Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৫, ২০২৫

দার্জিলিংয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে প্রকৃতি বাঁচানোর শপথ মুখ্যমন্ত্রীর। ডিভিসি ও কেন্দ্রকে কড়া বার্তা, চাষিদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দার্জিলিংয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে প্রকৃতি বাঁচানোর শপথ মুখ্যমন্ত্রীর। ডিভিসি ও কেন্দ্রকে কড়া বার্তা, চাষিদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস

উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বৃষ্টি, হড়পা বান ও ধসের জেরে পাহাড়-তরাই জুড়ে দুর্যোগের ছাপ ক্ষতচিহ্নের মতো জ্বলে আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টানা কয়েক দিন ধরে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ দার্জিলিংয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে পাহাড়ে বিপর্যয়ের পরিমাণ, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এবং পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক থেকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—‘কংক্রিটে নয়, প্রকৃতি দিয়েই প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে।’

মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব, পাহাড়ি নদীর পারে লাগাতে হবে ম্যানগ্রোভ ও ভেটিভার গাছ, যাতে প্রাকৃতিকভাবে মাটিক্ষয় ও ভূমিধস রোখা যায়। সুন্দরবনের আদলে পাহাড়েও গড়ে তোলা হবে প্রাকৃতিক বাঁধ। মমতার যুক্তি, ‘গঙ্গাসাগরে যদি ৫ কোটি গাছ লাগানো যায়, তাহলে উত্তরবঙ্গেও কেন নয়? কংক্রিট ৬ মাসেই ভেঙে পড়ে, কিন্তু গাছ লাগালে তা বছরের পর বছর টেকে। জল খরচ করে আর হবে না, এবার স্থায়ী সমাধান দরকার।’ তবে প্রশ্ন উঠেছে, ম্যানগ্রোভ তো নোনা জলে জন্মায়, তা কি পাহাড়ের পরিবেশে টিকবে? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত প্রশাসনিক মহলে।

বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আঙুল তুললেন ড্যাম ভোল্ডিং ও ড্রেজিংয়ের অভাবের দিকে। ডিভিসি-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘২০ বছর ধরে ড্রেজিং হয়নি। মাইথন, পাঞ্চেত, ফারাক্কা, হলদিয়া, সব জায়গায় একই অবস্থা। বর্ষায় জল ছাড়বে, গ্রীষ্মে জল মিলবে না, এ কেমন নীতি? যদি ঠিকমতো কাজ না হয়, তাহলে ড্যাম ভেঙে দিন, নদীকে তার স্বাভাবিক পথে চলতে দিন।’ মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘এই দুর্যোগে ৭০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া। কিন্তু কেন্দ্র এক পয়সাও দেয়নি।’ তিনি জানান, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। মোট ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ে ৮১টি রাস্তা, ১১টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত। ১৭টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৭৫০ জন। প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে, পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থাও করেছে রাজ্য সরকার। মমতা বলেন, ‘রাজ্য প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। দিল্লি সাহায্য না করলেও আমরা উত্তরবঙ্গের পাশে আছি। সাত দিনের মধ্যে দুধিয়ায় অস্থায়ী সেতু তৈরি হয়ে যাবে। রাস্তা-ব্রিজ সবই রাজ্য সরকারই বানাবে।’ ভুটানের জল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভুটান থেকে জল নেমে এসে উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ ক্ষতি করছে। আমাদের এলাকা ভাসিয়ে দেবে, আর ক্ষতিপূরণও দেবে না, এটা কীভাবে হয়?’

অন্যদিকে, কলকাতার সাম্প্রতিক বৃষ্টিজনিত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যুর ঘটনাতেও মুখ্যমন্ত্রী এদিন মুখ খুলেছেন। ঘোষণা করেছেন, ‘১৭ অক্টোবর নিহত ১২ জনের পরিবারের হাতে নিয়োগপত্র ও আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।’ সিইএসসি-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘জমা জলে তার পড়ে থাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ দায় কেউ এড়াতে পারে না।’ বৈঠকে উঠে আসে উত্তরবঙ্গের চাষিদের বিপর্যয় প্রসঙ্গও। ফসল ও জমি নষ্ট হওয়ায় রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই শস্যবিমার কাজ শুরু করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের নাম বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বা ত্রাণ শিবিরে গিয়ে লেখা হচ্ছে। কেউ বাদ পড়বে না। ডিএম, বিডিও, কৃষি দফতর সবাই একসঙ্গে কাজ করছে। চাষিদের কোনও টাকাও লাগবে না, নাম তোলামাত্রই বিমার টাকা দেওয়া হবে।’ শেষে প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘প্রকৃতি ধ্বংস করলে, সে ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নেয়, উত্তরাখণ্ডে যেমন দেখা গিয়েছে। তাই প্রকৃতির হাত ধরেই এবার পাহাড়কে ফেরাতে হবে পুরনো ছন্দে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!