- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ডিসেম্বর ৩০, ২০২৪
” কোনো দুষ্টু লোকের খপ্পরে পড়বেন না।” সন্দেশখালির মহিলাদের বার্তা, নারীদের ক্ষমতায়নে বাড়তি গুরুত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। ব্রিজ তৈরির বরাদ্দ নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা
কথা রেখে আজ সন্দেশখালিতে সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মহিলাদের উদ্দেশ্যে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বললেন – ” কোনো দুষ্টু লোকের খপ্পরে পড়বেন না।” স্বল্পভাষণে সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে বেশি কথা না বললেও– বিজেপি ও সিপিএম- কে বিঁধলেন তিনি। ঝালিয়ে দিলেন লক্ষ্মীশ্রী, কন্যাশ্রী, বিধবাভাতা, স্টুডেন ক্রেডিটকার্ড সহ রাজ্যর একাধিক ভাতা এবং স্কিমের কথা।
বছর শেষে সন্দেশখালির ঋষি অরবিন্দ মিশনের মাঠে প্রশাসনিক ও সরকারি পরিষেবা প্রদানের সভা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সভা ঘিরে ছিল তুমুল আগ্রহ। সংবাদের শিরোনামে বারবার উঠে এসেছিল যে এলাকা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে নারীদের উপর অত্যাচার, যৌন নির্যাতন, রেশন দুর্নীতি, ঘর পুড়িয়ে দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। জোট বেঁধে প্রতিবাদে নেমেছিলেন এলাকার মহিলারা। ভয়ংকর পরিস্থিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি।
নাটকীয় টালবাহানার পরে গ্রেফতার হয়েছিলেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শেখ শাহাজাহান ও তাঁর দুই সঙ্গী। এই ঘটনায় বিরোধী দলগুলির সক্রিয়তা দেখা গেছিল । মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিলেন তারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা গেছিল সন্দেশখালির কথা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ওই কনভেনশনে বলেছিলেন, “আমাদের দেশের একটি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। কী হচ্ছে সেখানে ! নারীদের সঙ্গে কী ধরনের অত্যাচার করা হচ্ছে ! তাঁদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।”যদিও প্রথম থেকে নারী নির্যাতনের বিষয়টি সাজানো বলে দাবি করে তৃণমূল। লোকসভা নির্বাচনে এই ঘটনার প্রভাব উত্তর চব্বিশ পরগণাতে সেভাবে পড়তে দেখা যায়নি। লোকসভা ভোটে বসিরহাট কেন্দ্রে জয়ী হয় তৃণমূল। যদিও সন্দেশখালি বিধানসভায় অল্প ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বিজেপি। ২৬ এ বিধানসভা নির্বাচন, এই আবহে মমতার সন্দেশখালি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মোড়া এদিনের সন্দেশখালির সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। মহিলাদের ‘দুষ্টু খপ্পরে না পড়বার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি সন্দেশখালির ঘটনার প্রসঙ্গ না তুললেও, তিনি বললেন, “টাকার অঙ্কে খেলা হয়েছে। মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু মিথ্যা বেশি দিন চলে না।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ভুলে গেছি সব ।আমি চাই সন্দেশখালির ছেলেমেয়েরা এগিয়ে যাক।” সকলকে মিলেমিশের থাকবার বার্তা দিলেন। রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়েছেন তিনি। সরকারি প্রকল্প আবার জন্য কাউকে টাকা না দেবার আর্জিও জানিয়েছেন। আবাসযোজনা ১২ লক্ষ্য ঘর তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা ইতিমধ্যে দিয়েছে রাজ্যসরকার, আরো ১৬ লক্ষ্য আবাসযোজনার ঘর তৈরি করবে সরকার। লক্ষ্মীশ্রী প্রকল্পের মেয়াদ ৬০ বছর থেকে বাড়িয়ে যতদিন জীবিত থাকবেন কোনো মহিলা তিনি পাবেন ও বিধবা ভাতার জন্য ছুটোছুটি করতে হবে না বলে এদিন সভা মঞ্চ থেকে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। কৃষকরা পাবেন কৃষকবন্ধু স্কিমের লাভ, ৬০ বছরের মধ্যে কোনো কৃষক মারা গেলে তাঁর পরিবার ২ লক্ষ টাঁকা পাবে। উল্লেখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মেয়েদের পড়াশোনার উপর জোর দেবার কথা বলবারা পাশাপাশি সেলফ হেল্প প্রকল্পের কাজে – ছাত্রছাত্রীদের জন্য জুতো ড্রেস তৈরি করবার পাশাপাশি সন্দেশখালিতে সন্দেশের হাব তৈরি করতে চান তিনি। তার ভাষণে উঠে এলো ইছামতীর নদীর উপর মুড়িয়ালি ব্রিজের কথা, বনবীবি ব্রিজ্রের কথা, জেটিঘাঠ উন্নয়নের কথা। কেন্দ্রকে বিঁধেলেন – “আরো ব্রিজ বানাতে চাই কিন্তু কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না।” সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতালে বেড বারানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন, প্রসুতি পরিকাঠামো গঠন করার কথাও বললেন।
সন্দেশখালির স্বাভাবিক জীবন শান্তির, সেটাকে টিকিয়ে রেখে আগামীতে এগিয়ে যেতে হবে। দাঙ্গা, হিংসা, কুৎসা অপপ্রচার আটকাতে হবে। এখানেই বামফ্রন্ট জমানার অত্যাচারের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেছেন– ওরা ভুলে গেছে কত অত্যাচার করেছে, এখন বড়ো বড়ো কথা বলছে।’ সিপিএমকে ‘ নরকঙ্কালের দল, বিসর্জনের দল’ বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’ দিদি যদি কিছু বলে সেটা করবে। সন্দেশখালির প্রতিটা খবর আমার কাছে আসতে কয়েক সেকেন্ড লাগে। হিঙ্গলগঞ্জ, বাদুরিয়া, বসিরহাটে কিছু হলেও তিনি কয়েক সেকেন্ডে জানতে পারবেন। গোটা দেশ যখন বাবাসাহেব ভিমরাও আম্বেদর প্রসঙ্গে উত্তাল, সম্প্রীতির বার্তা দিতে দিয়ে মমতার মুখেও বাবাসাহেবের নাম, উঠে এলো বিরসা মুণ্ডা, বাবা পঞ্চানন, বনবিবির কথা। ঠাকুর-মতুয়া-তফশিলি-হিন্দু-মুসলমানকে মিলেমিশে থাকতে হবে, ‘বাংলা দাঙ্গাবাজদের জায়গা না’।
ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে বারবার কথা বলেছেন আজ মুখ্যমন্ত্রী। সন্দেশখালির ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যতে বি.ডি.ও , আই.পি.এস. ডাক্তার, প্রফেসর হবে, এই আশা তিনি করছেন । ওবিসি সার্টিফিকেটের জটিলতা তাড়াতাড়ি মিটিয়ে চাকরির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলেও জানালেন। ঘোষণা করলেন নতুন বছরে দুয়ারে সরকারের আনুমানিক তারিখ। কলকাতায় ‘স্টার থিয়েটার’ এর নাম বদলে ‘বিনোদিনি থিয়েটার করা হবে নারীর সম্মানের নিরর্শন হিসাবে , এছাড়াও তার মুখে পৌষ পার্বন, নবান্ন, ইতুপূজা, গঙ্গাসাগর মেলার কথা। অর্থাৎ আজ সন্দেশখালিতে স্বল্প ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী তার সুচারু ভঙ্গিমায় ‘সন্দেশখালি ঘটনা’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির চক্রান্ত এবং সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
❤ Support Us





