Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • নভেম্বর ১, ২০২৫

নজরুল মঞ্চে বিএলও প্রশিক্ষণে তুলকালাম, ‘নিরাপত্তা না থাকলে কাজ নয়’, হুঁশিয়ারি শিক্ষকদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নজরুল মঞ্চে বিএলও প্রশিক্ষণে তুলকালাম, ‘নিরাপত্তা না থাকলে কাজ নয়’, হুঁশিয়ারি শিক্ষকদের

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বুথ-স্তরের অফিসার বা বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তবে শনিবার নজরুল মঞ্চে যে প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। স্কুলে পড়ানো এবং একসঙ্গে বিএলও হিসেবে কাজ করার চাপের পাশাপাশি নিরাপত্তার অভাব নিয়ে শিক্ষকরা বিক্ষোভ দেখান। কর্তব্যরত শিক্ষকদের অভিযোগ, তাঁরা বিএলও হিসেবে কাজ করতে গেলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের অনুপস্থিত দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট দাবি, বিএলওর কাজ করার সময় তাঁদের ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করা হোক। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে তারা কাজে যোগ দেবে না। শিক্ষা ক্ষেত্রে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে এই অসন্তোষ, নজরুল মঞ্চে প্রশিক্ষণ চলাকালীন চরম আকার ধারণ করে। দুর্গাপুর সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

শনিবারের শিবিরে সকাল ১১টা থেকে প্রথম দফায় চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা ও জোড়াসাঁকো এলাকার বিএলওরা প্রশিক্ষণ নেন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় এন্টালি, শ্যামপুকুর ও কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিএলওদের জন্য ক্লাস হয়। মানিকতলার বিএলওদের জন্য পৃথকভাবে জেসপ বিল্ডিংয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, প্রশিক্ষণ চলাকালীন যে ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে, তাতে কোনো প্রমাণ নেই যা স্কুলে দেখানো যাবে। একজন শিক্ষিকার কথায়, ‘আজ যে ফর্মটি আমাদের দেওয়া হয়েছে, তাতে কিছুই লেখা নেই। আমরা স্কুলে প্রমাণ দিতে পারব না যে আমরা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছি। আগের দিনগুলিতে ঠিকঠাক প্রমাণ দেওয়া হতো। আমাদের দাবি, এমন একটি ফর্ম দেওয়া হোক যাতে আজও আমাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করা যায়।’ অন্য একজন শিক্ষক বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। তবে যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়।’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আর্জি জানিয়েছেন তারা। তবে তা খারিজ করে দিয়েছে কমিশন। এবারে রাজ্যের মোট ৮০,৬৮১ জন বিএলওকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণে অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম, লগ-ইন পদ্ধতি এবং এনুমারেশন ফর্মের খুঁটিনাটি জানানো হচ্ছে। বিএলওদের হাতে পরিচয়পত্রসহ বিশেষ কিট এবং ক্যাপও তুলে দেওয়া হয়েছে।

৪ নভেম্বর থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করবেন বিএলও-রা। এই কাজ ডিসেম্বরের ৪ তারিখ পর্যন্ত চলবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি ভোটারের সঙ্গে তিনবার যোগাযোগ করতে হবে। বিহারে ইতিমধ্যেই ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষ ‘অবৈধ’ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও মৃত বা অন্যত্র নাম থাকা ভোটারদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। ফেরত না আসা ফর্মের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা তৈরি করে তা স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় প্রকাশ করা হবে। ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এই তালিকা দেখানো হবে। যদি ভোটার মনে করেন, তাঁরা ফর্ম পূরণ করেছেন কিন্তু নাম নেই, তাহলে তাদের দাবি বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন বিএলও-দের সঙ্গে কমিশনের তরফে দায়িত্ব পাওয়া দলীয়কর্মীদের নিবিড়ভাবে জুড়ে থাকার। যাতে কোনো ভোটার বাদ না পড়ে তা সুনিশ্চিত করবার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে জোড়াফুল শিবির। তৈরি হয়েছে ‘ওয়াররুম’ এবং সাংগঠনিক টিম।‘এসআইআর’-এর শুরুর দিন, অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে ‘এসআইআর’-এর বিরোধিতায় পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক। এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ই বিভিন্নভাবে বিএলওদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় শিক্ষকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা এবং প্রমাণপত্র না থাকলে তারা কাজ করতে পারবেন না। প্রশিক্ষণ শিবিরের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্যের ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা, সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং ভোটার তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে বড়ো প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!