, এমনকি মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

নামখানার বাসিন্দা, আটকে পড়া শ্রমিক শেখ হামিদুরের স্ত্রী জাসমিনা বিবি বলেছেন, ‘প্রায় ৮ মাস হয়ে গেল, স্বামী দেশে ফিরতে পারেননি। ওঁকে নাকি ঠিক মতো খেতেও দেওয়া হচ্ছে না। অসুখ হলেও চিকিৎসা করানো হচ্ছে না। ফোনে কান্নাকাটি করে। সংসার চলছিল ওর পাঠানো টাকায়, সেটাও বন্ধ। এখন পরিবারের সবার মুখে খাবার জোটানোও দুষ্কর হয়ে উঠেছে।’ একই অবস্থা কাকদ্বীপ, উস্থি ও পূর্ব মেদিনীপুরের শ্রমিকদের পরিবারগুলিরও। ছেলেদের কাছে ফোনে যা শুনছেন, তাতে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে তাঁদের। অবশেষে শ্রমিকদের তরফে একটি ভিডিয়ো বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়, যেখানে তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দেশে ফেরার আর্জি জানান। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। পরিবারগুলি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপরই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে সুন্দরবন পুলিশ জেলা প্রশাসন। এক আধিকারিক জানান, ‘বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রককে জানানো হয়েছে।’

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভিডিয়োর ভিত্তিতে দিল্লিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরাকে ভারতীয় দূতাবাস শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল। ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন। শ্রমিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে, সংস্থার তরফে বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে, শ্রমিকদের পরিবারগুলির দাবি, শুধু প্রিয়জনদের বাড়ি ফেরা সুনিশ্চিত করা নয়, এই প্রতারণার পিছনে যে এজেন্ট বা সংস্থা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হোক। স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ‘শ্রমিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে রাজ্য ও কেন্দ্র সমন্বয়ে কাজ করছে। বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আরো অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ঘটনা সামনে আসতে প্রশ্ন উঠছে, শুধু এই ১২ জন নয়, পবিদেশে কাজ করতে গিয়ে আরো কত বাঙালি শ্রমিক এমন দুর্দশার মুখে পড়েছেন, যাঁদের খবর বাইরে আসেনি? বিদেশে কাজের নামে প্রতারণার শিকার পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা যে আজও অব্যাহত, তা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল এই ঘটনা। প্রশাসনিক স্তরে যেমন পদক্ষেপের তাগিদ রয়েছে, তেমনই সচেতনতার অভাব এবং দালালচক্রের রমরমাও রুখতে হবে বলে মত সমাজকর্মীদের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!