- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৯, ২০২৬
কালীঘাটের তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডি অভিযান, অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিট অফিসেও পৌঁছল গোয়েন্দারা
মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে পৌঁছল রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এই কার্যালয়ে দুপুরে পৌঁছয় সিআইডি-র একটি বড়ো দল। পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরেও তদন্তকারীরা যান।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়কদের স্বাক্ষর-সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এ অভিযান। তবে কার্যালয়ে পৌঁছেই বাধার মুখে পড়ে তদন্তকারী দল। গেট খুলে বাইরে আসেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ও দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন, তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও সিআইডিকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই।
সিআইডি-র পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয় যে তারা আইনসম্মতভাবেই তল্লাশি চালাতে এসেছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি জরুরি নয়। তদন্তকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে জারি করা নোটিসও শুভাশিসের হাতে তুলে দেন। তবুও তিনি অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন এবং কয়েক দিনের সময় চেয়ে নেন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাদানুবাদ ও আলোচনার পর বিকেল ৪টার কিছু পরে সিআইডি-র দল অবশেষে তৃণমূল কার্যালয়ে প্রবেশ করে। অভিযানে মহিলা পুলিশ, রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কার্যালয়ের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে বৈঠকে তৃণমূল বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানা যায়, তা এই কালীঘাট কার্যালয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে পাঠানো একটি প্রস্তাবিত চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল। সে অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে। তদন্তকারীরা ওই বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কীভাবে সই সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে চান। পাশাপাশি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহের চেষ্টা করছে সিআইডি।
এর আগে গত ৩০ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনেও যায় সিআইডি। তাঁকে ১ জুন হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজির না হয়ে ১৪ দিনের সময় প্রার্থনা করেন। সিআইডি সেই আবেদন মঞ্জুর না করে পুনরায় ১ জুন তাঁর বাড়িতে গিয়ে সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ-সহ নতুন নোটিস দেয়। তবুও সোমবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিআইডি-র সামনে হাজির হননি অভিষেক। এর মধ্যেই তদন্তের অগ্রগতিতে মঙ্গলবার কালীঘাটের তৃণমূল কার্যালয় এবং ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে অভিযান চালায় সিআইডি।
❤ Support Us





