Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ৭, ২০২৩

মমতা: রেল দুর্ঘটনার তদন্ত আড়াল করতেই পুরসভায় সিবিআই তল্লাশি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মমতা: রেল দুর্ঘটনার তদন্ত আড়াল করতেই পুরসভায় সিবিআই তল্লাশি

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বালেশ্বরে ট্রেন দুর্ঘটনায় এই রাজ্যের যারা প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের পরিবারের হাতে অর্থ সাহায্য ও পরিবারের একজনকে হোম গার্ডের চাকরি ও আহতদের অর্থ সাহায্য প্রদান করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শালিমার-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। বললেন সিবিআই তদন্ত করে কি হবে? পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআই তল্লাশির সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, রেল দুর্ঘটনার তদন্ত আড়াল করতে আজ সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় সিবিআই ঢুকে পড়েছে। এবার তো এরা বাথরুমে ঢুকে পড়বে। তবে মনে রাখবেন, আগামীদিন ভয়ঙ্কর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আমি অন্য কথা বলতে চাই না। আমি কাউকে বিব্রত করতে চাই না। আমি আজই সকালে মেদিনীপুর থেকে ফিরেছি। কাল আমি ভুবনেশ্বর, ভুবনেশ্বর থেকে কটক, কটক থেকে কালাইকুণ্ডা হয়ে মেদিনীপুর গেছিলাম। আমি আগেও দুর্ঘটনাস্থলে  গেছিলাম। পরশুদিন আমি পিজি হসপিটালেও গেছিলাম। আজ ফিরে এসে এই অনুষ্ঠানে এসেছি। আমি মনে করেছি এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ,  কারণ অনেক সময় হয় কি সবাই বলে দেব দেব, কিন্তু আর দেয় না। টাকাটা পেয়ে গেলে একটা স্টেবিলিটি, এছাড়াও রেলে বিমা করা থাকে। আমরা যেমন গঙ্গা সাগরের সময় ৫ লক্ষ টাকা করে বিমা করে থাকি, রেলেও কেউ মারা গেলে ১০ লক্ষ টাকা করে পায়। এই টাকাটা আপনারা পাবেন যাদের পরিবারের কেউ মারা গিয়েছেন।আহতদেরও দেওয়া হয়। প্লেনে কেউ মারা গেলে ১৫ লক্ষ টাকা সম্ভবত দেওয়া হয়। এখন তো অনেক নিয়ম কানুন বদলেছে, তাই এখন কি হয়েছে আমি জানি না। সকাল থেকে আমি চিন্তা করছি কখন গিয়ে পৌঁছবো। আর কখন গিয়ে মুমূর্ষু মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবো। দেখুন সবার তো সব কিছু করার সাধ্য নেই। যতটুকু সাধ্য, আমরা সবাই যদি মানবিক হই, পাশের বাড়ির লোকেরা, পাড়া প্রতিবেশীরা,আমাদের দলের লোকেদের আমি বলবো এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে। আমাদের দলের থেকেও হেল্প করছে। আমি ভেবে ছিলাম বলবো না, বাধ্য করেছে পরিস্থিতি আমায় এতো বড় একটা ঘটনা, দুর্ঘটনা। কি করে ধামাচাপা দেওয়া যায় তার প্রচেষ্টা। যাদের পরিবারগুলো সব হারিয়েছে। তাঁরা এদের কাছে কৈফিয়ত চায়, যে সত্য তথ্য বেরোক। কেন দুর্ঘটনাটা হলো? কেন এতো জন মারা গেলো? বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। সিবিআই কি করবে? ক্রিমিনাল কেস হলে তো সিবিআই করবে। পুলওয়ামা দেখেননি? তখনকার রাজ্যপাল কি বলে দিয়েছে? আজকেও ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ব্যস্ততা। আসল দুর্ঘটনার তদন্ত হল না ,  সব সাফা হয়ে গেলো। কোনও প্রমাণ নেই। আমি চাই সত্যতা বেরোক। রেল দুর্ঘটনা না করে সকাল সিবিআইকে পাঠিয়ে দিয়েছে দিল্লি।কলকাতার ১৪ থেকে ১৬টা মিউনিসিপালিটিতে ঢুকে গেছে। নগরোন্নয়নে ঢুকে গেছে। এবার কি বাথরুমেও ঢুকবে না কি? জিজ্ঞেস করুন, ওয়াশরুমেও ঢুকবে এখন? ওই টুকুই বাকি আছে। এসব করে এত বড় দুর্ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যায় না। প্রত্যেকটা আত্মার আত্মীয়রা কাঁদছে। আত্মাগুলো কাঁদছে। মনে রাখবেন তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের আপনজনকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আপনজনকে আপনারা ফিরিয়ে দেননি, কেড়ে নিয়েছেন, তারা কোনও দিনও ফিরে আসবে না। কিন্তু সঠিক তদন্ত হোক। মিথ্যা কথা বলে আগুনকে কখনও আগুনে ছাই চাপা দেওয়া যায় না। আর টাকা দয়া করে দিচ্ছেন না। আমিও রেলমন্ত্রী ছিলাম। আমরা ১৫ লক্ষ দিতাম। আপনাদের দায়িত্ব এটা দেওয়া। আমরা বরঞ্চ যেটা করছি সেটা এক্সট্রা করছি, কারণ আমরা মানবিক, রাজ্যের মানুষ আপনারা। আমাদের এখানে ওখানে বিহারেরও ৫০ জন আছে। মেদিনীপুরেও ১৬ জন ছিল। আমি কালকে দেখা করে এসেছি। কটকেও দেখা করে এসেছি। আমার এটুকুই বলার শাস্তি হোক। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চূড়ান্ত শাস্তি হোক। আর এজেন্সীকে দিয়ে আসল ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে কর্পোরেশনে জল আর কল দেখতে গেলে মনে রাখবেন আগামী দিনটা কিন্তু ভয়ঙ্কর।আত্মার আত্মীয়রা উত্তর দেবে। বাংলার সব মানুষ ব্যাথিত, চিন্তিত তারা সকলেই চায় আপনাদের পরিবারের একজন হয়ে আপনাদের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করতে, তারাও দুঃখে আছে। আপনাদের যখন যা দরকার হবে আগামী ৬ মাস পর্যন্ত জেলায় জেলায় নোডাল অফিসার থাকবে। তাদের ফোন নম্বর আপনাদের দিয়ে দেবে। আপনারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ভালো থাকবেন তো বলতে পারি না এই শোকের মধ্যে শুধু এইটুকু বলতে পারি যারা দোষ করেছে ঈশ্বর-আল্লা তাদের বিচার করো।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!