- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৬, ২০২৫
হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল।জলের তোড়ে ভেসে মৃত ৪, নিখোঁজ বহু । উদ্ধার কাজ অব্যাহত
হিমাচল প্রদেশে একাধিক জেলায় হড়পা বান থেকে হঠাৎ বন্যা। কাংগ্রায় মৃত ৪, নিখোঁজ ৬ শ্রমিক, কুলুতে ৯ জন ভেসে গেছে।
উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য শিমলা, মান্ডি, কাংগ্রা, সিরমৌর ও চাম্বা জেলার নদী অববাহিকা ও আশেপাশের এলাকাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে।
বৃহস্পতিবার আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হিমাচলের কাংগ্রা ও কুল্লু জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট হড়পা বানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টির কারণে দুই জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ২০ জন ভেসে গেছে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তবে এর মধ্যে কয়েকজনকে পরে উদ্ধার করা হয়েছে।
কাংগ্রা জেলার খন্যারা গ্রামের কাছে একটি ছড়ায় মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে হড়পা বানের ফলেই এই রকম হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়। এতে ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ছয়জন এখনও নিখোঁজ, এবং চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ১৭০-এর বেশি শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করে আশ্রয় দিয়েছে। বৃহস্পতিবারও উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধার কাজে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। একজন শ্রমিক এখনো বনাঞ্চলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর।
যদিও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা একে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কিছু শ্রমিক অবৈধভাবে খনন ও নদিতটের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করে বসবাস করছিল, এটাই দুর্যোগের কারণ।
কুল্লু জেলার রেহলা বিহাল এলাকায় তিনজন ব্যক্তি তাদের বাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সরানোর চেষ্টা করার সময় বন্যার জলে ভেসে যান এবং এই খবর লেখা পর্যন্ত তাঁরা নিখোঁজই রয়েছেন।
হিমাচল প্রদেশের কাংগ্রার জেলা শাসক হেমরাজ ব্যারওয়া জানান, ঘটনাস্থলে এসডিআরএফ-এর দুটি দল, হোম গার্ডের একটি দল এবং উদ্ধারকাজের জন্য এনডিআরএফকে ডাকা হয়েছে।জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ছয়জন ভেসে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আর একজন শ্রমিককে পাহাড়ের দিকে পালাতে দেখা গেছে; তবে তাঁর খোঁজও পাওয়া যায়নি।
জেলা শাসক আরও জানান, বাকি সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজ এখন তাঁদের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের কেউ কেউ হিমাচলের নুরপুর ও চাম্বা এবং অন্যরা উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। যে ব্যক্তি পাহাড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁকে খুঁজে বের করতে একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে।
বিজেপির জাতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, “এই সংকটের মুহূর্তে দেবভূমির প্রতিটি নাগরিককে সহায়তা করতে বিজেপির প্রতিটি কর্মী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন নিহতদের আত্মার শান্তি দেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে শক্তি প্রদান করেন।”
ধর্মশালার বিজেপি বিধায়ক সুধূর শর্মা বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, “প্রকল্প অঞ্চলটি তার গ্রামের এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বুধবার তিনি একটি ফোন পান যে, জলস্তর হঠাৎ বেড়ে গেছে এবং ১৫-২০ জন ভেসে গেছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, “নদিতটের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শ্রমিকদের বসতি তৈরি করা এবং খারাপ আবহাওয়ার সময় তাদের সেখান থেকে না সরানো হচ্ছে প্রশাসনিক গাফিলতির চূড়ান্ত নমুনা।” তিনি ঘটনার তদন্ত এবং মৃতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানান, প্রকল্পের কাজ বৃষ্টির কারণে স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং শ্রমিকরা সাইটের কাছের অস্থায়ী আশ্রয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন মানুনি খাদ ও পার্শ্ববর্তী ড্রেনগুলোর জল শ্রমিকদের কলোনির দিকে ধেয়ে আসে এবং অনেককে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
কুল্লু জেলার সাইনজের রেহলা বিহাল এলাকায়, যারা বন্যার সময় ঘর থেকে মূল্যবান জিনিস সরাতে গিয়ে ভেসে গেছেন, তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।তিনটি মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা কুল্লু জেলার সাইনজের জীবানাল্লাহ ও রেহলা বিহাল এবং গাডসা এলাকার শিলাগড়ে ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।
কুলু মানালি ও বানজার এলাকাতেও হঠাৎ বন্যার খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানেও উদ্ধার কাজ তৎপরতার সঙ্গে চলছে।
❤ Support Us






