- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৩
রাজ্য মন্ত্রিসভায় রদ বদলের ইঙ্গিত। বিদেশযাত্রার আগে প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি বেশ কিছু মন্ত্রীর দফতর পরিবর্তন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী
আগামী সপ্তাহে বিদেশ যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদেশ যাওয়ার আগে রাজ্য মন্ত্রিসভায় বড় রকমের রদবদল করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে এবং প্রশাসনিক মহলে এখন জোর জল্পনা চলছে। এর আগে গত বছর ৩ অগস্ট শেষ বার রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর থেকে এক বছরে সে ভাবে আর মন্ত্রিসভায় কোনও রদবদল হয়নি। কিন্তু বিদেশযাত্রার আগে প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি বেশ কিছু মন্ত্রীর দফতর পরিবর্তন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিতে পারেন আবার কারও কারও দায়িত্ব কমিয়েও দিতে পারেন।
তবে এই মুহূর্তে রাজ্য মন্ত্রিসভায় নতুন করে কাউকে সংযোজিত করা হচ্ছে না বলেই নবান্ন সূত্রে জানা গেছে। এই ধারণার সম্ভাব্য কারণ হিসাবে সামনে যে যুক্তি আসছে তাতে মনে করা হচ্ছে, নতুন কাউকে মন্ত্রী করতে গেলে তাঁকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মাধ্যমে শপথবাক্য পাঠ করাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সি ভি বোসের এখন যা সম্পর্ক, তাতে এই বিষয়টি ‘অসম্ভব’ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এরই পাশাপাশি অনেকে বলছেন, রাজভবন-নবান্নের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে তো সরকারি কাজ বা নতুন মন্ত্রীর শপথগ্রহণ আটকে থাকে না। যে প্রক্রিয়ার যা ‘আনুষ্ঠানিকতা’, সেটা মেনেই সরকার এবং প্রশাসন চলে। ফলে মুখ্যমন্ত্রী যদি তাঁর মন্ত্রিসভায় নতুন কাউকে মন্ত্রী করে আনতে চান, তা হলে বর্তমান রাজ্যপালের তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করানো একটি আনুষ্ঠানিকতা, তাই এই আনুষ্ঠানিকতা থমকে থাকবে না রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের কারণে।
নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে মানস ভুঁইয়া এবং বাবুল সুপ্রিয়র দফতর বদল হতে পারে। জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে মানসের দায়িত্ব বদল হতে পারে। কয়েক মাস আগে তাঁর হাত থেকে পরিবেশ দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এ বার নবান্ন সূত্রের জল্পনা, মানসের হাত থেকে জলসম্পদ উন্নয়ন দফতরটিও চলে যেতে পারে অন্য কোনও মন্ত্রীর হাতে। সে ক্ষেত্রে মমতা মানসকে অন্য কোন দফতর দেন সেটা সময় বলবে। বাবুলেরও একটি দফতর বদল হতে পারে। এখন বাবুল তথ্যপ্রযুক্তি এবং পর্যটন দফতরের মন্ত্রী। বালিগঞ্জের বিধায়ক বাবুলের অধীন পর্যটন দফতরটি অন্য কাউকে দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভায় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বাবুলের সঙ্গে প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী তথা বর্তমান পর্যটন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান ইন্দ্রনীল সেনের প্রকাশ্যেই বাদানুবাদ হয়েছিল। সর্বসমক্ষে বাবুলের অভিযোগ শুনে ইন্দ্রনীল শুধু বলেছিলেন, তিনি যেন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানান। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই বাবুলকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। বস্তুত, এমনও শোনা যাচ্ছে, বাবুলের হাত থেকে পর্যঠন দফতর নিয়ে সেটি আবার ইন্দ্রনীলকেই দেওয়া হতে পারে। বাবুলের হাতে শুধুই তথ্যপ্রযুক্তি দফতর থাকতে পারে।
বদল হতে পারে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দফতর। বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাতে অচিরাচরিত শক্তি দফতরটিও রয়েছে। তাঁর হাত থেকে সেই দফতরটি অন্য কোনও মন্ত্রীকে দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তার বদলে জ্যোতিপ্রিয় পেতে পারেন অন্য একটি দফতর। জল্পনা এই যে, জ্যোতিপ্রিয়কে আবার খাদ্য দফতরে ফেরানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে অন্য কোনও দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
রাজ্য মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং প্রবীণ রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিদেশ সফরের আগে এই মন্ত্রীদের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী আরও খানিকটা বৃদ্ধি করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে অরূপকে বিদ্যুৎ দফতর নিয়ে আরও বেশি মনোযোগী হতে নির্দেশ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ, নবান্ন সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিদ্যুৎ নিয়ে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ কর্মসূচিতে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। তাই অরূপকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নিজের দফতরেও বাড়তি সময় দিতে বলা হতে পারে। বন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার দায়িত্ব বাড়তে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। বিরবাহার কাজে মুখ্যমন্ত্রী সন্তুষ্ট বলেই প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য।
এদিকে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিত্ব দিয়ে বিধায়কদের আটকে রাখতে চাইছেন, আসলে এখন আর কেউ তৃণমূলে থাকতে চাইছেন না। দল ভেঙে যাওয়ার ভয়ে মাননীয়া এখন বিধায়কদের মন্ত্রী করে দলে আটকে রাখতে চাইছেন।
❤ Support Us






