Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ২০, ২০২৫

‘বিচারের রায় ফাঁসি হলে মনকে শান্তনা দিতে পারতাম’, আদালতে রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর

রায়ের প্রতিক্রিয়ার,  সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “বিচারক যা শাস্তি দিয়েছেন তা যথেষ্ট কঠিন। মৃত্যুদণ্ড থাকাই উচিত নয়।” অন্যদিকে, বিজেপির তফরে বিচারকের রায়কে মান্যতা দিয়েই বলা হয়েছে, এই ঘটনার পিছনে যারা রয়েছে তাঁদেরও শাস্তি দিতে হবে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘বিচারের রায় ফাঁসি হলে মনকে শান্তনা দিতে পারতাম’, আদালতে রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর

ফাঁসি নয় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনায় একমাত্র দোষী সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন শিয়ালদহ আদালতের প্রধান বিচারপতি অনির্বাণ দাস। সিবিআইয়ের চার্জশিটের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ। আদালত ‘বিরল থেকে বিরলতম’ ঘটনা নয় উল্লেখ করে এই রায় দিয়েছেন। বিচারপতি জানিয়েছেন, যদি এই রায়ে আপনারা অসন্তুষ্ট হন, হাইকোর্ট বা সুপ্রিমকোর্টে যেতে পারেন।
রায় ঘোষণার পর থেকেই অসন্তোষের সুর আইনজীবি মহলে। আইনজীবিদের মতে, যৌন নির্যাতন ও খুনের  ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি কেন দিলেন না বিচারক ! এর পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সিবিআইয়ের গাফিলতি রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রায় অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শুধুমাত্র সঞ্জয় নন এই ঘটনার পিছনে আরো ব্যক্তি আছে বলে তাঁদের দাবি। আদালত ‘বিরল থেকে বিরলতম’ ঘটনা নয়, এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফুটে উঠেছে তাঁদের কথায়। এই নারকীয় ঘটনার পিছনে কারা আছেন, কারা প্রমাণ লোপাট করেছেন সেই সব দোষীকে আইনের আওয়ায় আনতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারী সুরক্ষার প্রশ্ন উঠেছে। ভবিস্যতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি জুনিয়র ডাক্তারদের।

মালদহের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি জানিয়েছেন,  ”আমরা প্রথম দিন থেকে ফাঁসির দাবি করেছিলাম। এখনও তাই করছি। আদালতের রায় নিয়ে কিছু বলব না। আমরা তো তিনটে মামলায় ফাঁসির সাজা ঘোষণা করিয়ে দিয়েছি, ৫৪ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে। এই মামলাও আমাদের হাতে থাকলে অনেক আগেই মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করিয়ে দিতাম। কিন্তু কেসটা আমাদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের নরপিশাচের চরমতম শাস্তি হওয়া উচিত। ফাঁসি হলে মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম।”

এই রায়ের প্রতিক্রিয়ার,  সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “বিচারক যা শাস্তি দিয়েছেন তা যথেষ্ট কঠিন। মৃত্যুদণ্ড থাকাই উচিত নয়।” অন্যদিকে, বিজেপির তফরে বিচারকের রায়কে মান্যতা দিয়েই বলা হয়েছে, এই ঘটনার পিছনে যারা রয়েছে তাঁদেরও শাস্তি দিতে হবে।

সিবিআইয়ের তদন্দের উপর প্রশ্ন উঠছে লাগাতার। নিরযাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকেও আদালতে বলা হয়েছিল,  একা সঞ্জয় রায় নন, এই ঘটনায় আরো যারা যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওয়ায় এনে বিচারের দাবি নাগরিকদের একাংশের। তথ্য প্রমাণ লোপাট সহ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো চার্জশিট দিতে পারে নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের বিবেচনার ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ (ধর্ষণ), ৬৬ (ধর্ষণের জন্য মৃত্যু), ১০৩ (১) (খুন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত  দোষির আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। তাঁর সঙ্গে বিচারক ক্ষতিপূরণ সাহায্যের ঘোষণা করার পরই এজলাসে প্রতিবাদে সরব হন নির্যাতিতার পরিবার ৷ তাঁরা বিচারককে বলেন, “আমরা ক্ষতিপূরণ চাইনি ৷ আমাদের মেয়ের জন্য বিচার চেয়েছি ৷” এরপর বিচারক বলেন, “আমি জানি আমরা ক্ষতিপূরণ চাননি ৷ কিন্তু আইনে যা আছে তাই নির্দেশ দিয়েছি ৷”

রায় শোনার পর দোষী সঞ্জয় রায় দাবি করেছেন, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর পরিবার থেকে বলা হয়েছে, দোষ করলে শাস্তি পেতে হবে । কিন্তু এই ঘটনায় নানান প্রশ্নের উত্তর তাঁরা পান নি। নিম্ন আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বা সুপ্রিমকোর্টে যেতে পারে এই মামলা। অন্যদিকে আজকের রায় ঘোষণার আগেই গত সপ্তাহে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। সঠিক তদন্ত হলে অন্তত ৫০ জন গ্রেপ্তার হতো- মন্তব্য নিহত তরুণীর পরিবারের।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!