- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ১০, ২০২৫
এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই এনআরসির আশঙ্কা ! ভোটার তালিকা গৈরিকীকরণের অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী
বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির মধ্যেই ভোটার তালিকা গৈরিকীকরণের অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এসআই-এর আড়ালে বিজেপি গোপনে রাজ্যে এনআরসি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই বিজেপি-র কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বলছেন দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ যাবে। এর মানে কি বিজেপি-র পার্টি অফিসে বসেই পরিকল্পনা হচ্ছে, আর কমিশন সেটা স্ট্যাম্প করছে? গণতন্ত্রে নিরপেক্ষতা থাকা উচিত। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে।”
তিনি আরও জানান, “দুই মাসে কীভাবে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা তৈরি হবে? অনেকেই বাইরে আছেন, কেউ বেড়াতে গেছেন, কেউ বন্যায় নথিপত্র হারিয়েছেন—তাঁরা তথ্য দেবেন কীভাবে? যদি বিজেপি-র নির্দেশে নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে সেটা কোনও সম্প্রদায়ের অধিকার হরণের শামিল হবে—সে মতুয়া, রাজবংশী, নেপালি, পাঞ্জাবি, গোর্খা, সংখ্যালঘু বা হিন্দু—যেই হোক না কেন।”
অসমের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমে এনআরসির নামে কত হিন্দুর নাম বাদ গিয়েছে, সবাই জানে। এখন পশ্চিমবঙ্গেও একই খেলা চলছে। এসআইআর নামে ভোট কাটার চক্রান্ত হচ্ছে। এআরসির জন্য নোটিস পাঠানো হচ্ছে বাংলার নাগরিকদের।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “কমিশনের অফিসাররা বিএলওদের ডেকে হুমকি দিচ্ছেন। উৎসবের সময়, জলমগ্ন অবস্থাতেও তাঁদের সার্ভের নামে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনও ফিল্ড সার্ভে নয়, এটা শো-অফ। কমিশনকে বিজেপি-র হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
বিহারে বিজেপি সরকার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ বলে সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করে মমতা বলেন, “বাংলা কিন্তু আলাদা। এখানে নানা সম্প্রদায়ের মানুষ আছেন। এখানে বিজেপি-র সেই খেলা চলবে না।”
পুজোর মধ্যেই নদিয়ার দুই বাসিন্দাকে এনআরসি নোটিস পাঠানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “অসম সরকার কীভাবে বাংলার নাগরিকদের এনআরসি নোটিস পাঠায়? নির্বাচনের সময় কমিশনের আওতায় সবকিছু আসে, কিন্তু এখনও নির্বাচন ঘোষণা হয়নি। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে মমতা বলেন, “আগুন নিয়ে খেলবেন না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলছেন দেড় কোটি নাম বাদ যাবে—তা হলে বলুন, এটা কি চক্রান্ত নয়? জনগণের উন্নয়নের নামে কিছুই করে না ওরা। নির্বাচনের সময়েই শুধু ডেটা ম্যানিপুলেট করে, ভোট লুঠ করে, টাকা বিলায়। দেশের টাকা বিদেশে পাঠিয়ে নিজেদের প্রচার চালায়।”
শেষে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা ঈশ্বরও পারবেন না। বিজেপি মনে করছে জোর করে বাংলা দখল করবে—কখনও পারবে না। বাংলার মানুষ বিশ্বাস করেন না বিজেপিকে। বঞ্চিত করেছেন, প্রকল্প বন্ধ করেছেন, তবু বাংলার মানুষ প্রতিরোধ করবে। আহত বাঘ কিন্তু সুস্থ বাঘের চেয়েও ভয়ঙ্কর।”
❤ Support Us





