Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ২৮, ২০২৩

বিএসএফ-এর উপর নজরদারি করবে ক্লাব, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের সমালোচনায় বিরোধীরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিএসএফ-এর উপর নজরদারি করবে ক্লাব, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের সমালোচনায় বিরোধীরা

বিএসএফ রাজ্যের সীমান্তে “বাড়াবাড়ি” করছে , গ্রামে ঢুকে অত্যাচার করছে। তাই বিএসএফ-এর এই “বাড়াবাড়ি” ঠেকাতে স্থানীয় ক্লাবগুলিকে সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার প্রশাসনিক বৈঠকে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঠিক এই ভাবেই বিএসএফ-এর “বাড়াবাড়ি”-র সমালোচনা করেছিলেন। বুধবার রাজ্য স্তরের ওই প্রশাসনিক বৈঠক  থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছিলেন, পুলিশকে যেমন গোয়েন্দা-তথ্য সংগ্রহে তৎপর হতে হবে, তেমনই সীমান্তবর্তী এলাকার ক্লাবগুলির মাধ্যমে বিএসএফের বাড়াবাড়ির উপরে নজরদারি চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে গরু কী ভাবে রাজ্যে প্রবেশ করছে তা নিয়েও প্রশ্ন ওই বৈঠকে তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই আবহেই এবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিএসএফ-এর ওপর “নজরদারি”- দায়িত্ব পেল ক্লাবগুলি।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পতাকার সামনে বসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলছেন এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছেন, তা সাংঘাতিক মনোভাবের প্রতিফলন।’

তবে শমীক ভট্টাচার্যের এই সমালোচনাকে নস্যাৎ করে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘ক্লাবের অর্থ স্থানীয় সংগঠন। তারা সমাজেরই অংশ। বিএসএফ নিয়ে ভারতীয় হিসেবে আমরাও গর্বিত। তবে সাম্প্রতিককালে যে সব অভিযোগ উঠেছে, তারই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে কোনও যুদ্ধ ঘোষণা তো হয়নি।’

সম্প্রতি গরু পাচার পশ্চিমবাংলার একটি বহু চর্চিত বিষয়। শাসক দলের নেতা অনুব্রত মণ্ডল, নেতার কন্যা, সিকিউরিটি, হিসাব রক্ষক গরু  পাচার কাণ্ডে  এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে। আর এই গরু পাচার নিয়ে শাসকরা যখনই বিএসএফকে দুষছে ঠিক তখনই বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধহীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে গরু পাচারের অভিযোগে সরব হচ্ছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকৃত নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে “ভাইপো” বলে সরাসরি গরু পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত বলে রাজ্য জুড়ে সভা সমিতিতে ভাষণ দিয়ে চলেছেন।

তবে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে ততই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও বারংবার নির্বাচনের আগে বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে দেখা গেছে । তবে এবারই প্রথম  বিএসএফ-এর গতিবিধির ওপর নজরদারির ‘দায়িত্ব’ স্থানীয় ক্লাবগুলিকে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ক্লাব প্রীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাত্রা বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই ক্লাবদের টাকা দেওয়া নিয়ে মামলা হাই কোর্টে পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যে সরকার টাকা নেই বলে সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য  ডিএ দিতে পারে না, সেই সরকার  ক্লাবগুলির পিছনে খরচের টাকা কোথায় পাচ্ছে? বিরোধীরা বলছেন,  রাজনৈতিক স্বার্থে ক্লাবগুলিকে ব্যবহার করার জন্যই  সরকারি টাকা ঢালা হচ্ছে ক্লাবের জন্য। আর এরই মধ্যে এবার বিএসএফ-এর ওপর নজরদারির ‘দায়িত্ব’ পেল ক্লাবগুলি।

 

গত বুধবার নবান্নে যে প্রশাসনিক বৈঠক হয় সেখানে  “কর্মতীর্থ” নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। রাজ্যের সব জেলায় অনেক টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার “কর্মতীর্থ” তৈরি করেছে। তবে সেই “কর্মতীর্থ” অকেজো হয়েই রয়েছে। দোকান, বাজার করার জন্যই এই “কর্মতীর্থ” রাজ্য সরকার গড়ে তুলেছিল। তবে দোকান-ব্যবসা করার জন্য নির্ধারিত এই পরিকাঠামোগুলি লাভজনক জায়গায় গড়ে ওঠেনি বলেই অভিযোগ। তাই দীর্ঘ সময়  ধরে পড়ে থাকা কর্মতীর্থগুলির পরিচালনার ভার এবার এলাকার বিভিন্ন ক্লাবের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব বুধবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। বলা হয়েছে,  বিএসএফ-এর ‘বাড়বাড়ন্ত’ ঠেকাতে স্থানীয় ক্লাবগুলি নজরদারি চালাবে। প্রথম থেকেই তৃণমূল অভিযোগ করে আসছে , বিএসএফ-কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এই আবহেই কী তাহলে  সীমান্তবর্তী ক্লাবগুলিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএসএফ-এর উপর নজরদারি চালানোর পরামর্শ দিলেন? উঠছে সেই প্রশ্নও।

নবান্নের বুধবারের প্রশসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, গ্রামে গ্রামে ঢুকে অত্যাচার চালাচ্ছে বিএসএফ। এই আবহে মমতার আশঙ্কা, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গ্রামে ঢুকে বিএসএফ-এর ‘তৎপরতা’ বাড়তেই পারে। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই  মমতার নির্দেশ, বিএসএফ-এর টহলদারি সংক্রান্ত তথ্য যেন স্থানীয় থানার ওসি-র কাছে পৌঁছে যায়। তিনি ওই বৈঠকে আরও বলেন,  রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পুলিশের দায়িত্ব, বিএসএফ-এর নয়। এই আবহে পুলিশ কর্তাদের পদক্ষেপ করতেও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। গোয়েন্দাদের সক্রিয় হতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বিএসএফ-এর ক্লাবগুলি কীভাবে এই ‘নজরদারি’ চালাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাবগুলিগুলি কী ভাবে বিএসএফ-এর উপর নজরদারি চালাবে সরকারি স্তরে আলোচনার মাধ্যমেই তার একটা নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরী হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!