- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৮, ২০২৫
‘বাংলা-বিরোধী’ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট, মোদির মেট্রো উদ্বোধনে থাকছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা
চলতি সপ্তাহেই বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশাসনিক ও দলীয় একাধিক কর্মসূচী রয়েছে তাঁর। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন মেট্রো উদ্বোধন মঞ্চে মোদির পাশে থাকছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২২ আগস্ট দমদমে ৩টি নতুন মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। রেল সূত্রে খবর, নিয়ম মেনে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাবিরোধী’ কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ নীতিগত কারণে ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বাংলার প্রতি কেন্দ্রের অব্যাহত আর্থিক বঞ্চনা, ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর ভাষাসন্ত্রাস এবং অবদমনের চেষ্টা, ইতিহাস বিকৃতি, সরকারি প্রকল্প ব্যবহার করে বিজেপির রাজনৈতিক মুনাফার লোটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘বাংলা বললেই দেশে আজ বাংলাদেশি ট্যাগ! কেন্দ্রের মদতে বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই অপমানের প্রতিবাদ জানাতে ওই মঞ্চে যাবেন না।’ তৃণমূলের আরো অভিযোগ, যে প্রকল্পগুলির উদ্বোধন হতে চলেছে, তার নকশা তৈরি, অর্থ বরাদ্দ, এবং অনুমোদন হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে। কিন্তু সে কাজ দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত ছিল। এখন নির্বাচনের মুখে এসে প্রকল্প উদ্বোধন করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি।
তবে রেলের মঞ্চে নরেন্দ্র মোদির সভায় সামিল না হলেও মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল এ পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে প্রস্তুত। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, রেলমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের বহর ছিল নজিরবিহীন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, পাহাড় থেকে উপকূল, সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিল তাঁর পরিকল্পিত রেল প্রকল্পের জাল। এখন সেসব প্রকল্পগুলির ফলাফল নিজেদের বলে চালাতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্বরা। তৃণমূলের এক সাংসদ বলেছেন, ‘মমতা ব্যানার্জির হাতেই এ প্রকল্পের জন্ম। আজ সেই প্রকল্পের উদ্বোধন হচ্ছে, অথচ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে শুধু নিয়ম রক্ষার আমন্ত্রণ! বিজেপি ভদ্রতা জানে না।’ জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন মেট্রো রুট ও স্টেশনের আশপাশে তৃণমূল সংগঠনের তরফে প্রচার শুরু হচ্ছে। যেখানে তুলে ধরা হবে রেলমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান, নতুন রুটের পরিকল্পনা, স্টেশনের ডিজাইন, বাজেট প্রস্তাব ইত্যাদি সবকিছুর নথিভুক্ত ইতিহাস। তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে সেই ‘অচেনা ইতিহাস’।
প্রসঙ্গত, এর আগে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রূটের উদ্বোধনে রেলের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণ ঘিরে প্রবল বিতর্ক উঠেছিল। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ ওঠে, ওই অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরে অবশ্য রেল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল,। কিন্তু দুভাগ্যক্রমে তা শেষ মুহূর্তে পৌঁছায়। এরপর তৃণমূলের বক্তব্য ছিল, ওই চিঠি এতটাই দেরিতে এসেছিল যে, মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় উদ্বোধনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এবার তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও একাধিক কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে পরিকল্পিত অপমান ও বিশৃঙ্খলার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সরকারি অনুষ্ঠানেও বিজেপি রাজনৈতিক নাটক সাজিয়েছে বলে অভিযোগ। তাই এ বার আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না বলেই এহেন সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর। সূত্রের খবর, এবারে বিতর্ক এড়াতে, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজে মুখ্যমন্ত্রীকে আগেভাগেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শুধু আমন্ত্রণই নয়, সঙ্গে পাঠানো চিঠিতে ছিল একপ্রকার চমকও— পশ্চিমবঙ্গে কোন কোন রেল প্রকল্পে কাজ হচ্ছে, তার বিস্তারিত তালিকা এবং কেন্দ্রীয় বাজেট বরাদ্দের পরিসংখ্যানও ছিল সেই চিঠিতে। কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেসের সাফ বক্তব্য, ‘সরকারি অনুষ্ঠান আর নির্বাচনী প্রচার এক নয়। বিজেপি সেটা বোঝে না। তাই বারবার মুখ্যমন্ত্রীকে অপমানের মুখে ফেলতে চায়। এবার তা হবে না।’
উল্লেখ্য, ২২ আগস্ট কলকাতা মেট্রোর যে ৩টি নতুন রুটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, সেগুলি হলো— নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর (জয় হিন্দ) রুট, সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান সম্প্রসারিত রুট, নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা। সেদিন, প্রধানমন্ত্রী কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে রওনা দেবেন যশোর রোড মেট্রো স্টেশনের দিকে। সেখান থেকেই হবে উদ্বোধনী যাত্রা। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মেট্রো চড়বেন যশোর রোড থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত। পরে আবার সেই পথেই ফিরবেন যশোর রোডে বলেই রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপর দমদমে একটি প্রশাসনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। রেল মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইয়েলো লাইনের পুরো পথটি মূলত নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত পর্যন্ত পরিকল্পিত হলেও, আপাতত নোয়াপাড়া, যশোহর রোড ও জয়হিন্দ এই ৩ স্টেশনের মধ্যে পরিষেবা চালু হচ্ছে। মাইকেলনগর পর্যন্ত ট্র্যাক বসানো হলেও, সেই পথে এখনই ট্রেন চালানো হবে না। অন্যদিকে, অরেঞ্জ লাইনের নিউগড়িয়া-রুবি সেকশন আগেই চালু হয়েছিল। এবার রুবি থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত নতুন করে যাত্রী পরিষেবা চালু হচ্ছে। ফলে বেলেঘাটা অবধি মিলবে এই রুটের ট্রেন চলাচল। সেক্টর ফাইভ-হাওড়া ময়দান রুটের সম্প্রসারিত পরিষেবা নিয়েও প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
❤ Support Us






