- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- আগস্ট ২৯, ২০২৫
উত্তরাখণ্ডে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টি, চামোলি ও রুদ্রপ্রয়াগে নিখোঁজ ৮, ধ্বংসস্তূপে আটক বহু
আবার প্রকৃতির তাণ্ডব হিমালয়ের কোলঘেঁষা উত্তরাখণ্ডে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রবল বর্ষণের জেরে রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলি জেলায় ঘটল ভয়াবহ বিপর্যয়। ধস নামল একাধিক এলাকায়। বহু পরিবার চাপা পড়েছে ধ্বংসস্তূপে। ভেঙে পড়েছে একাধিক ঘরবাড়ি, বয়ে গিয়েছে গবাদিপশুর আশ্রয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ অন্তত ৮ জন, জখম অনেকেই। নদীর জল ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে। বন্ধ হয়েছে একাধিক সড়ক, উপচে পড়ছে পাহাড়ি নদীগুলির জল।
রুদ্রপ্রয়াগ জেলার বাসুকেদার তহসিল এবং চামোলির দেওয়াল ব্লকের মোপাতা এলাকা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। মোপাতায় জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছেন এক দম্পতি। এখনো পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ মেলেনি। ধসে ভেঙে পড়েছে তাঁদের গোশালাও। সেখানে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি গবাদিপশু চাপা পড়েছে বলে আশঙ্কা। রুদ্রপ্রয়াগ জেলার অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর সঙ্গমস্থলে জলস্তর লাগাতার বাড়ছে। নদীর জল ও পাহাড়ি নালার প্রবল স্রোত গ্রামাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে। কেদারনাথ উপত্যকার লাওয়ারা গ্রামে নদীর তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি সেতু। ডুবে গিয়েছে রুদ্রপ্রয়াগ শহরের হনুমান মন্দির। চেনাগাড়েও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বসতবাড়িতে জল ঢুকে পড়ায় বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ধসের কারণে বন্ধ হয়ে পড়েছে একাধিক সংযোগপথ। যানবাহন আটকে পড়েছে পাহাড়ি রাস্তায়। হালদ্বানি-ভীমতাল সড়ক পুরোপুরি বন্ধ, রানি বাগ সেতুর কাছে ধস নেমে রাস্তায় জমেছে পাথর ও কাদা। ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানান, ‘রুদ্রপ্রয়াগ জেলার বাসুকেদার তহসিলের বাদেথ ডুংগার টোক এবং চামোলি জেলার দেওয়াল এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ধ্বংসাবশেষের নিচে বহু পরিবার আটকে পড়েছেন। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। আমি নিজে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি।’ মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব এবং জেলা শাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রুদ্রপ্রয়াগের জেলাশাসক প্রতীক জৈন জানান, ‘বাসুকেদারে ৪ টি বাড়ি ভেসে গিয়েছে। তবে বাসিন্দাদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া গিয়েছে।’ ভয়াবহ পরিস্থিতির জেরে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি, বাগেশ্বর, হরিদ্বার এবং পিথোরাগড় জেলায়। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনো হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেও চামোলিতে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে চাপা পড়েছিল থারালি বাজার ও তহসিল কমপ্লেক্স। ঘরবাড়ি, অফিস, এমনকি এসডিএম-এর বাসভবন পর্যন্ত ঢেকে যায় ধ্বংসাবশেষে। এদিকে, পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে বৃষ্টির দাপট আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। হিমাচল প্রদেশে ইতিমধ্যেই বন্ধ ৫২৪টি রাস্তা, বিকল ১,২৩০টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফর্মার, জল সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। জম্মু ও কাশ্মীরেও বন্ধ রাখা হয়েছে সব স্কুল। ভারতীয় সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার নামিয়ে শুরু করেছে উদ্ধার অভিযান। প্রশাসনের দাবি, প্রস্তুতি চলছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তবে পাহাড়ের কোলে প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে সে প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে থেকেই যাচ্ছে আশঙ্কা।
❤ Support Us






